Logo
শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চেয়ারম্যান পুত্র উত্তমের বিচার চাইলেন হতভাগ্য পিতা

প্রকাশিত:রবিবার ০২ মে 2০২1 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৩৪৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ফেসবুক লাইভে এসে চেয়ারম্যান পুত্রের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন এক হতভাগ্য পিতা। সম্প্রতি ৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৮নং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে এসে তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার ছেয়েছেন তার বাবা প্রফুল্ল রঞ্জন মৈত্র। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর বক্তব্য পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মা হাসিনা, তোমার কাছে আমার একটা অনুরোধ। নৌকা নিয়ে নির্বাচিত পিরোজপুরের শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র ইউনিয়ন চষে খাচ্ছে। মা তোমার কাছে আমার অনুরোধ, আমি হলাম তার পিতা। বর্তমানে তার (উত্তম) মা মারা গেছে। সে মারা গেলে উত্তম ঘরে আলমারী ভেঙ্গে ৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমার স্ত্রী সরকারী চাকুরী করতেন, তার ব্যাংকে কাগজপত্রসহ দলিলপত্র নিয়ে গেছে। আমি বর্তমানে অসহায় ভাবে জীবন যাপন করতেছি। আমি এর বিচার চাই।

এছাড়া ওই ইউপি চেয়ারম্যানের উত্তম কুমার মৈত্রর বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়নের ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১১ জন সদস্যই চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের নৈলতলা জ্যোতি প্রকাশ রায়ের বাড়ির কাছে একটি লোহার পুল মেরামত বাবদ ২ লাখ টাকা, খেঁজুরতলা সপ্তগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন লোহার পুল মেরামত বাবদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক বরাদ্দ করে তার কোনো কাজ না করে পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান উত্তম কুমার।

এলজিএসপি-৩ এর আওতায় প্রতি বছর বরাদ্দকৃত ১৮-২০ লাখ টাকার কাজে ইউপি সদস্যদের সংশ্লিষ্ট না করে তাদের নাম ব্যবহার করে নিজের খেয়াল-খুশি মতো প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ওই সব এলজিএসপির কাজে পুরাতন অকেজো মালামাল জোড়া তালি দিয়ে ব্যবহার করেন। গত অর্থ বছরে ৭৮ হাজার টাকায় মধুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে থাকা লোহার পুল মেরামত প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে কোনো কাজ না করে পুরো টাকাটাই উত্তোলন করেন আত্মসাৎ করেন। ইউপি সদস্যদের দেওয়া কাজ বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দের ও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক টিআর-কাবিখা কাজেরও তাকে শতকরা ৩০ ভাগ দিতে হয়। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাতা, হরিজন ভাতা, মৎস্য ভিজিএস কার্যক্রম, দুস্থ সাহায্যের তালিকাসহ গভীর নলকপ প্রদানে স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের কাঁঠালতলা সুনীল সন্যাসীর বাড়ির সামনের লোহার পুলের স্থলে ত্রাণ ও পুর্ণবাসন প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট নির্মাণ করা হলে সেখানে থাকা লোহার ব্রিজটির মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন।

তাছাড়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় শালিশ-বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে আর্থিক বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই শ্রীরামকাঠীর বন্দর সংলগ্ন ভীমকাঠীতে তিন তলা বিশিষ্ট সুদৃশ্য পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার নির্বাচন পরিচালনাকারী একাধিক সদস্যরা জানান, তিনি নির্বাচনের সময় নিজের টাকা না থাকায় অন্যের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য এনে নির্বাচন ওঠাতে হয়েছে।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ৬ বারের চেয়ারম্যান ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মালেক বেপারী। গত ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে পরের বছর ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিলের অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উত্তম কুমার মৈত্র।

ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি খোকন কাজী জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় একাধিক শালিশ-বৈঠক থেকে টাকা গ্রহণ, জমি বিক্রির মধ্যস্থতা করে জমির ক্রেতার কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে তা মালিককে না দিয়ে আত্মসাৎ করার বহু অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। চেয়ারম্যানকে বললে তিনি কোনো কর্ণপাত করেন না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠকের মাধ্যমে মিটমাট হয়েছে।  তার বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ও তার স্ত্রীর চাকরি (এনজিও) থেকে অবসর যাওয়ার টাকা ও বাবার জমি বিক্রির টাকা দিয়ে ওই ভবন তৈরি করা হয়েছে। কেউ আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করলে তাদের টাকা দিয়ে দিবো।

নিউজ ট্যাগ: পিরোজপুর

আরও খবর

আজ কলাপাড়ায় ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন!

বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১




১৩ বছরের মধ্যে চালের মজুদ সর্বনিম্ন

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৯ হাজার টন। আর বেসরকারিভাবে হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টন। এর মধ্যে তলানিতে ঠেকেছে সরকারি মজুদ, রয়েছে মাত্র ৩ লাখ টন যা চাহিদার ২০ শতাংশ

আমদানির পরও চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ চালের মজুদ রয়েছে সরকারি গুদামগুলোতে। যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গুদামে যেখানে চালের মজুদ থাকার কথা কমপক্ষে ১৫ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে রয়েছে মাত্র ৩ লাখ টন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মজুদের ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শিতাই সঙ্কটের প্রধান কারণ। তবে খাদ্যমন্ত্রীর দাবি, আমদানি ব্যবস্থাপনায় দেরি হওয়ায় মজুদ কমেছে।

করোনায় দেশে চালের ঘাটতির আশঙ্কায় গেল বছরের আগস্টেই ২০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সরকারিভাবে ১০ লাখ টন চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু করতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সময় লেগে যায় চার মাস। আর সাড়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে আমদানির অনুমতি দেয়ার বিষয়টি গড়ায় ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৯ হাজার টন। আর বেসরকারিভাবে হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টন। এর মধ্যে তলানিতে ঠেকেছে সরকারি মজুদ, রয়েছে মাত্র ৩ লাখ টন যা চাহিদার ২০ শতাংশ।

আমদানিকারক নিরব বরণ সাহা বলছেন, প্রথমত কারণ ছিল বর্ডার থেকে সময়মতো পণ্য না আসা। একসঙ্গে যদি একদিনে বিভিন্ন বর্ডার থেকে এক লাখ মেট্রিক টন (কম-বেশি) পণ্য প্রবেশ করতো তাহলে স্বাভাবিকভাবে এখানে ধারাটা ঠিক থাকতো।

চালের মজুদ সঙ্কটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গাফিলতিকে দায়ী করছেন কৃষিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা। এদিকে খুচরা বাজারে সব ধরনের চাল বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামে। কেজি প্রতি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, আর চিকন চাল ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও যে ৮ মাস খাদ্য মন্ত্রণালয় বসে থাকলো তার জবাবদিহিতা তো শেষ পর্যন্ত করতে হবে তাদের। বাজার বিশ্লেষক এস এম নাজের হোসেন বলেন, সফল না হওয়ার পেছনে মনে করি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি এবং অদক্ষতা ছিল। তারা যদি বিষয়টিতে সঠিকভাবে মনোযোগ দিতেন তাহলে আজকের এই সঙ্কট হতো না।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, গাড়ি ভাড়া করে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাল আসতেছে। স্থানীয় প্রক্রিয়া হচ্ছে এবং আমদানিকৃত চাল আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে চলে আসবে। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি করব।


আরও খবর

ঈদ মোবারক

শুক্রবার ১৪ মে ২০২১




বিএনপিকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৭৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আলেম-ওলামা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ধরা হচ্ছে না। যারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, ভিডিও ফুটেজ দেখে শুধু তাদের ধরা হচ্ছে। বিএনপি মূলত বিকল্প পথে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সড়ক জোনের বিআরটিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় একথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো আলেম-ওলামা তো নন, বিএনপির কোনো নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করছে।

বিএনপির বিরুদ্ধে অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, বিএনপি এখন তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিএনপি মূলত পেছনের দরজা দিয়ে বিকল্প উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই ক্ষমতায় যেতে হলে বিএনপিকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

করোনাভাইরাসের টিকার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিনও বাংলাদেশ সময়মতো সংগ্রহ করবে ইনশাআল্লাহ। ভ্যাকসিন সংগ্রহে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

নিউজ ট্যাগ: ওবায়দুল কাদের

আরও খবর



বাতাসে করোনা ছড়ানোর শক্তিশালী প্রমাণ পেলেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ১০৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
করোনাভাইরাস সংক্রমণ অধিক হারে ইনডোর বা আবদ্ধ ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার হার বেশি। ঘরের বাইরে বা আউটডোরে এই সংক্রমণের হার কম। ফলে ইনডোরে ভেন্টিলেশন বা বাতাস যাতায়াতের পথ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বলে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে একটি টিম গবেষণা চালিয়ে এর প্রমাণ পেয়েছেন বলে ব্রিটিশ চিকিৎসাবিষয়ক ম্যাগাজিন দ্য ল্যানচেটে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই ওই প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, করোনার এসএআরএস-কোভ-২ বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার এমন সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া গেছে। করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসকরা যেসব প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তা বাতাসের কারণে ব্যর্থ হয়। বাতাসে করোনাভাইরাস ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীরা অনিরাপদ হয়ে পড়েন।

কো-অপারেটিভ ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস (সিআইআরইএস) এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বৌলডারের এক রসায়নবিদ হোসে লুইস জিমেনেজ বলেছেন, বাতাসের করোনাভাইরাস ছড়ানোর বড় ধরনের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন। তবে বড় বড় ড্রপলেট বা হাঁচি কাশির যেসব বিন্দু আকারে জলীয়বাষ্প বেরিয়ে যায়, তার মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়ানোর পক্ষে প্রমাণ কম।

তিনি আরও দাবি করেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পরার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক নির্ভরশীলতার ওপর নির্ভর করে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্য স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক এজেন্সিকে সংক্রমণ বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত বর্ণনা প্রচার করা খুব জরুরি। বিজ্ঞানসম্মত বর্ণনা প্রচার করলে বাতাসের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাতাসের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের তৃষ গ্রিনহাফ। তার নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা পর্যালোচনা শেষে তা প্রকাশ করেছেন এবং বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়, তার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ১০টি পয়েন্ট উত্থাপন করেন। এর শীর্ষে রয়েছে স্কাগিট চোইর প্রাদুর্ভাবের মতো সুপার স্প্রেডার। এতে একজন মাত্র আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ৫৩ জন আক্রান্ত হতে পারে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অভিন্ন কোনো তল স্পর্শ করা বা অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে এই সংক্রমণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

গবেষণা দলের বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ অধিক হারে ইনডোর বা আবদ্ধ ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার হার বেশি। ঘরের বাইরে বা আউটডোরে এই সংক্রমণের হার কম। ফলে ইনডোরে ভেন্টিলেশন বা বাতাস যাতায়াতের পথ খোলা রাখার মাধ্যমে এ সংক্রমণকে অনেকাংশে কমিয়ে রাখা যায়।

গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন, নীরব সংক্রমণে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনভাবে আক্রান্ত হওয়ার শতকরা হার মোট সংক্রমণের মধ্যে শতকরা কমপক্ষে ৪০ ভাগ। বিশ্বজুড়ে বাতাসের মাধ্যমে এই নীরব সংক্রমণ করোনা ছড়িয়ে পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।


আরও খবর



নিষেধাজ্ঞার পরও শিমুলিয়াঘাট থেকে ফেরি ছাড়লো

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে বাংলাবাজার প্রান্ত থেকে ‘কুঞ্জলতা’ নামের একটি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে ভিড়ে গাড়িগুলো নামাতেই পড়িমরি করে লোকজন তাতে উঠে পড়ে। সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে যায়

পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া রুটে আজ শনিবার থেকে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। কিন্তু, সরকারি ঘোষণার তোয়াক্কা না করে করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষজন শনিবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ফলে ঘাট এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের জনসমাগম হয়ে যায়।

কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে বাংলাবাজার প্রান্ত থেকে কুঞ্জলতা নামের একটি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে ভিড়ে গাড়িগুলো নামাতেই পড়িমরি করে লোকজন তাতে উঠে পড়ে। সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে যায়। ফেরিটিকে কিছুক্ষণ মাঝ পদ্মায় থেমে থাকতেও দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক সাফায়াত আহম্মেদ বলেন, মানুষের ঢল দেখে সকাল থেকে কিছু ফেরি মাঝ নদীতে নোঙর করে রাখে। একটি ফেরি ঘাটে ভিড়লে তাতেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে কে কার আগে উঠবে। মাওয়া ঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষজনকে ফিরে যাওয়ার জন্য বুঝিয়ে বলা হচ্ছে।

এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করে কর্তৃপক্ষের ফেরি বন্ধের সিদ্ধান্তে ভোগান্তি হচ্ছে মানুষের। আমরা ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা দিয়ে অনেক কষ্টে এসেছি। আবার ফিরে যেতে হচ্ছে আমাদের।

অন্য একজন বলেন, সাহরির সময় নাকি ফেরি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এই কথা যদি সন্ধ্যায় বলতো তাহলে তো এতগুলো মানুষ এখানে আসতো না। এখন আর আমাদের কিছু করার নেই। তাই বাধ্য হয়েই ফিরে যাচ্ছি।

মানুষের চাপ সামলাতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, মাওয়া চৌরাস্তা ও শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখে টহল চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। এসব টহল চৌকি থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ট্রফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. বিল্লাল।

টিআই মো. বিল্লাল বলেন, শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় কয়েকশ পণ্যবোঝাই ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এতদিন লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল আর আজ শনিবার থেকে দিনের বেলা ফেরি চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই নদী পার হতে পারবেন না কেউ। যাত্রীদের ঘাট এলাকায় ভিড় না করার অনুরোধ করেন তিনি।


আরও খবর

ঈদ মোবারক

শুক্রবার ১৪ মে ২০২১




বিদায়ের দিনই রাবি উপাচার্যের অনিয়ম তদন্তে কমিটি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ মে ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৭১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ দিনে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে এই নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ মে) দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি।

এর আগে এই নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুস সালামকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য। তার স্থলে পরিষদ সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন-উর-রশিদকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দায়িত্ব দিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মামুন-উর-রশিদ স্বাক্ষরে ৯ জন শিক্ষক, ২৩ জন সেকশন অফিসার, ২৪ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ৮৫ জন উচ্চ ও নিম্ন সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে নিয়োগকে কেন্দ্র করে এদিন দুপুরে চাকরি প্রত্যাশী মহানগর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়োগের গুঞ্জনে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী এসে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর থাকে।

এই ঘটনায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া-বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চল, হবিবুর হলের সেকশন অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ আরও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। পরে দুপুর সোয়া ২টায় পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান উপাচার্য ভবন ত্যাগ করেন এবং ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। এর আগে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। পরে উপাচার্য ভবনে চাকরি প্রত্যাশীরা প্রবেশ করে নিয়োগপত্র সংগ্রহ করে যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

অব্যাহতির বিষয়ে সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, আমি এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমাকে নানাভাবে অনৈতিক চাপ প্রদান করা হয়েছিল। তাই আমি গত দুই দিন ধরে আত্মগোপনে আছি।

ক্যাম্পাস ত্যাগ করা আগ মুহূর্তে রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি ও নিয়োগ প্রসঙ্গে উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বলেন, রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হয়নি, এটা মিথ্যা কথা। এডহকে নিয়োগের বিষয়টি আপনারা পরে জানতে পারবেন।

নিউজ ট্যাগ: রাবি উপাচার্য

আরও খবর