Logo
শিরোনাম

প্রতারণা করে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন গ্রেপ্তার মশিউর

প্রকাশিত:বুধবার ০২ জুন 2০২1 | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ১১৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মশিউর রহমান খান ওরফে বাবু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে ৯২টি মামলা আছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রেপ্তার মশিউর সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অন্যতম হোতা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

প্রতারণার মাধ্যমে কীভাবে ব্যবসায়ীদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, সে ব্যাপারে সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, গুগলসহ অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে মশিউর রহমানের সহযোগীরা। পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, লবণসহ বিবিধ পণ্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে তার সহযোগীরা যোগাযোগ করে। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের পেশাদারি আচরণে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধরতে পারেন না ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। যেকোনো পণ্য কেনার পর তার ১০ থেকে ৩০ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করতেন মশিউর রহমান। বাকি ৭০ শতাংশ মূল্য চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতেন।

পরে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, মশিউর রহমান রহমান যে চেক দিয়েছেন, সেই হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। এরপর দিনের পর দিন টাকা না দিয়ে নানাভাবে প্রতারিত করেন মশিউর।


আরও খবর



গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই, নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

প্রকাশিত:সোমবার ৩১ মে ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | ৭৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। অতিমারি করোনার লাগাম টানতে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহনের কথা থাকলেও অনেক বাসেই সে নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাদাগাদি করে পরিবহন করা হচ্ছে যাত্রী। তবে নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়তি ৬০ শতাংশ ভাড়া তারা ঠিকই আদায় করছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

সোমবার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, গুলিস্তান ও মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে গণপরিবহনের এমন চিত্র দেখা গেছে।

কিছু কিছু বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে দেখা গেলেও অধিকাংশ বাসে গাদাগাদি করে যাত্রীদের চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেকের মুখে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বাস শ্রমিকদের মধ্যে দেখা যায়নি কোন তৎপরতা। বেশিভাগ বাসচালক ও হেলপাররা ব্যবহার করছেন না মাস্ক। ক্যামেরা দেখলেই শুরু হয় মাস্ক পড়ার তোড়জোড়। এদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হলেও সঙ্গে আদায় করা হয় অতিরিক্ত ভাড়াও।

বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন আব্দুল গণি। প্রতিদিন মিরপুর থেকে গণপরিবহনে করে যাতায়াত করেন মতিঝিলে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনে চলাচলের বিষয়টি শুধুমাত্র খাতা কলমেই আছে। বাসে কোনো সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ন্যূনতম স্যানিটাইজারও দেয়া হচ্ছে না। আমাদের ঘাড়ের ওপর যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। অথচ বেশি ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে।

মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ীগামী খাজাবাবা পরিবহনের বেশ কয়েকজন যাত্রী মাস্ক পড়েননি। কেন পড়েননি জানতে চাইলে তারা বলেন, এতোক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। যে গরম পড়ছে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই একটু মাস্ক খুলেছি।

বাসে কেনো নিয়ম না মেনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিহঙ্গ পরিবহনের হেল্পার নওশাদ আলী বলেন, যারা একই পরিবারের তারাই কেবল দুই সিটে একসঙ্গে বসেছে। এছাড়া অন্য যাত্রীরা আলাদা আলাদা সিটে বসছে।

তবে যাত্রীদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কেউই কারো পরিচিত নন বলে জানান। এসময় প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ওই বাস হেল্পার বলেন, ভাই অফিস টাইম এখন। আমরা কি করবো? যাত্রীরা আমাদের ঠেলে বাসে উঠে যায়। তারা বাসে উঠে গেলে তো আমরা নামায়ে দিতে পারি না।

নিউজ ট্যাগ: গণপরিবহন

আরও খবর



যে সব শর্তে চলবে দূরপাল্লার গণপরিবহন

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৬ জুন ২০২১ | ৭২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে সব ধরনের দূরপাল্লার গণপরিবহন চলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে।

রবিবার (২৩ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

হোটেল-রেস্তোরাঁ ও খাবার দোকান খুলে দেওয়া হবে। তবে আসন সংখ্যার অর্ধেক সেবাগ্রহীতা সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ৮ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। পরে ৪ দফা এই বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। যা শেষ হবে রোববার (২৩ মে) মধ্যরাতে। বিধিনিষেধে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস, লঞ্চ ও রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: জোয়ারে সেন্টমার্টিনে উপড়ে যাচ্ছে গাছপালা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ মে ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ১১৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রবল জোয়ারের পানিতে উপড়ে পড়ছে গাছপালা। ভাঙন ধরেছে জেটির পল্টুনে ও রাস্তাঘাটে। তবে মানুষের জানমাল রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। যেখানে বসবাস করে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ। কিন্তু বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে শঙ্কিত এই দ্বীপের বাসিন্দারা।

দ্বীপের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আংতকে দ্বীপের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আর মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল থেকে বিকৈল পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে। তার চেয়ে বেশি আঘাত হানছে প্রবল জোয়ারের পানি। জোয়ারের পানিতে দ্বীপের পাড়ের গাছপালা উপড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাঙছে রাস্তাঘাট। তাই আমার মতো দ্বীপের সব বাসিন্দাই ভয়ে আছেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, দ্বীপের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার মতো এখনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি সংকেত ৪ নম্বর দেয়, তখন মাইকিং করে লোকজন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপের উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকের অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভাঙছে। আর প্রবল জোয়ারের পানিতে বালিয়াড়িতে থাকা ৫টি ট্রলার ভেঙে গেছে। এছাড়াও প্রবল জোয়ারের পানিতে জেটির পল্টুনটি বিধ্বস্ত হয়েছে। নানা অংশ ভেঙে পড়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া বলেন, দ্বীপে সব মিলিয়ে বাসিন্দা রয়েছে ১০ হাজার ২৬ জন। ইতিমধ্যে দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ মিলে ৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে ৬ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের পানিতে জেটির পল্টুন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সকল ধরনের ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টেকনাফে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০টি অধিক ট্রলার। আর ছোট ট্রলার, নৌকা ও স্পিডবোটসমূহ দ্বীপের উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আশা করি, সবার সমন্বয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলা সম্ভব হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের একটি টিম, রেডক্রিসেন্টের লোকজন ও দ্বীপে দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে। অবস্থা খারাপ হলে প্রয়োজনে দ্বীপের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।


আরও খবর



আপাতত জোটবদ্ধ রাজনীতি নয় : বিএনপি

প্রকাশিত:শনিবার ১২ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ওয়ান-ইলেভেনের শাসকদের বিদায়ের পর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় ঘটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের। এরপর থেকে জোট রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে দলটি। চারদলীয় জোট সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৮ দলীয় জোট গঠন করে বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতায় এসে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল (একাংশ) ১৮ দলীয় জোটে যোগ দিলে এটি ২০ দলে পরিণত হয়। কিন্তু জোট রাজনীতিতে তেমন কোনো ফল ঘরে তুলতে পারেনি বিএনপি, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জোট তাদের জন্য যেন বোঝা হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিক বিবেচনা করে আপাতত জোটবদ্ধ রাজনীতি নয়, এককভাবে চলতে চাইছে বিএনপি। দলটি চলছেও সেভাবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল, সেই স্বপ্ন পুরোটাই ভেস্তে গেছে। বরং এই ঐক্যফ্রন্ট করতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপির দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বন্ধুরাও দূরে সরে গেছে। সেজন্য জোটবদ্ধ পথচলার ক্ষেত্রে এবার ভাবার সময় এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, এ দলের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছিল আদর্শহীন জোট। আর তার মূলনেতা হয়ে গিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। যার রাজনৈতিক জীবনের কোনো সফলতার কথা জানা নেই অনেকেরই। অন্যদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এখন শুধু কিছু টোকাই আর রাজনৈতিক বেপারীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোট থেকে শেখ শওকত হোসেন নিলুর (প্রয়াত) নেতৃত্বাধীন এনপিপি, মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর (প্রয়াত) নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট, জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি বের হয়ে গেলে সংখ্যাতত্ত্ব ঠিক রাখতে গিয়ে যাদের দিয়ে বিএনপি এই দলগুলোর পুনর্জন্ম দিয়েছে, তাদের নেতারা সবাই প্রশ্নবিদ্ধ। এমনকি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক বিবৃতি লেখারও ক্ষমতা নেই তাদের। আবার কেউ মানবপাচারকারী, কেউ পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের সদস্য। অন্যদিকে জোটের প্রধান দল বিএনপির সমালোচনা করায় তাদের পরোক্ষ মদদে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার মধ্যে যে ভাঙন হয়েছে, তাতে জোট আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় এককভাবেই পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এড়িয়ে চলা শুরু করেছে বিএনপির দীর্ঘ সময়ের জোট ২০ দল ও বিগত জাতীয় নির্বাচনকালীন জোট। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারকদের এ সিদ্ধান্তে নিজের সম্মতিও জানিয়ে দিয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

২০ দলীয় জোট শরিক দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, অনেকদিন ধরেই জোটের কোনো কার্যক্রম নেই। নেই কোনো সমন্বয় বা বৈঠকও। অবশ্য বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণেও অন্য সবকিছুর মতো রাজনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সে কারণে জোটের কোনো কর্মকাণ্ড নেই বলা হলেও প্রকৃত অর্থে বিএনপি এককভাবেই চলছে এটা না বোঝার মতো বিষয় নয়।

তিনি আরও বলেন, জোটের প্রধান দল বিএনপি। তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। বিএনপি ডাকলে জোট শরিকরা হাজির হয়, না ডাকলে কোনো কথাও বলতে পারে না।

বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, বহু আগেই জোট ছেড়ে নিজস্ব রাজনীতির দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত ছিল বিএনপির। কারণ, বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এ দল বারবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই বিএনপিকে অন্যের সাহায্য নিয়ে দেশে রাজনীতি করতে হবে না। শুধু নিজেদের রাজনীতিটা করলেই জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অতীতের মতো পাওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টকে বাদ দিতে হবে। এছাড়া জোটের দলগুলো তো নেতাসর্বস্ব। বরং তাদের দল বিলুপ্ত করে দেয়া উচিত। তাদের না আছে জনবল, না আছে জনসমর্থন। দুই জোটের ওপর ভরসা করা নিজেদেরই ক্ষতি। তাই বিএনপিকে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হবে।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, ২০ দলীয় জোট কার্যত অচল। বেশকিছু দিন হয়ে গেল কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই জোটটি অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এটা জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল বিএনপির অনীহা বা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। কিন্তু বিএনপির একলা চলো নীতি বর্তমানে তেমন কোনো দৃশ্যমান সফলতা অর্জন করেছে বলে আমি মনে করি না। যেখানে আজকে এই জালেম সরকারের পতনের জন্য একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার, সে জায়গায় আমরা আজকে থমকে আছি।

তিনি বলেন, বিএনপি তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং জোটকে কার্যকর করার জন্য কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। অদূর ভবিষ্যতেও তাদের জোট নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কি-না, সে ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি, জোটের কয়েকটি দল তাদের আদর্শের বাইরে গিয়েও কিছু দলের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। দুঃখের বিষয়, তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমার কাছে এটাকে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড (দ্বৈত নীতি) বলেই মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জোটের বৈঠক অতি জরুরি এবং আমাদের যে অভিন্ন লক্ষ্য সে ব্যাপারে একটি জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

জোট রাজনীতি থেকে বিএনপি সরে যাচ্ছে কি-না জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এমন কিছু আমাকে কেউ বলেনি। এখানে মন্তব্য করার কিছু নেই।

নিউজ ট্যাগ: বিএনপি

আরও খবর



বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ৬৪৩৪ কোটি টাকা টোল আদায়

প্রকাশিত:রবিবার ০৬ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৯২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৩৪ কোটি তিন লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রবিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৩৪ কোটি তিন লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এ সময়ে সেতুর পরিচালন, রক্ষাণাবেক্ষণ ও ডিএসএল পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে চার হাজার ১০৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মাণ ব্যয় তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আদায়কৃত অর্থ থেকে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ উন্নয়নসহযোগীদের ঋণ পরিরোধ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় অ্যামর্টাইজেশন শিডিউল (Amortization Schedule) অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো থেকে নেওয়া ঋণ ২০৩৪ সালে পরিশোধ হবে।


আরও খবর