
রাজধানীর রামপুরা, মতিঝিল, পল্টন ও শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়-র্যাব। গতকাল বুধবার (৬ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অজ্ঞান ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-৩ এর পুলিশ সুপার বীনা রানী দাস এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার ১৪
জন হলো— মো. মানিক (২৮), মো. হৃদয়
(২০), মো. ওমর ফারুক (২৪), মো. শরিফুল ইসলাম (২২), মো. এনামুল হক (২২), মো. সুজন (২৮),
মো. আশরাফুল ইসলাম (২২), মো. সোহাগ (২০), মো.
রাসেল (২৫), মো. মনির হোসেন (২৪), মো. সুজন মিয়া (২০), মো. বাহারাম (৪৮), সুমন হোসেন
(৪৫) ও হারুন সরদার (৫৫)। তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দুটি কাঁচি, দুটি এন্টিকাটার,
চারটি ব্লেড ও ১২টি বিষাক্ত মলম উদ্ধার করা হয়েছে।
বীনা রানী দাস
বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশন
এলাকায় তারা ঘোরাফেরা করে। সহজ-সরল যাত্রীদের টার্গেট করে ডাব, কোমল পানীয় কিংবা পানির
সঙ্গে বিষাক্ত চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। আবার কখনও বাস ও ট্রেনে যাত্রীদের
পাশে বসে তাদের নাকের কাছে চেতনানাশক ওষুধ ভেজানো রুমাল দিয়ে ধরে যাত্রীদের অজ্ঞান
করে থাকে। বিষাক্ত পানীয় সেবন করার বা বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণ নেওয়ার পর যাত্রী অজ্ঞান
হয়ে পড়লে তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়।
পুলিশ সুপার
আরও জানান, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলি-গলিতে ওত পেতে থাকে।
সুযোগ পাওয়া মাত্রই পথচারী, রিকশাআরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো
অস্ত্র দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা,
লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। তাদের ছিনতাইকাজে
বাধা দিলে নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতে দ্বিধা করে না।
রাজধানীর খিলগাঁও,
মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট
রোড, হাতিরঝিলের নাসিরের টেক, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং পল্টন মোড়,
গোলাপ শাহর মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে,
নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা হতে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা
বেশি ছিল বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।

