Logo
শিরোনাম

রাজস্থানে হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশিত:রবিবার ১৬ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ৩০ অক্টোবর ২০২৩ | ১০০৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভারতের রাজস্থানের একটি গ্রাম ভাদলা। গ্রামটি ছিল বসবাসের অনুপযুক্ত, সুবিধাবঞ্চিত। ২০১৫ সালের দিকে এখানে সৌরপার্ক গড়ে তোলার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। মরুভূমি অঞ্চল হওয়ায় এখানে সূর্যের আলোর কমতি নেই। তাপমাত্রা থাকে ৪৬-৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ১৪ হাজার একর জমিতে অবস্থিত ভাদলা সৌরপার্ক বিশ্বের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এ বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় পরিবারগুলো। তাদের ঘরে পৌঁছেনি এ বিদ্যুতের আলো। 

এক কোটি সৌর প্যানেলের সোলার পার্কটি ২ হাজার ২৪৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন, যা ৪৫ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম। ২০১৮ সালে এ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ভারতের অন্যতম প্রত্যন্ত এ অঞ্চলে বড় ধরনের বিনিয়োগ সুযোগ এনে দেয় বলে জানান ভারতের রাষ্ট্রীয় অর্থায়িত অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থ সংস্থা আইএফঅ্যান্ডএফএসের প্রধান নির্বাহী টিএস কেশব প্রসাদ।

একটা সময় এ অঞ্চলের বেশির ভাগ শিশুই স্কুলে যেত না। নিজেদের ঘিরে বড় কোনো স্বপ্নও দেখত না তারা। তাদের জীবন বাঁধা ছিল পশুপালন আর গৃহস্থ কাজের গণ্ডিতেই। কিন্তু সৌরপার্ক নির্মাণের সময় বেশ হই চই পড়ে যায় চারদিকে। বড় বড় প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তাদের আনাগোনা ও তাদের সংস্পর্শের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ একটু একটু করে পরিচিত হতে থাকে বাইরের জগতের সঙ্গে, যা ইতিবাচক। এ গ্রামের শিশুদের মধ্যে অনেকেই এখন আজ লেখাপড়া শিখে ভাগ্যবদল করতে উৎসাহী। তবে উন্নয়নের বিপরীতে যেমন বঞ্চনা থাকে, ভাদলার অনেক পরিবারও সে বঞ্চনার শিকার। বাড়ির দোরগোড়ায় বিশ্বের বৃহৎ সৌরপার্ক থাকলেও তাদের ঘর আজও অন্ধকারেই নিমজ্জিত। এ গ্রামের অনেকের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। গ্রামের বাসিন্দারা আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। কিন্তু আমাদের আশপাশের এলাকার বেশকিছু গ্রাম আজও বিদ্যুৎবহীন। শুধু এটাই নয়, সৌরপার্কের ১৪ একর জমিই সরকারি। আগে এসব জমিতে স্থানীয়রা তাদের গবাদি পশু চরাতেন, যা তাদের জীবন-জীবিকার মূল উৎস। এখন এ পরিবারগুলো চারণভূমির সংকটে পড়েছে।

ভাদলার বাসিন্দা সরদার খান আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের বেশির ভাগের জীবিকা ছিল গবাদি পশুপালন। তারা সরকারি সব জমি ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন আমাদের গবাদি পশু চরানোর জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। গবাদি পশুর সংখ্যাও কমেছে। আর অল্প কিছু গবাদি পশু রয়েছে আমাদের। সৌরপার্কে গ্রামের অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে সেখানে যে মজুরি তা দিয়ে জীবনধারণ করা দায় বলেও জানান তিনি। তাছাড়া গ্রামের মানুষ তেমন শিক্ষিত না হওয়ায় তাদের এখানে বেশি কাজের সুযোগও নেই।

রাজস্থান রিনিউয়েবল এনার্জি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল ঢাকা অবশ্য গ্রামবাসীর অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা রাজস্থানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করে। তিনি বলেন, আমরা জমির ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কোনো সরকারি অভিযোগ পাইনি। ভাদলা পার্কে ব্যবহূত জমি পুরোটাই তো সরকারি। বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টিও সহজ নয়। ভাদলা সোলার প্লান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎ উচ্চ ভোল্টেজের, যা স্থানীয় গ্রামে সরাসরি সরবরাহ করা যায় না।

ভাদলার মতো এমন গল্প আমাদের চারপাশে কম নয়। কোনো এলাকা ঘিরে কোনো প্রকল্প হলে সবার আগে ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে সুবিধাগুলো পৌঁছানোর কথা। অথচ ভারতের ভাদলা ঠিক বিপরীত ঘটনার কথা বলে। যদিও ভাদলার সৌরপার্ক নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। ভারতের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎ কয়লা পোড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। কিন্তু ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করতে ইচ্ছুক। এজন্য অবশ্য প্রচুর জমিরও প্রয়োজন হবে।


আরও খবর