Logo
শিরোনাম

সাংবাদিককে চার কালেমা পাঠ করিয়ে মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত করান হেফাজত কর্মীরা

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ | ৫৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে দৈনিক সংবাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি সৌরভ হোসেন সিয়াম লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিয়ামের অভিযোগ, সৌরভ নাম বলায় হেফাজত কর্মীরা তাকে মারধরের পর চার কালেমা পাঠ করিয়ে মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করে।

গতকাল রবিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে এসব অভিযোগ করেছেন সিয়াম। তিনি একইসঙ্গে প্রথম আলো বন্ধুসভা নারায়ণগঞ্জের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।

প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা গোলাম রাব্বানী শিমুল বলেন, সৌরভের সঙ্গে আজ এ ঘটনা ঘটেছে। এখন সে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় আছে।

সিয়াম ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রোববার দিনভর সংবাদকর্মীদের প্রতি হিংস্রতা দেখিয়েছে হেফাজতের হরতালে থাকা পিকেটাররা। হেফাজতের হামলার শিকার আমি সৌরভ হোসেন সিয়াম নিজে। তাদের কাছে আমার পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। চার কালেমার দুই কালেমা মুখস্থ বলতে হয়েছে। কয়টা সুরা মুখস্থ তা জানাতে হয়েছে। নামের একটা অংশে সিয়াম (তাদের মতে সৌরভ হিন্দুয়ানী নাম) থাকাতে তাদের স্বস্তি হয়েছে বিশ থেকে বাইশ মিনিট একটা গাছ কাটার করাত কলে অবরুদ্ধ ছিলাম। চারদিকে ঘিরে ছিল দাড়ি-টুপিওয়ালা তৌহিদি জনতা (হ্যাঁ, আমি তাদেরকে এভাবেই চিহ্নিত করতে চাই) প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরতে পেরেছি এটাই অনেক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শরীরে ভয়ানক ব্যথা নিয়ে বিছানায় পড়ে আছি। পাশেই কোনো এক মাহফিল থেকে বলছে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। হ্যাঁ, বোধ হওয়ার পর থেকে এমনটাই শুনে আসছি। তাহলে দুপুরে নারায়ে তাকবীর বলে যারা আমাকে পেটাল তারা কি শান্তির বার্তাবাহক!

সিয়াম বলেন, দুপুরে মাদানীনগর মাদ্রাসার সামনে হেফাজত কর্মীরা যখন বিক্ষোভ করছিলেন, তখন আমি ভিডিওধারণ করতে থাকলে তারা আমাকে ধরে মারধর শুরু করেন। সেসময় তারা আমার নাম জিজ্ঞেস করলে আমি সংক্ষেপে শুধু ডাক নাম সৌরভ বলি। এতেই তারা আমাকে হিন্দু মনে করে ব্যাপক মারধর করেন। কালেমা পাঠ করার পরও ২০ মিনিট আমাকে আটকে রাখেন। অন্য সাংবাদিকরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিউজ ট্যাগ: হেফাজত কর্মী

আরও খবর



হরতাল নয়, দোয়া-বিক্ষোভ কর্মসূচি দিল হেফাজত

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ | ১৩৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। আজ রবিবার পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

হেফাজতে মহাসচিব বলেন, সোমবার দোয়া মাহফিল ও শুক্রবার (২ এপ্রিল) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। হেফাজতে ইসলাম মোদির আগমন প্রত্যাহার করার জন্য কর্মসূচি দিয়েছিল। কিন্তু মোদির আগমনের দিন হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না।

মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, হেলমেট বাহিনী দ্বীনের শত্রু, ইসলামের শত্রু। তারা কেউ হেফাজতের নয়। যারা কালেমা জানে বিশ্বাস করে তারা অন্তত বিজেপিকে ভালবাসতে পারে না।

হেফাজতে ইসলামের হরতাল সর্বাত্মকভাবে পালন করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, হেফাজতের ভবিষ্যত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আহতের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক আমরা চাই না। সরকার দলীয় লোক বাড়ি বাড়ি হামলার হুমকি দিচ্ছে। ২/১ দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে আমিরে হেফাজত বাবুনগরীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা বসে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন, যোগ করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী।


আরও খবর



যেখানেই হেফাজত সেখানেই প্রতিরোধ: হানিফ

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ | ৭৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল তার স্ত্রীর নাম দিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন বলেই সাধারণ মানুষ তাকে ধরেছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা

যেখানেই হেফাজত সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, হেফাজত কর্মীদের নাম ঠিকানা খুঁজে বের করুন।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, যেখানেই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হেফাজত ইসলাম ধর্মের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করবে সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, একজন ধর্ম ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে। তাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। এই বিষয় পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দিতে চাই ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল তার স্ত্রীর নাম দিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন বলেই সাধারণ মানুষ তাকে ধরেছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা যে ভাঙচুর ও নির্যাতন করেছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, যারা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করেছে, মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে। এসব হামলার সঙ্গে যুক্তদের পরিচয় সংগ্রহ করুন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। কিন্তু ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করা, ভাঙচুর করা বরদাস্ত করা হবে না।


আরও খবর



গোবিন্দগঞ্জে বিস্ফোরণে নিহত ৩ : তদন্তে বোমা বিশেষজ্ঞ দল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১ | ৯৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বোমা বিশেষজ্ঞ দল। ঢাকা থেকে আসা ১১ সদস্যের দলটি আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে ওই বাড়িতে তদন্তকাজ শুরু করে। দলটির সদস্যরা জানান, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ঘটনায় আজ বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার কারণ এখন বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে জানা গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

গতকাল বুধবার বিকেলে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে নয়াপাড়া গ্রামে থমথমে অবস্থা দেখা যাচ্ছে। গ্রামবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। গ্রামের বাসিন্দা শাহাজাহান মিয়া বলেন, শান্ত গ্রামটি এখন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ দুতিনজন অপরিচিত ব্যক্তি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বোরহান উদ্দিনের বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির মধ্যে শোরগোল ও বিকট শব্দ শোনা যায়। এ সময় বিস্ফোরণে বোরহান উদ্দিনের একটি ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। এ ঘটনায় নয়াপাড়া গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে বাড়ির মালিক বোরহান উদ্দিন প্রধান (৩৬), একই গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে অহেদুল ইসলাম (৩৫) ও একই উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিড়াডাঙ্গা গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে রানা মিয়া (২৯) নিহত হন। এর মধ্যে বিস্ফোরণে রানা মিয়ার বুক ছিদ্র হয়ে গেছে। তাঁর বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।

নিউজ ট্যাগ: গাইবান্ধা

আরও খবর

কালবৈশাখী ঝড়ে ৫ জনের মৃত্যু

রবিবার ০৪ এপ্রিল ২০২১




করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮০৯

প্রকাশিত:সোমবার ২২ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ | ১৩৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৭২০ জনের।

নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮০৯ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭৮ জনে।

সোমবার (২২ মার্চ) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৫৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ১৫৯ জন।

সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১১৮টি, জিন-এক্সপার্ট ২৯টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৭২টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৬ হাজার ১টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ১১১টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৩০টি।

এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৩৭ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫২ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩০ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, পাঁচ জন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে চার জন। এছাড়া খুলনা ও সিলেট বিভাগে এক জন করে দুই জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৯ জন, বাড়িতে এক জন।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে ২০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাত জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এক জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এক জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এক রয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ১৫৪ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৯১ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন এক লাখ দুই হাজার ৪১৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৯২ হাজার ৩০৩ জন। এখন আইসোলেশনে আছেন ১০ হাজার ১১৬ জন।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে : রেজাউল করিম

প্রকাশিত:রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ | ৩৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরোধীতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা তুল্য অপরাধ শীর্ষক ওয়েবিনারে রাজধানীর বেইলী রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, শহীদজায়া পান্না কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর, দীপক কুমার, আব্দুল হাই, লক্ষ্মী চ্যাটার্জী প্রমুখ ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় শ ম রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সে ঘোষণাটি ১০ এপ্রিল গঠিত স্বাধীন বাংলা সরকার তথা মুজিব নগর সরকার অনুমোদন দেয় এবং এ আলোকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচারের কথা উল্লেখ করা ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণয়নও অনুমোদনের পূর্ব পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্রই ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান। তার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা সরকার। সে সরকারের সঙ্গেই ভারতের মৈত্রী চুক্তি হয়।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভিত্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। এ ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক ও পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এলেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তারা কোন বিতর্ক তোলেন নি। কিন্তু জিয়ার মৃত্যুর পরে তার তৈরি বিএনপিতে স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের সম্পৃক্ত করার পরই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমানের কথিত স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠকে স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বাইরে ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো সুপরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুর কীর্তিকে ছোট করে জিয়াকে বড় বানানোর জঘন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারাই অন্যতম কারণ। স্বাধীনতা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নানা মত ও দলে বিভক্ত হলেও স্বাধীনতাবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে কঠিনভাবে।-যোগ করেন শ ম রেজাউল করিম।

শ ম রেজাউল করিম এ সময় আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যেভাবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিল, স্বাধীনতা পরবর্তীতে তাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও পুনর্গঠনে ভূমিকা না রেখে বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল। সেই সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশী চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে হত্যা করেছিল। এ জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে একাত্তর সালের মতো ঐক্যবদ্ধ হবার তাগিদ দিচ্ছে।

ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যকে কোমলমতি শিশু থেকে শুরু করে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে আমলা ও ব্যবসায়ীদের খপ্পরে রাজনীতি আটকে পড়েছে উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবী করেন।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এ সময় তার বক্তব্যে অবিলম্বে মামুনুল হক ও বাবু নগরীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।


আরও খবর