
এক বছরে তৃতীয়বারের
মতো বন্যার কবলে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর সিডনি। পঞ্চম দিনেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত
থাকায় সেখানকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিডনির
৫০ হাজার মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার বার্তা
সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে
আরও বলা হয়, পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে সিডনির বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন
হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। বর্তমানে কয়েক হাজার মানুষের দিন কাটছে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়,
বিদ্যুৎ সংযোগহীন। গত শনিবার থেকে নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু এলাকায় ৮০০ মিলিমিটার বৃষ্টি
হয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক গড় (প্রায় ৫০০ মিলিমিটার) ছাড়িয়ে গেছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের
প্রিমিয়ার ডমিনিক পেরোটেট বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক
থাকতে বলা হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় এখনও যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে সপ্তাহব্যাপী
ইউরোপ সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানেস। আজ তিনি পেরোটেটের
সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ফেডারেল সরকার বন্যায়
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জরুরি তহবিল সহায়তা পেতে সহায়তা করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগের কর্মীরা পানিতে আটকে পড়া ও আংশিক ডুবে
যাওয়া যানবাহন থেকে লোকজনকে উদ্ধার করেছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা
বলছেন, দেশটিতে বন্যার অর্থনৈতিক প্রভাব ‘যথেষ্ট’ হবে। বন্যার ফলে বেশ কয়েকটি উৎপাদনকারী অঞ্চলের খাদ্য সরবরাহ প্রভাবিত
হবে। পণ্যের দাম বাড়বে। এর প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার বিমা কাউন্সিল বন্যাকে একটি 'উল্লেখযোগ্য
ঘটনা' হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বন্যায় ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ এখনও অজানা। গতকাল
ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় সিডনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

