Logo
শিরোনাম

শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৯ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৯৭জন দেখেছেন

Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ডি এন এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে নিম্নধাপ থেকে উচ্চধাপে বেতন (টাইম স্কেল) পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে জারি করা বে-সরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ভাতার সরকারী অংশ প্রদান এবং জনবল সর্ম্পকিত নির্দেশিকার বিধি ১১ এর উপবিধি ৮ অনুযায়ী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এম পি ওভুক্ত কোন শিক্ষক কর্মচারী চাকরী জীবনে একটি টাইম স্কেল প্রাপ্য হবেন। কোন শিক্ষক টাইম স্কেল (উচ্চ ধাপ বেতনের কোড) পরিবর্তনের যোগ্য হইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্টানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী রেজুলেশন করতে হবে। এরপর অনলাইনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে ।

কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক অচিন্ত্য কুমার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই দুর্নীতি পরায়ন কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজজে সময়ের আগেই টাইম স্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোতামারী ডি এন এস সি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রযোজনীয়তা দেখা দিলে ২৩শে জুন ২০০৪ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ি ২৮শে জুন ২০০৪ ইং সালে আবেদন করেন শিক্ষক অচিন্ত্য কুমার বর্মন সহ কয়েকজন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথা নিয়মে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে ২৮শে ডিসেম্বর ২০০৪ইং সালে তাকে নিয়োগ প্রদান করেন । সে অনুযায়ী ০১জানুয়ারী ২০০৫ সালে তিনি গোতামারি ডি এন এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২০০৬ সালের পহেলা জুলাই তিনি ১ম এম পি ও ভুক্ত হন । এর পর ২০০৯ সালের ৭ই জুলাই এর ১ তারিখে  বিএড করার পর তিনি  উচ্চতর বেতন স্কেলে নিজেকে পরিবর্তনের সুযোগ পান ।

নিয়ম অনুয়ায়ী একই স্কেলে ৮ বছর চাকরী করার পর টাইম স্কেল পাপ্ত হবেন কিন্তু ২০০৯ সালে উচ্চতর বেতন স্কেল নেওয়ার পরেও ২০১৫ সালের সেপ্টেমবর মাসে আবার তিনি কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে উচ্চতর বেতন স্কেল পরিবর্তন করেন । এভাবে প্রতি মাসে সরকারের ১২থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করে তিনি আত্মসাৎ করে আসছেন ।  আর তার এ অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করেন তৎকালীন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শশাংক মোহন রায় ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান । অভিযোগ রয়েছে অনৈতিক সুবিধা নিয়েই তারা সে সময় অচিন্ত্যকে বৈধতা দিয়েছিলো।

নিয়ম অনুয়াযী বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকের সমন্ত নথিপত্র (ডকুমেন্টস) বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলে অচিন্ত্য বর্মনের টাইম স্কেলের রেজুলেশন কপি অফিসে সংরক্ষিত নাই এমন কি উপজেলা  মাধ্যমিক অফিসেও তার কোন অনুলিপি পাওয়া যায়নি ।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তৎকালিন প্রধান শিক্ষক শশাংক মোহন রায় সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কোন মক্তব্য করতে রাজি হননি।

ওই স্কুলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি। তবে তিনি কোন রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গোপন সুত্রে আমরা জানতে পারি যে, আমাদের অনুসন্ধান চলমান থাকাবস্থায় শিক্ষক অচিন্ত্য বর্মন রেজুলেশন অফিস কপি  সংরক্ষন করার জন্য কয়েকজন সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের নিকট থেকে স্বাক্ষর এর জন্য গিয়েছিলেন ।  তাদের মধ্যে কয়েকজন উৎকোচের বিনিময়ে স্বাক্ষরও করেছেন।

এ বিষয়ে সাবেক অভিভাবক সদস্য মোজাম্মেল হক মঞ্জু বলেন, ইউ পি নির্বাচনের সময় অচিন্ত্য আমার কাছে স্বাক্ষর নিয়েছে , রেজুলেশন এর অফিস কপি সংরক্ষনের জন্য। এতদিন পর কেন আপনি স্বাক্ষর দিলেন এ প্রশ্নের উত্তরে  তিনি বলেন ,আমার নির্বাচন সামনে ছিলো তাই বারাবারি করিনি। অচিন্ত্যের এ বিষয়টি আমিও জানি তাকে অনেকবার আমি বুঝিয়ে বলেছিলাম অতিরিক্ত অর্থ সরকাকের কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য কিন্তু সে আমার কোন কথা শুনেননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অচিন্ত্য কুমার বর্মন এর সাথে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজী হননী। তিনি বলেন আপনারা যাইচ্ছে করেন আমার সমস্ত কাগজপত্র ঠিক আছে। আপনারা পত্রিকায় লেখে আমার কিছুই করতে পারবেন না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম বলেন, টাইম স্কেলের বিষয়টি আমরা দেখিনা, আমাদের অফিসের স্যার অনেকদিন ধরেই অনুপস্থিত তাই তার সাথে কথা বলা ছাড়া আমি কিছুই বলতে পারবোনা, তবে অনিয়ম হলে আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, অচিন্ত্য বর্মন নামের ওই শিক্ষক যদি অবৈধভাবে অন্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সময়ের আগে টাইম স্কেল প্রাপ্ত হয়ে থাকেন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজ ট্যাগ: অর্থ আত্মসাত

আরও খবর



ভিসা সহজ হলেই বাড়বে পর্যটন

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সুবিশাল সৈকত, পাহাড়, সুন্দরবন, বিস্তীর্ণ হাওর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থাকলেও বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের হার হতাশজনক। বেশকিছু প্রতিকূলতার মধ্যে বড় বাধা হয়ে আছে আমাদের ভিসা পলিসি। যেটাকে পর্যটনবান্ধব বলছেন না খাত সংশ্লিষ্টরা। এমনকি বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে পর্যটকরা ভিসার জন্য গেলে তাদের নিরুৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে করোনার সময় বন্ধ করা হয়েছিল অন-অ্যারাইভাল ভিসা। এখনও সেটা বন্ধই আছে। বাংলাদেশে বছরে কতজন বিদেশি পর্যটক আসেন তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১০০ কোটিরও বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক হতে পারে বড়জোর বছরে ৩-৫ লাখ। করোনার পর সংখ্যাটা আরও কমেছে। যেখানে বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতি পর্যটন খাতের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে গেছে, সেখানে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মোটামুটি ব্যর্থই আমরা।  ধীর গতিতে হলেও ট্যুর অপারেটররা বিদেশি পর্যটক আনতে কাজ করছেন। দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সচেষ্ট তারা।

তবে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশে আসতে প্রথমেই যে বাধার ‍মুখে পড়ছেন তা হলো ভিসা। ভিসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এতে অনেকেই বাংলাদেশে আসার আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশ্বের অনেক দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালু হয়েছে। বাংলাদেশে এখনও হয়নি। ফলে বিদেশিদের ভিসা পেতে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা হাইকমিশনে যেতেই হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্যুর অপারেটর জানালেন, সম্প্রতি পোল্যান্ড থেকে একটি গ্রুপ বাংলাদেশ আসতে দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেছিল। দূতাবাসের লোকজন তাদের বলেছেন, ভারতে না গিয়ে তারা কেন বাংলাদেশে যেতে চাইছে। পরে ট্যুরিজম বোর্ডে চিঠি দিয়ে তাদের ভিসা সমস্যার সমাধান করা হয়।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন, আমরা যদি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করি তবে পর্যটন খাত অনেক দূর এগোবে। পর্যটন এগিয়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। কিন্তু আমাদের ভিসা পলিসি পর্যটনবান্ধব নয়। প্রায়ই ট্যুর অপারেটররা ভিসা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আসেন। আমরাও সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে সুপারিশ করি। ভারত, নেপাল, ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা রাখা প্রয়োজন বলে মত সংশ্লিষ্টদের। একইসঙ্গে ই-ভিসা চালুরও দাবি তাদের।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল লিমিটেড (পিএটিএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, সাধারণত প্রতিবেশী দেশগুলোতে মানুষ ভ্রমণ করতে চায় বেশি। আমরা যদি ভারত, নেপাল, ভুটানের জন্য অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দিতে পারি তাহলে পর্যটক বাড়বে। এখন বাংলাদেশে আসতে সহজে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। অন-অ্যারাইভালও বন্ধ। অথচ অনেক দেশ ভিসা রেসট্রিকশন তুলে নিয়েছে। আমাদেরও দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন, শুধু ভারত ও নেপালের পর্যটকদের জন্য অন-অ্যারাভাইল চালু করলেও অনেকে আমাদের সমুদ্র, সুন্দরবন ও পাহাড় দেখতে আসবেন।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, করোনার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে  অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ আছে। তাদের মতামত পেলে আবার চালু হবে। আমাদের পক্ষে থেকে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসে ভিসা দিতে নিরুৎসাহিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে কিছু দেশের নাগরিক আমাদের দেশে এসে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সে কারণে কিছু দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওই সব দেশ থেকে যাচাই বাছাই ছাড়া সহজে ভিসা দেওয়া হয় না।


আরও খবর



শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শিমুলিয়া ঘাটে সিরিয়ালের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ফেরি সঙ্কটে যাত্রী ও যনবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ঈদে ঘরমুখো দক্ষিণ বঙ্গের ২১ জেলার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে এসব অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছে লাখ লাখ মানুষ। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার-মাঝিরকান্দি নৌরুটে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপে দেখা দিয়েছে। আর সেই চাপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যানবাহন চালকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে পরের গাড়ি আগে পার করার অভিযোগ উঠেছে ফেরি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও লঞ্চ গুলোতেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী।

বর্তমানে এই নৌরুটটিতে ১০ টি ফেরি, ৮৩ টি লঞ্চ ও ১৫৫ টি স্পিডবোর্ডে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

স্পিডবোট ঘাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে ঘাট ইজারাদারের লোকজন যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে টিকিট না দিয়ে বকাঝকা করারও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্পিডবোট ঘাট ইজারাদার আশ্রাফ হোসেনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি ফোন ধরেননি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন, মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ মোঃ আবু তাহের মিয়া।

টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভাঙার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে বিআইডাব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (মাওয়া জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ও যানবাহন ঘাটে এসেই পার হতে চায় ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। 


আরও খবর



নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৬৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নরসিংদীয় রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকায় ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা অভিমুখী তিতাস কমিউটারের নিচে কাটা পড়ে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত দুই শিশু হলেন, রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে জোবায়েদ মিয়া (১১) ও একই এলাকার মো. কাউসারের ছেলে সিয়াম মিয়া (১০)।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানায়, সকালে রেললাইনের পাশে একটি গাছে আম কুড়াতে গিয়েছিল দুই শিশু। পরে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি কন্টেইনার ট্রেন আসলে তারা পাশের রেললাইনে গিয়ে দাঁড়ায়। সে সময় পাশের রেললাইন দিয়ে ঢাকা অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেন এসে তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। পরে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ নিয়ে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ইনচার্জ) ইমায়েদুল জাহেদী জানান, মরদেহ উদ্ধার করার পর স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করেছি আমরা।


আরও খবর



‘সমুদ্রে মৎস্য নৌযান শনাক্তে ১০ হাজার নৌযানে নতুন প্রযুক্তি সংযোজন হচ্ছে’

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৬০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সমুদ্রে মৎস্য নৌযান শনাক্তের জন্য ১০ হাজার নৌযানে নতুন যন্ত্র ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (১১ মে) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ কার্যক্রম ২০২২ বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, সমুদ্রে মৎস্য নৌযান শনাক্তের জন্য ১০ হাজার নৌযানে শিগগিরই নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্ত কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিক মৎস্য ট্রলারে ভেসেল মনিটরিং সিস্টেম (ভিএমএস) এবং আর্টিসানাল ও যান্ত্রিক মৎস্য নৌযানে যথাক্রমে অটোমেটিক আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ও গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন (জিএসএম) ব্যবস্থা সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে অনুমতিপ্রাপ্ত সমুদ্রগামী নৌযানসমূহের অবস্থান জানা যাবে এবং এদের সহজেই মনিটর করা যাবে। এ নৌযানসমূহ আইনের ব্যত্যয় করলে লাইসেন্স বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরো যোগ করেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করা যাবে না। আইন অমান্য করলে সম্প্রতিক সামুদ্রিক মৎস্য আইন ও মোবাইল কোর্টের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে অসহায় জেলেরা যেন অহেতুক হয়রানি না হয় সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, মৎস্য আহরণ বন্ধ রাখা মানে দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি করা, রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা। এক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের সরকারের নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে মৎস্যজীবীদেরই লাভ হবে। সরকার শুধু মৎস্যজীবী ও দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। এজন্য অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে নিবেদিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাঠ পর্যায়ে মৎস্যজীবীদের তালিকা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে হালনাগাদ করা হবে বলে এ সময় জানান মন্ত্রী। প্রকৃত মৎস্যজীবী ছাড়া সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে সমুদ্রগামী জেলেদের এ বছর পর্যাপ্ত ভিজিএফ দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও জেলেদের বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর ও বনবিভাগ সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, অনেক সময় আইন প্রয়োগে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়।। এ ধরনের পরিস্থিতি সাধারণ জেলেরা করে না। এখানে কিছু দুর্বৃত্ত এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।  নিষিদ্ধকালে মাছ সংরক্ষণ ও বিপণনের কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না। মোবাইল কোর্ট ও অন্যান্য অভিযানে সম্পৃক্তদের এটা নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের বিস্তার ঘটছে।  একদিকে যেমন মাছ নিয়ে গবেষণা বাড়ছে তেমনি মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের যেভাবে, যত কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার সবটুকু করতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, মো. তৌফিকুল আরিফ ও এস এম ফেরদৌস আলম বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ হেমায়েত হুসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি শফিকুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, র‌্যাব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন, মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোন প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। উপকূলীয় বিভাগ চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনার ১৪ টি জেলার ৬৭ টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নিষিদ্ধকাল বাস্তবায়নকালে সমুদ্রগামী হালনাগাদকৃত ও নিবন্ধিত জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সরকার উপকরণ সহযোগিতা প্রদান করবে।


আরও খবর



শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ১৭ মে (মঙ্গলবার)। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসেন।

১৯৮১ সালের এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং বিমানে ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান শেখ হাসিনা। ওই দিন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন লাখো মানুষ।

সেদিন মিছিলের শহরে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে স্লোগান। ঝড়-বৃষ্টিও মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি।

সব প্রতিকূলতা উড়িয়ে তৎকালীন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন। বাণীতে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান।

পরে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসার জবাবে সেদিন তিনি বলেছিলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকের জনসভায় লাখো চেনামুখ দেখছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইয়েরা এবং আরও অনেক প্রিয়জন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভাই রাসেল আর কোনও দিন ফিরে আসবে না, আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। তার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তিনি গত চার দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

কর্মসূচি

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সকল উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া দলটির উদ্যোগে সকাল ১১টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় জাতীয় নেতারা ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা বক্তব্য রাখবেন। 


আরও খবর