Logo
শিরোনাম

সজলের অন্যরূপ

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

অন্যরূপে হাজির হচ্ছেন অভিনেতা সজল। মূলত রোমান্টিক আবহে পর্দায় হাজির হলেও এবার তাকে দেখলে যে কেউ ভয় পাবেন। কারণ, এবার তিনি অভিনয় করেছেন ভাড়াটে খুনির চরিত্রে। আনন জামানের চিত্রনাট্যে আয়েশা শিরোনামের নাটকটি পরিচালনা করেছেন শুদ্ধমান চৈতন।

নাটকটির গল্প প্রসঙ্গে আনন জামান বলেন, বাংলাদেশের কোনও এক গ্রামের মেম্বার শামীমা নাজনীন। প্রকাশ্যে সে জনপ্রতিনিধি হলেও আড়ালে একজন আন্ডার ওয়ার্ল্ডের মাফিয়া। গ্রামের একজনকে খুন করার জন্য ভাড়াটে খুনি সজলকে নিয়ে আসে সে।  অজানা অচেনা ভয়ংকর লুকের সেই আগন্তুককে দেখে গ্রামের লোকজন কানাঘুষা করে। ওদিকে গ্রামের মেম্বার তাকে হুমকি দেয়, যে জন্য আনা হয়েছে সে কাজ শেষ করে যেন দ্রুত গ্রাম থেকে চলে যায়। সজল খুনি হলেও তার একটা নীতি আছে। যাকে খুন করবে তার আদ্যোপান্ত জেনেই কাজটি করবে। কোনও নিরীহ মানুষকে সে খুন করে না।  শুরু হয় নতুন নাটকীয়তা! এভাবেই নানা সাসপেন্স নিয়ে এগিয়ে চলে কিলার সজলের কাহিনি।

নির্মাতা জানান, ২৩ জুন রাত ১০টায় নাটকটি প্রচার হবে বৈশাখী টেলিভিশনে। এতে আরও অভিনয় করেছেন মীম মানতাশা, শামীম শান, সুজাত শিমুল, রাখাল সবুজ প্রমুখ।

নিউজ ট্যাগ: সজল

আরও খবর

২৭ বছরের সম্পর্কে ইতি টানলেন মীর!

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২

বড় পর্দায় বাম-কংগ্রেস সন্ত্রাস

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত, ফিলিপাইনে কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে পুরো এলাকা

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলে বুলুসান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘেটেছে। এতে সেখানের বিশাল এলাকা জুড়ে ঘন কালো মেঘ ও ছাইয়ে ঢেকে গেছে। আজ রবিবার এ ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে।

অগ্ন্যুৎপাতের পরই সেখানের নিকটবর্তী শহরগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য আরও অগ্ন্যুৎপাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অফ ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি জানিয়েছে, সোরসোগন প্রদেশের বুলুসান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রায় ১৭ মিনিট স্থায়ী হয়।

রাজধানী ম্যানিলার প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে সোরসোগনের স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, দুটি শহরের ১০টি গ্রাম ছাইয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জুবান শহরের বাড়ি, রাস্তা এবং গাছগুলি ছাইয়ে ঢেকে গেছে। ঝাপসা দৃষ্টিসীমার কারণে যানবাহনগুলি রাস্তায় চলাচল করতে বেশ অসুবিধায় পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ এলাকাটি পরিষ্কার করার জন্য দমকল বাহিনীর একটি  ট্রাক মোতায়েন করেছে এবং বাসিন্দারা রাস্তা থেকে ছাই সরাতে সাহায্য করেছে। জুবান শহরের দুর্যোগ কর্মকর্তা ডেনিস ডেসপাবিলাদেরাস বলেছেন, সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রবীণ নাগরিক এবং যাদের হাঁপানি আছে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।


আরও খবর



ফেরার জন্য জনি ডেপের সেরা সময়

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জনি ডেপের সাহস ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করতে হয়। পাশাপাশি তার আইনজীবী ও পাবলিক রিলেশনের কর্মীরাও কুশলতা দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে ম্যাথু হিল্টজিক একজন ক্রাইসিস পিআর হিসেবে ভালো কাজ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি অনেক দিন ধরেই নিজের কুশলতা প্রমাণ করেছেন। এছাড়া ডেপের আইনজীবী বেন শু এবং ক্যামিল ভ্যাস্কুয়েজও আদালতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি নানা টক শো ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে বিষয়টিকে মানুষের সামনে নিয়ে এসেছেন।

পিআর কৌশল যদি ব্যক্তির সঙ্গে জনতার যোগসূত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে কাজ করে, তবে তা গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে জনি যে পিআর কৌশল ব্যবহার করেছেন তা আইনি প্রক্রিয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ,এ কথা বলেছেন আমেরিকার একটি শীর্ষ ল ফার্মের প্রধান অ্যাম্বার মেলভিন-ব্রাউন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা এবং এর মাধ্যমে পুনরায় তার সম্মান উদ্ধার করার মাধ্যমে ভক্তদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা পুনরায় এনে দেবে। বাস্তবেও সে বিষয়টিই ঘটেছে। কেসে জেতার পাশাপাশি তিনি এখন পাচ্ছেন দর্শকের সমর্থন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে তিনি আদৌ হলিউডে ফিরতে পারবেন কিনা। কিংবা ঘুরিয়ে প্রশ্নটা তোলা যায় যে জনি ডেপকে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা।

কেসে জেতার ফলে এখন হলিউডের বড় বড় প্রযোজক ও পরিচালক তাকে সিনেমায় নিতে কোনো আপত্তি করতে পারবেন না। এছাড়া এখন বহু ভক্ত অনলাইনে তাদের সমর্থন প্রকাশ করছেন। এ সময়ে ডেপকে নতুন সিনেমায় নেয়া বা পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজে ফিরিয়ে আনা আর্থিকভাবেও লাভজনক হবে। এখানেও পিআরদের একটি ভূমিকা রয়েছে। ২০১৬ সালে যখন অ্যাম্বার হার্ড জনির বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা করেন, তখন জনির ভক্তরা তার পক্ষে কোনো আওয়াজ তুলতে পারেননি। কিন্তু ডেপ যখন মানহানির মামলা করলেন এবং তার বিরুদ্ধে হার্ডের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হতে থাকলে পিআরদের মাধ্যমে এটি বেশি করে তুলে ধরা হয়। হেরাল্ড পিআরের প্রধান জুডা এঙ্গেলমেয়ার বলেন, ডেপের সাধারণভাবেই প্রচুর ভক্ত রয়েছে এবং বিচারিক ক্রিয়ার সময় তারা আবার জেগে উঠেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে আরো অনেক নতুন ভক্ত তৈরি হয়েছে বা ভক্ত বাদেও অনেকে মনে করছেন জনি ডেপকে সমর্থন দেয়া উচিত।

একটা প্রচলিত কথা যে সম্মান একবার চলে গেলে আর ফেরত আনা যায় না। জনি ডেপ নিজের ক্ষেত্রে সে হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করেছেন বলা চলে। কিন্তু হলিউড সে সম্মানের কদর কতটা করবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানের নতুন সিনেমার স্ক্রিপ্টে কাজ করা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে জনি ডেপের উপস্থিতি নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে ফ্যাশন হাউজগুলো ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। যেমন ডিওর কখনো জনি ডেপকে বাদ দেয়নি এবং এখন এসে তাদের বিক্রি বাড়ছে। এমনকি সুপারমডেল কেট মসও জনি ডেপের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন এ অবস্থায় সবাই আশা করছেন হলিউডও এ বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করবে এবং জনি ডেপকে ফিরিয়ে আনবে। কেননা হলিউডে রাজনীতির চেয়ে রোজগারের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়।

নিউজ ট্যাগ: জনি ডেপ

আরও খবর

২৭ বছরের সম্পর্কে ইতি টানলেন মীর!

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২

বড় পর্দায় বাম-কংগ্রেস সন্ত্রাস

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




উইন্ডিজকে ৮৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ৫৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সাকিব আল হাসান আর নুরুল হাসান সোহান দলকে আশা দেখিয়েছিলেন। কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ইনিংস পরাজয় এড়িয়েছেন। লিডও এনে দিয়েছেন। তবে একটু আফসোস তো রয়েই গেলো। তাদের জুটিটা আরেকটু বড় হলে ক্যারিবীয়দের উল্টো চাপে ফেলা যেতো!

সাকিব-সোহানের ১২৩ রানের লড়াকু জুটিতে ভর করেই ইনিংস হারের শঙ্কায় থাকা ম্যাচে ৮৩ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০.৫ ওভার খেলে অলআউট হয়েছে ২৪৫ রানে । অর্থাৎ জিততে হলে ৮৪ রান করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

প্রথম ইনিংসেই স্বাগতিকদের থেকে ১৬২ রানে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১০৯ রান তুলতে হারায় ৬ উইকেট। এমন জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে টাইগাররা, ভাবা কঠিনই ছিল। কিন্তু সাকিব আর সোহান আশা ছাড়লেন না। লাঞ্চ বিরতির আগে হাল ধরলেন। তখন যোগ হয়েছিল মাত্র ৬ রান।

বিরতির পর দ্বিতীয় সেশনে চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং করেছেন এই যুগল। এই সেশনে বাংলাদেশ ইনিংস হার এড়িয়ে লিড নিয়েছে। একটি উইকেটও না হারিয়ে ২৭ ওভারে তোলে ৯৫ রান। ৬ উইকেটে ২১০ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

সাকিব আর সোহানের লড়াকু এই জুটিতেই ছিল বাংলাদেশের সব আশা-ভরসা। দলের স্বীকৃত ব্যাটারদের শেষ জুটি যে এটিই। অবশেষে শতরানের জুটিটি ভেঙেছেন ক্যারিবীয় পেসার কেমার রোচ। ২৩১ বলে গড়া জুটিটি ছিল ১২৩ রানের। এটিই চলতি টেস্টে দুুই দলের সেরা জুটি।

সাকিব-সোহানের প্রতিরোধে ঘাম ঝরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নতুন বল নিয়ে সাফল্য পেয়েছে। সাকিব শেষতক ধৈর্য হারিয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন শর্ট এক্সট্রা কভারে।

অধিনায়কের ক্যাচ নিয়েছেন আরেক অধিনায়ক। ব্রেথওয়েটের ক্যাচ হওয়ার আগে সাকিব করেন ৬৩ রান। ৯৯ বলের ইনিংসে ৯টি বাউন্ডারি হাঁকান টাইগার দলপতি। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ২৯তম হাফসেঞ্চুরি।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি সোহানও। তিন ওভার পরই তিনি আউট হয়েছেন। এই উইকেটও নিয়েছেন রোচ। তাকে পয়েন্টে খেলতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হয়েছেন সোহান। ১৪৭ বলে গড়া তার ৬৪ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি চারের মার। তারপর লেজটা গুড়িয়ে দিতে সময় লাগেনি ক্যারিবীয়দের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল কেমার রোচ। ৫৩ রানে ৫টি উইকেট শিকার করেন এই পেসার। ৩টি উইকেট আলজেরি জোসেফের।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫০ রান। আগের দিন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল ও প্রমোশন পেয়ে ওপরে ওঠা মেহেদি হাসান মিরাজের উইকেট হারায় সফরকারীরা। ১১২ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শুরু করে বাংলাদেশ।

এর আগে মেহেদি মিরাজের চার উইকেটের সঙ্গে খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনদের জোড়া শিকারে ক্যারিবীয়দের ২৬৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় স্বাগতিকরা পেয়ে যায় ১৬২ রানের বড় লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরুর আভাসই দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। একপ্রান্তে রয়েসয়ে খেলেন জয়, তামিম ছিলেন স্বপ্রতিভ। কিন্তু দশম ওভারে আক্রমণে এসেই তামিমকে ফিরিয়ে দেন আলজারি জোসেফ।

উইকেটের পেছনে ক্যাচ হওয়ার আগে চারটি চারের মারে ৩১ বলে ২২ রান করেন তামিম। তিন নম্বরে নাইটাওয়াচম্যান হিসেবে নামানো হয় মেহেদি মিরাজকে। নিজের পরের ওভারে এ ডানহাতি অলরাউন্ডারকেও ফিরিয়ে দেন জোসেফ। আউট হওয়ার আগে মাত্র ২ রান করতে পেরেছেন মিরাজ।

এরপর দিনের শেষভাগের প্রায় আধঘণ্টা সময় নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দিয়েছেন মাহমুদুল জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫০ বলের জুটিতে আসে ১৫ রান। জয় ১৮ ও শান্ত ৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করেন।

তৃতীয় দিনের সকালটাও দেখেশুনে শুরু করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় আর নাজমুল হাসান শান্ত। প্রথম আধ ঘণ্টা কাটিয়েও দিয়েছিল এই জুটি। কিন্তু এরপরই ভুল করে বসেন শান্ত।

কাইল মায়ার্সের বাউন্সি ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ৪৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ১৭ রান। প্রথম ইনিংসে কেমার রোচের বলে শান্ত বোল্ড হয়েছিলেন, আরও একবার দৃষ্টিকটু আউট হলেন।

এরপর দ্রুতই ফিরেছেন মুমিনুল হক। নেতৃত্বের চাপে ভেঙে পড়ছেন, এমনটা ভেবেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটার টানা ৯ ইনিংস দশের নিচে আউট হয়েছেন।

এবার মুমিনুল সাজঘরে ফিরেছেন ৪ রানে। কাইল মায়ার্সের ডেলিভারি প্যাডে লাগলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। মুমিনুল রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু লেগ স্ট্যাম্প অল্প একটু পেয়ে যাওয়ায় আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হয়েছে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে। প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন শূন্য।

ফর্মে থাকা লিটন দাসের ওপর বড় আশা ছিল টাইগার সমর্থকদের। মাহমুদুল জয়ের সঙ্গে ২৫ রানের একটি জুটিও গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাকিদের মতো বাজে শট খেলেই আউট হয়েছেন।

ব্যক্তিগত ১৭ রানে সাজঘরের পথ ধরেন ডানহাতি এই ব্যাটার। কেমার রোচের শরীরের অনেক বাইরে থাকা ডেলিভারি অযথা শট খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হন লিটন।

অভিজ্ঞ ব্যাটাররা একের পর এক ফিরে যাচ্ছেন সাজঘরে। কিন্তু তরুণ মাহমুদুল হাসান জয় ধৈর্যর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিলেন। একদম টেস্ট মেজাজেই খেলছিলেন টাইগার ওপেনার। হাফসেঞ্চুরিটা তার প্রাপ্যই ছিল।

কিন্তু চল্লিশের ঘরে গিয়ে ভুল করে বসেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। কেমার রোচের বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে শট খেলতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন জয়। ১৫৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে তার ৪২ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটির সমাপ্তি তাতেই।


আরও খবর



চাকরি হারালেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অসদাচরণ ও পলায়নের কারণে বিভাগীয় মামলার পর দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাইসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

গতকাল সোমবার (১৩ জুন) মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈকে চাকরিচ্যুত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারীর অননুমোদিতভাবে বিদেশে থাকার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সব ধাপ অনুসরণ করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না দেয়ায় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ তার স্থায়ী ও কর্মস্থলের ঠিকানায় পাঠানো হলে প্রাপক দেশে নেই বলে ডাক বিভাগ খামের গায়ে লাল কালি দিয়ে লিখিতভাবে জানায়।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, যেহেতু মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাই বিধি অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সরকারি কর্ম কমিশনও একমত পোষণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০০৯ সালে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘদিন তার এপিএসের দায়িত্ব পালন করেন মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ। তখনই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈকে এপিএসের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ অনুমতি না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।


আরও খবর



চাল-ডালে হৈ চৈ ডিমে উত্তাপ

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | ৭৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কয়েকমাস ধরে অস্বাভাবিক চড়া নিত্যপণ্যের বাজার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তেল-আটা-ময়দার পর এবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে চালের বাজারেও। যেন নৈরাজ্য চলছে চাল-ডাল-ডিমসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। উৎপাদন বন্ধ করে যে যেভাবে পারছেন ধান মজুদ করছেন। ঘাটতির অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে চালসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দর। এখনই এর লাগাম টানতে না পারলে সামনে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, নওগাঁ বাইপাস সড়ক সংলগ্ন একটি চালকলে এখনো পুরাতন চাল পাওয়া যাচ্ছে। মূলত এটি নামেই চালকল, বছরজুড়ে এখানে চলে মজুদদারি। সূত্র মতে, নতুন করে চলতি মৌসুমের ধান মজুদ হচ্ছে চালকলটিতে। পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন মিল মালিকরা। এখন তাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭-৮টি করপোরেট প্রতিষ্ঠান যোগ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রায় প্রতিদিনই বাড়াচ্ছে চালের দাম।

বাংলাদেশ হাসকিন মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, বোরোর মৌসুমে দেশে সব সময় চালের দাম কমে। কখনো দেখিনি চালের দাম বেড়েছে। এবার তা দেখতে হচ্ছে। তিনি জানান, বড় কিছু কোম্পানি ধান-চালের অবৈধ মজুদ গড়ে তুলছেন। এ কারণে বাজারে চালের দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে সব ধরনের চাল আরো ৫-৬ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে ঘণ্টায় ঘণ্টায় চালের দাম বাড়ানো হয়। এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, এর আগে তো মিলাররা ছিল, তারা মজুদ করে দাম তেমন একটা বাড়াত না। যেভাবেই হোক সরবরাহ নিশ্চিত করত। এখন চালের মৌসুমেও সরবরাহ নিশ্চিত নয়। বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও কম চাল সরবরাহ হচ্ছে। তারা বলেন, এখন বড় বড় কোম্পানির হাতে চলে যাওয়ায় মাঝারি আকারের যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এসে এমন অবস্থা করেছে যে এমন পরিস্থিতি বিগত ৩৫ বছরের ইতিহাসে আমরা দেখিনি। বাজার নিয়ন্ত্রণে মিল পর্যায়ে এখনই কঠোর নজরদারি করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের।

এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রশ্ন রেখেছেন, বাজারে এখনো পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে। তাহলে নতুন ধান কোথায় যাচ্ছে? মন্ত্রীর এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েও ইঙ্গিত মেলে দেশের বিভিন্ন বড় বড় চাতাল মালিক, ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় চাল মজুদ করছে। তবে এ তালিকায় বেশ কিছু বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হয়েছে। অপরদিকে মিলগেটে বেশি দামেও মিলছে না জিরাশাইল, কাটারি, নাজিরশাইল চাল। ফায়দা লুটতে দেশের করপোরেট হাউসগুলো ধান-চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় চালকল মালিকদের। মোকামগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির বস্তায় চালের দর বেড়েছে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত।

জানা গেছে, গত কয়েক মাসে দফায় দফায় চালের দাম বেড়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বেশ কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও মিল মালিকদের যোগসাজশে হু হু করে চালের দাম বাড়ছে। এক রাতেই রাজধানীতে পাইকারি পর্যায়ে কেজিতে সরু ও মোটা চালের দাম ৩-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি কেজি মিনিকেট ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৮ টাকা করেছে। ব্রি ২৮ চালের নতুন দাম ৪৮-৫৫ টাকা। এছাড়া দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা।

রাজধানীর কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মিল থেকে প্রতি সপ্তাহে বাড়তি দরে চালের রেট দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বোরো মৌসুমে এমন দাম বাড়ার চিত্র কখনো দেখিনি। এবারই প্রথম দেখলাম। মিল মালিকরা আগে দাম নিয়ে কারসাজি করলেও তাদের সঙ্গে বড় কিছু কোম্পানি যোগ হয়েছে। তারা ধান কিনে মজুদ করায় বাজারে কিছুটা ধানের সংকট হয়েছে। সেই অজুহাতে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়েছে।

নওগাঁ ধান ও চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকট তৈরি হবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। যে কারণে অনেকেই ভাবছেন আমাদের দেশে চালের ক্রাইসিস তৈরি হবে। সে কারণে অনেকেই অবৈধ মজুদ করছেন। এ ধরনের অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ধান উৎপাদন মৌসুমে চালের বাজার অস্থির। কিন্তু এটা হওয়ার কথা ছিল না। কেন এমন পরিস্থিতি হয়েছে তা বের করতে হবে। বিশ্ববাজারের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে চালের বাজার অস্থির করতে না পারেন সেদিকে নজর রাখতে হবে। কোনো অনিয়ম পেলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মিল থেকে শুরু করে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের বেচাকেনার রসিদ দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। ভরা মৌসুমে বাড়ছে চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে মান ভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ৫-১৫ টাকা বেড়েছে।

এমন অবস্থায় নিজ কার্যালয়ে বৈঠকে চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে অ্যাকশনে যেতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ অবৈধভাবে চাল মজুদ করলে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, চাল ও তেল নিয়ে মার্কেট সার্ভে করে দ্রুত অ্যাকশনে যেতে বলা হয়েছে। তেলের মতো চাল ইস্যুতেও অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মজুদ করলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও। ওই দিন খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ধান কিনে মজুদ করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সবাই প্রতিযোগিতা করে ধান কিনছে, ভাবছে ধান কিনলেই লাভ। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা ভালো পরিণতি আনবে না। অধিকাংশ মিল মালিক বাজার থেকে ধান কিনলেও তারা উৎপাদনে যাচ্ছেন না। বাজারে নতুন চাল এখনো আসছে না। এখন বাজারে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে তা গত বছরের পুরোনো। তাহলে নতুন ধান যাচ্ছে কোথায়? এ অবস্থা চলতে দেয়া হবে না। কে কত পরিমাণ ধান কিনছেন এবং কে কত পরিমাণ চাল ক্রাশিং করে বাজারে ছাড়ছেন তা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের রিপোর্ট আকারে পাঠানোর কথা বলেন মন্ত্রী।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হাওরে বন্যায় ৮০ হাজার টন চাল নষ্ট হওয়ার পরও এবার বোরো মৌসুমে ২ কোটি ৭ লাখ টনের ওপরে চাল উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) বৈশ্বিক দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় এ বছর দেড় লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হবে। এমন চিত্রের পরও বাজারে চালের দাম বাড়ছে। এদিকে চাল-তেল-আটার পর এবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ডালের বাজারেও। মাসের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। নিত্যপণ্যের ধারাবাহিকভাবে দাম বৃদ্ধিতে ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকার ও আমদানিকারকদের দুষছেন খুচরা বিক্রেতারা। পাইকাররা বলছেন, বিশ্ববাজারে যে নৈরাজ্য চলছে তার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় মোকামে।

কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ইউক্রেইনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয় ডাল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বেড়েছে জাহাজ ভাড়া, সঙ্গে ডলারের উচ্চমূল্য, তাই আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অস্থির ডালের বাজার। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষছেন পাইকারদের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে, মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। দেশি ও নেপালি সরু দানার মসুর ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, যা মাসখানেক আগেও পাওয়া যেত ২০ টাকা কমে। শুধু মসুর নয়, দাম বাড়ার তালিকায় আছে মুগ, ডাবলি, বুটসহ অন্যান্য ডালও। বাড়তি এই দাম পকেট কাটছে ক্রেতাদের।

টিসিবির পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে মোটা মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ, আর মাঝারি ৪১ শতাংশ এবং ছোট দানা ২১ শতাংশ। অ্যাংকর ও ডাবলির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ শতাংশ। এদিকে, বাজার নিয়ন্ত্রণে ৫ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সব পণ্যের দাম যখন বাড়ছে তখন থেমে নেই ডিমের বাজারও। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দফায় দফায় বেড়েছে ডিমের দাম। রাজধানীর খিলক্ষেত, ভাটারা, সোলমাইদ, নতুন বাজার, বাড্ডাসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও ডিমের ডজন ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। আর ৪৫ টাকা হালি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে দোকানগুলোতে। সপ্তাহের ব্যবধানে লাল ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৩০ টাকা। হাঁসের ডিম ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশি মুরগির ডিমে যেন আগুন। ১৭০ টাকা ডজন থেকে এখন ১৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ছোলমাইদ এলাকার বাসিন্দা শরীফ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাছ-মাংসের দাম বেড়ে গেছে। এরপর আবার ডিমের দামও বাড়ল। এক হালি ডিম কিনেছি ৪৫ টাকায়। অল্প টাকা বেতনে ঢাকায় থাকাই এখন দায় হয়ে গেছে। উৎপাদন কিংবা সরবরাহে ব্যাঘাত না ঘটলেও তবুও ডিমের দাম বাড়ায় হতাশ নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কম চাহিদার মৌসুমে এতদিন তারা ডিমে যে পরিমাণ লোকসান গুনেছেন, এখন দাম বাড়িয়ে তার কিছুটা হলেও সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন। এদিকে কোরবানির ঈদের অজুহাতে মসলার বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে।


আরও খবর

ঈদ ঘিরে পণ্যের বাড়তি দর

সোমবার ২৭ জুন ২০২২