Logo
শিরোনাম

‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি পাক কোনও এক শুক্রবার সকালে

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ নভেম্বর ২০২৩ | ৩৪৩০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাকিবুল হাসান

একটি ক্যাফেতে বোমা হামলার দৃশ্য। নেপথ্যে শোনা যায়, মানুষ যখন ধর্মের নামে হত্যা করে, আসলে সে ধর্মকেই হত্যা করে, মনুষ্যত্বকে হত্যা করে। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারির নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনা নিয়ে বলিউডের ফারাজ-চলচ্চিত্রের ফার্স্টলুক এটি। মৃত্যুর মুখেও দুই বন্ধু অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ২০ বছরের তরুণ ফারাজ আইয়াজ হোসেন। শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচাতে পারেননি, নিজেও বাঁচেননি। কিন্তু বাঁচিয়েছিলেন সাহস, বন্ধুত্ব আর মানবিকতাকে। সেই গল্প নিয়েই পরিচালক হংসল মেহতা নির্মাণ করছেন এই চলচ্চিত্রটি।

টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে এই চলচ্চিত্রের ২৩ সেকেন্ডের একটি মোশন পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছিল কয়েক বছর আগে। ভিডিও পোস্টে পরিচালক হংসল মেহতা লিখেছিলেন, সহিংস প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবতার জয়!'

চলচ্চিত্রটি নিয়ে নির্মাতা ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ফারাজ-এর গল্পটি পৃথিবীকে দেখাবো বলে অপেক্ষা করছি। ফারাজ হবে গভীর মানবিকবোধের এক গল্প। কিন্তু ছবিটি নির্মাণে আপত্তি তুলে অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশনের পক্ষে বাংলাদেশের ল ফার্ম লিগ্যাল কাউন্সেল ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ভূষণ কুমার, সহকারী প্রযোজক অনুভব সিনহা এবং পরিচালক হংসল মেহেতাকে উকিল নোটিশ পাঠায়। নোটিশের উল্লেখ করা হয়, এ ধরণের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হলে তা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম নষ্ট করবে, যার নেতিবাচক প্রভাব গোটা বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে। তাছাড়া, এ ধরণের চলচ্চিত্র নির্মিত হলে তা বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করবে, যা আদতে সত্যি নয়। আইনি নোটিশ পাঠানোর পর অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশনের পক্ষে অবিন্তার মা মামলাও করেছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ জঙ্গি সদস্যের পরিচালিত হামলার ঘটনায় যে ২২ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক নিহত হন, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণ ফারাজ আহমেদও ছিলেন। তাকে কেন্দ্র করেই ফারাজ নামের চলচ্চিত্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলো বলিউডের অন্যতম প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ। কিন্তু মামলার ফলে, চলচ্চিত্রটি এখনও মুক্ত হয়নি।হলি আর্টিজান হামলা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী শনিবার বিকেল নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে অভিযোগে চলচ্চিত্রটিকে সেন্সর সনদ দেয়া হয়নি।

শনিবার বিকেল চলচ্চিত্রটি সাড়ে তিন বছর ধরে আটকে থাকার নেপথ্য ঘটনা আসলে কী? ২০১৯-এর ৯ জানুয়ারি ছবিটি দেখে সেন্সর বোর্ডের অনেকে পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিলেন, ছবিটি মুক্তির সনদ দেওয়া হবে। যারা তখন বোর্ডের সদস্য ছিলেন তাদের কেউ কেউ এখনও বলছেন, সিনেমা হিসেবে ছবিটি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি ছিল না। ছবিটি আটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে যা জানা গেছে, প্রথমবার ছবিটি দেখার পর সেন্সর বোর্ডের সচিব একটি নোট লিখেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব না দেখা পযর্ন্ত যেন ছবিটি পাশ না করা হয়। পরে তখনকার তথ্য সচিব ছবিটি দেখেন। সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবও তার সঙ্গে ছিলেন। তখন ছবিটি আটকানোর পক্ষে সবাই মত প্রদান করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, ভুলে যাওয়া একটি বিয়োগান্তক ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দেয়াটা ঠিক হবে না। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে আপিল করা হলে, কয়েকজন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বকে ডেকে ছবিটি দেখিয়ে তাদের মতামত চাওয়া হয়। তারা আটকে রাখার মতো কোনও কিছু এই চলচ্চিত্রে পাননি বলে মতামত দেন। এরপর চলচ্চিত্রটিকে প্রদর্শনী করার অনুমতি দেয়া হবে কী না-এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আপিল বোর্ডের। আপিল বোর্ডের অন্যতম সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। এখন তার সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে শনিবার বিকেল চলচ্চিত্রটির সেন্সর বোর্ডের সনদ পাওয়া বা না পাওয়া।

শনিবার বিকেল চলচ্চিত্রটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর একটা থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র, যা ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান হামলা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। হলি আর্টিজানে ৫ জঙ্গি কর্তৃক বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৫০ জনকে জিম্মি করা এবং ২২ জনকে হত্যার ঘটনা সত্য এবং হৃদয় বিদারক। এটাও সত্য যে, ১ জুলাইয়ের জঙ্গি হামলার পর ২ জুলাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অপারেশন থান্ডারবোল্ট পরিচালনার মাধ্যমে জিম্মিদের উদ্ধার করা হয়। এসময় সকল জঙ্গি নিহত হয়। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার পর এই ঘটনায় বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার কোনও কারণ আমি দেখি না। কোনও চলচ্চিত্রে যদি ঘটনাকে বিকৃত করে শুধু জঙ্গি হামলা দেখানো হয় এবং জঙ্গি দমনকে না দেখানো হয়, তাহলেই ভাবমূর্তি নষ্টের প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু ফারাজ এবং শনিবার বিকেল চলচ্চিত্র দুটোর কোনওটাতেই এমনটা দেখানো হয়নি বলেই জানি।

বাংলাদেশে সেন্সর সার্টিফিকেট না পেলেও মিউনিখ, মস্কো, সিডনি, বুসান, প্যারিসসহ বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শনিবার বিকেল প্রদর্শিত হয়েছে। বহু দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক ছবিটি দেখেছেন এবং বাংলাদেশে সেন্সর সনদ না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ অনেকেই ছবিটি আটকে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যে ভাবমূর্তি নষ্টের প্রশ্ন তুলে সেন্সর বোর্ড একটা চলচ্চিত্রকে আটকে রাখে, তাদের কাছে ভাবমূর্তির সংজ্ঞা কী?

বাংলাদেশের সংবিধান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা অন্য কোনো আইনে দেশের ভাবমূর্তির কোনো সংজ্ঞা দেওয়া নেই। এমনকি, দণ্ডবিধিতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধগুলোর বর্ণনায়ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির কোনো উল্লেখ নেই। ফলে, আমি যদি কোনও কিছুকে ন্যায্য ও বৈধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মনে করে প্রকাশ করি, সেটিকেও একজন অভিযোগকারী দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী মনে করতে পারেন। ব্যক্তিভেদে এর সংজ্ঞায়ন ভিন্ন হতেই পারে আর এই কারণেই এটা হচ্ছে একটা সমাধান অযোগ্য সমস্যা। প্রকৃত পক্ষে, একটা দেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার কতটা আছে, দেশের ভাবমূর্তির পরিমাপক হওয়া উচিত সেটাই। এসব অধিকারের অংশ হচ্ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বহুদলীয় ব্যবস্থা এবং জনগোষ্ঠীর সব অংশের অংশগ্রহণ, সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দুর্নীতির মাত্রা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

ভাবমূর্তি নষ্ট হয় বড় বড় প্রকল্পের দুর্নীতিতে, বিনা বিচারে হত্যাকান্ডে, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারে। সত্য প্রকাশে, শিল্প চর্চায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় না। এই বোধোদয় আপনাদের কবে হবে? শনিবার বিকেল মুক্তি পাক কোনও এক শুক্রবার সকালে; সেই প্রত্যাশায় রইলাম।

লেখক: শিক্ষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা

নিউজ ট্যাগ: শনিবার বিকেল

আরও খবর

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখনও অপরিহার্য

বৃহস্পতিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০২২




আজ ঈদ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ | ৭৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রোজা শেষে আবারও এলো ঈদ। খুশির বার্তা নিয়ে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। বাংলাদেশের আকাশে মঙ্গলবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এবার ৩০ রোজা পূর্ণ হলো। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ উৎসবের আমেজে মেতে উঠবেনে দেশবাসী।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলিম উম্মাহর প্রতি নিয়ামত হিসেবে ঈদ দান করেছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন মদিনাবাসীদের দুটো দিবস ছিল যে দিবসে তারা খেলাধুলা করতো। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এ দুদিনের কী তাৎপর্য আছে? মদিনাবাসী উত্তর দিলেন, আমরা জাহেলি যুগে এ দুই দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। (সুনানে আবু দাউদ: ১১৩৪)

ঈদের দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে।ঈদের দিন সকালে পুরুষদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিশেষ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তাকবিরসহ জামাতে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এবং তারপর ঈদের খুতবা দেওয়া ও শ্রবণ করা। ঈদের নামাজ খোলা ময়দানে আদায় করা উত্তম। 

ঈদুল ফিতরের দিন দেশের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। আবহাওয়া খারাপ হলে জাতীয় ঈদগাহে সম্ভব না হলে বায়তুল মোকাররমে জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়।

এছাড়া প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।  তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়।  চতুর্থ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন  সর্বসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। আর নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং বাংলা নববর্ষে সরকারি কর্মচারীদের ছুটি শুরু হয়েছে ১০ এপ্রিল। অফিস খুলবে ১৫ এপ্রিল। তবে অনেকেই ৮ ও ৯ এপ্রিল দুদিনের ছুটি নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন টানা ১০ দিন। লম্বা ছুটির কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হয়েছে কম। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সময় নিয়ে নিজের শেকড়ে ফিরতে পেরেছেন।

কর্মব্যস্ত এই নগরীর সবাই যখন ঈদ উদযাপনে ঢাকা ছেড়েছেন তখন এই ঢাকা হয়ে উঠেছে এক অন্য শহর। বদলে গেছে রাজধানীর চিত্র, নেই চিরচেনা রূপ। এখন আর ঢাকার সড়কে ঘণ্টা পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় না। মুহূর্তেই চলে যাওয়া যাচ্ছে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

এদিকে দেশের সবার জন্য সুখী, আনন্দময় ও নিরাপদ ঈদুল ফিতরের কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একমাস সিয়াম সাধনার পর আবার আমাদের মধ্যে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এসেছে। ঈদ মানে আনন্দ। আসুন আমরা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি।

রাজনৈতিক নেতাদের অধিকাংশই নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন এবার। কেউ কেউ ঢাকায় ঈদ করবেন, আবার কেউ নামাজ শেষে যাবেন এলাকায়। সব মিলিয়ে  নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন তারা, যোগ দেবেন সামাজিক অনুষ্ঠানেও।


আরও খবর



জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ | ৭৩০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত শুরু হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের লাখো মুসল্লি।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়, এবার জাতীয় ঈদগাহের ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের মূল প্যান্ডেলে একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। ছিল ঈদগাহে নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা।

এদিকে জাতীয় ঈদগাহ ছাড়াও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।  ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭, ৮, ৯ ও ১০ ও ১০টা ৪৫ মিনিটে ঈদের জামাত হবে।


আরও খবর



বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ | ৭২৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৭টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় নামে।

প্রথম জামায়াতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন ক্বারী মো. ইসহাক।

জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রথম জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। নামাজের সময়ে মুসল্লিদের ঢল নামে। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। নামাজের পর একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

জাতীয় মসজিদে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহীউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন (অব.) হাফেজ মো. আতাউর রহমান।

তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন আজিমপুর কবরস্থান মেয়র হানিফ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ইমরান বিন নূরউদ্দীন। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. আব্দুল হাদী।

চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. জসিম উদ্দিন।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল পৌনে ১১টায়। ইমামতি করবেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুজ্জামান। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. রুহুল আমিন।

৫টি জামাতে কোন ইমাম অনুপস্থিত থাকলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাষা শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


আরও খবর