Logo
শিরোনাম

সর্বজনীন পেনশন বিল পাস সংসদে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ২৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সব নাগরিককে পেনশনের আওতায় আনতে সংসদে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩ পাস হয়েছে। বিলে ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক নির্ধারিত হারে চাঁদা পরিশোধ করে ৬০ বছর পূর্তির পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও এই আইনের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা পরিশোধ করে পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে স্কিমে অংশগ্রহণের তারিখ থেকে নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা প্রদান শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হবেন, সে বয়স থেকে আজীবন পেনশন প্রাপ্য হবেন। আজীবন বলতে পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়।

এটি পাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে বিলের ওপর আনিত জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে কতিপয় সংশোধনী গৃহীত হয়।

পাসের আগে বিলটি সরাসরি সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বিলটি পাস না করে ফেরত পাঠানো বা জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে প্রেরণের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমাম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

পেনশন আইনে বলা হয়েছে, চাঁদা দাতা ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দিলে মাসিক পেনশন পাবেন। চাঁদা দাতার বয়স ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন তহবিলে পুঞ্জীভূত মুনাফাসহ জমার বিপরীতে পেনশন দেওয়া হবে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, নিম্ন আয় সীমার নিচের নাগরিকদের অথবা অসচ্ছল চাঁদাদাতার ক্ষেত্রে পেনশন তহবিলে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, একজন পেনশনার আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। তবে পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তার নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য (মূল পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে মারা গেলে জমা করা অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, পেনশন তহবিলে জমা দেওয়া অর্থ কোনো পর্যায়ে এককালীন তোলার প্রয়োজন পড়লে চাঁদাদাতা আবেদন করলে জমা দেওয়া অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলতে পারবেন, যা ফিসহ পরিশোধ করতে হবে। আইনে পেনশন থেকে পাওয়া অর্থ আয়কর মুক্ত থাকবে এবং পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতিতে সরকারি অথবা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার অংশ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা পেনশন ব্যবস্থার আওতা বহির্ভূত থাকবে। সরকার আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রজ্ঞাপন জারি করে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করবে।


আরও খবর



বিক্ষোভকারীদের যে কঠোর হুশিয়ারি দিল ইরান

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৩ জানুয়ারী 20২৩ | ২৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নীতি পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকেই হিজাব-বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে ইরানে। শততম দিনে এসেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

এবার সরাসরিই বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো দয়া দেখানো হবে না বলেই হুশিয়ারি দিয়েছেন।

তেহরানে দেওয়া এক ভাষণে রাইসি বলেছেন, সবার জন্যই জাতীয় আলিঙ্গন বা অভ্যর্থনার পথ খোলা তবে যারা শত্রুতা করছে তাদের কারো প্রতি কোনো দয়া দেখানো হবে না।

এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাজারো মানুষকে গ্রেফতার করেছে ইরান প্রশাসন। একটি বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার মতে হিজাব-বিরোধী আন্দোলনজনিত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত সাড়ে চারশ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।


আরও খবর



চীনের বিকল্প হয়ে ওঠার পথে ভারতের অগ্রযাত্রা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ১৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি এ মুহূর্তে সর্বোচ্চে রয়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। এমন একটি সময়ে ভারত সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে যখন বিশ্বের উৎপাদকরা চীনের বিকল্প কিছু খুঁজতে শুরু করেছেন। আর এ সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ লক্ষ্যে ভারত সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটের ২০ শতাংশ ব্যয় করছে মূলধনি বিনিয়োগে।

এ বিনিয়োগের পরিমাণ দেশটির এক দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চীনকে অতিক্রম করেছে ভারত। এখন মোদি সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক দিক দিয়েও চীনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া। আর এ কাজে যদি তিনি সফল হন তাহলে পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন তিনি। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে নিজের দেশের কিছু ত্রুটির সঙ্গে লড়াই করতে হবে নরেন্দ্র মোদিকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নীলকানি বলেন, ভারত এখন বিপুল পরিবর্তন প্রক্রিয়ার চূড়ায় রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পুরনো অনেক কিছুই দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এখন মানুষ বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো স্থানটি খুঁজে বের করতে চায়। অথচ গত ১৫ বছরেও ভারতের এ বিষয়ে আগ্রহ দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়।

২০১৪ সালেই তিনি মেক ইন ইন্ডিয়া শীর্ষক প্রচার শুরু করেন। যা অনেকটা ছিল চীন, সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের অনুকরণ। এ দেশগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশের কাতারে উঠেছিল। দেশগুলো বিশ্ব চাহিদার কথা মাথায় রেখে পণ্য উৎপাদন করত। এ লক্ষ্য পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোরও দিয়েছিল ভারত। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন যে ভারত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ২৫ বছরের মধ্যে ভারত উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়।

সরবরাহ চেইনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বরং ভারতের জন্য অনুকূল হয়েছে। কারণ জিরো কভিড নীতির কারণে চীননির্ভরশীলতা কমাতে শুরু করেছে অনেক কোম্পানি। বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির নেয়া চায়না প্লাস ওয়ান কৌশলের বড় সুবিধাভোগী হতে পারে ভারত ও ভিয়েতনাম। এরই মধ্যে অ্যাপলের মূল তিন তাইওয়ানিজ সরবরাহকারী মোদি সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা পেয়েছে। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে আইফোনের দ্বিগুণ চালান গেছে।

চীন ও জার্মানির মতো উৎপাদন সক্ষমতার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন উৎপাদন ক্ষেত্র খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির পূর্বাভাস বলছে, চলতি দশকে ভারতের বার্ষিক উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি এমন জায়গায় পৌঁছবে যে ৪০ হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করতে সক্ষম এমন তিনটি দেশের একটি হবে দেশটি।

তবে এ লক্ষ্য পূরণে ভারতে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে লড়াই করতে হবে। যার অন্যতম হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। ক্ষমতা গ্রহণের সময় অবশ্য এসব প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল, ভারত হবে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ। এসব লক্ষ্য শতভাগ পূরণ না হলেও অবকাঠামো খাতে এগিয়েছে ভারত। বিস্তৃত হয়েছে সড়কপথে যোগাযোগ, আকাশে অভ্যন্তরীণ পথে যাত্রী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের লাখো মানুষকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায় আনা গেছে। তবে একই সময়ে সম্পদে বৈষম্য বেড়েছে বলেও একটি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব স্যানাল বলেন, ভারত সরকার এখন নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিচ্ছে। যেন সব ভারতীয় সমান সুযোগ পায় এবং দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে ভারত সরকার আগামী কয়েক বছরে অনেকগুলো শিল্প খাতে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি প্রণোদনা দিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু অর্থ ব্যয় হবে উইস্ট্রন করপোরেশনের মোবাইল ফোন সেট উৎপাদনে, হন হাই প্রেসিশন ইন্ডাস্ট্রির চিপ উৎপাদনে এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সৌরবিদ্যুতের প্যানেল তৈরিতে। এর পরের ধাপ হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উৎপাদকে পরিণত হতে উৎপাদন সক্ষমতা বা ব্যাপ্তি বাড়ানো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবেই ধাপে ধাপে চীনের বিকল্প হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছে ভারত।

নিউজ ট্যাগ: ভারত

আরও খবর



ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইমরান খান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ২১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

এ বছর ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং ঋণ খেলাপির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অব্যাহত ভূমিকাকে সমর্থন করবেন বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

সাবেক এই ক্রিকেট তারকা গতবছর একটি অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর তার প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে অপসারিত হন। তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের আশা করেন। দেশটিতে আগামী আগস্টের পরই নির্বাচন হওয়ার কথা। তিনি আরও বলেন, তিনি একটি মৌলিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করছেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যেখানে এর আগে তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেছিলেন, ততদিনে দেশের অর্থনীতি আরও খারাপ অবস্থায় চলে যাবে।

৭০ বছর বয়সী ইমরান খান পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে তার বাসভবনে সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তবে আমাদের হাতে বেশি সময় থাকবে না। গতবছর নভেম্বরে তিনি বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ওই বাড়িতে রয়েছেন এবং সেরে উঠছেন। তার পরিকল্পনা আইএমএফ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের হাতে এখন কোনো বিকল্প নেই। যেখানে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে বহুবার পিছিয়েছে আইএমএফ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি কয়েক মাস ধরে বিপজ্জনকভাবে ঋণ খেলাপির কাছাকাছি চলে গেছে। ইমরান খানের উত্তরসূরি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, তহবিলের চাহিদার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়ানো এবং ট্যাক্স ইস্যুতে। গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন এক মাসের আমদানির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই দেশটির। এখনও গত বছরের বিপর্যয়কর বন্যার কারণে ভুগছে পাকিস্তান। মুদ্রাস্ফীতিতে নাকাল অবস্থা সাধারণ মানুষের।

ইমরান খান বলেন, আমাদের দেশে আগে কখনো হয়নি এমন নীতি তৈরি করতে হবে। তিনি পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের ঋণ খেলাপির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি।

ক্ষমতায় গেলে ইমরান খানের প্রশাসন আবারও শওকত তারিনকে অর্থমন্ত্রী হিসাবে পুনরায় নিয়োগ দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইমরান খানকে অফিস থেকে অপসারণের পরপরই তিনি রাস্তায় নেমে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সরকারকে আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানানোর লক্ষ্যে বিক্ষোভের নেতৃত্বও দিচ্ছেন। ইমরান খান তার সরকারের সবশেষ প্রধান সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটিতে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছিলেন। ফলে একটি বিরোধের সূত্রপাতের জেরে আইএমএফ ঋণ প্রদান কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, তার সিদ্ধান্ত রাশিয়া থেকে ছাড়ে জ্বালানি পাওয়ার ভিত্তিতে ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া যেদিন ইউক্রেন আক্রমণ করে সেদিন খান পূর্ব নির্ধারিত সফরে মস্কোতে ছিলেন। তিন ঘণ্টার কথোপকথনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাকিস্তানকে জ্বালানি সরবরাহে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছিলেন সে সময়। তিনি একটি স্বাধীন বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করবেন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো কোনো একক দেশের ওপর নির্ভর করবে না। তিনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের উদাহরণও টেনে বলেন, যার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু তবুও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে এবং চীনের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্য করে।

ইমরান খান বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি দুর্দান্ত সম্পর্ক উপভোগ করেছিলেন তিনি। তবে তার উত্তরসূরির অধীনে সম্পর্কের অবনতি হয়। তিনি বলেন, বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তিনি কিছু কারণে অনাগ্রহ অনুভব করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এটি ঘটার কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে দায়ী করার প্রয়োজন ছিল।

নিউজ ট্যাগ: ইমরান খান

আরও খবর



ঘুরে আসুন সিলেটের বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৩ জানুয়ারী 20২৩ | ৪৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সিলেটের দোয়ারাবাজার উপজেলার উত্তরে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় রাজ্য। পূর্বে ছাতক উপজেলা, দক্ষিণ ও পশ্চিমে সুনামগঞ্জ জেলা। সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাজারের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। সিলেট থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ। দোয়ারাবাজার সুরমা নদীর উত্তরপাড়ে হওয়ায় সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ নেই। ভারত সীমান্তের কাছে হওয়ায় খুব শীতও পড়ে এখানে। ১৯৮৪ সালে উপজেলা পরিষদ গঠনের পর সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই দোয়ারাবাজার উপজেলা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ উপজেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। জেলার সর্বাধিক মুক্তিযোদ্ধার বসবাসও এ উপজেলায়। এখানে রয়েছে বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ এবং বাঁশতলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান।

দিনের শুরু হচ্ছে, সাথে শুরু হচ্ছে মানব কোলাহল। সেসব কোলাহল পেরিয়ে অচেনা, নিস্তব্ধ-নিঝুম পথে চলতে সময় লাগে না। আমরা এগিয়ে চলছি, গন্তব্য বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে আমাদের চার চাকার গাড়ি। মেঘ আর পাহাড়ের হাতছানি বাড়ছে। এখানে পথের দুই পাশের সৌন্দর্য অসাধারণ, সাথে আছে নানা পাখির ডাক। এক ঘণ্টায় পৌঁছে যাই ছাতক বাজার। ছাতক পাবলিক খেয়াঘাট থেকে বাঁশতলা যাওয়ার পথটির প্রাকৃতিক শোভা ভারি সুন্দর। বাঁশতলা পৌঁছে মন আনন্দে ভরে উঠল। ভারত সীমান্তঘেরা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ এখন আমাদের একেবারে চোখের সামনে। শীতের দিন হলেও আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন নয়, আকাশে সূর্য উঠেছে। ঝকঝকে নীলাকাশ যাকে বলে ঠিক তাই। আর হাত বাড়ানো দূরত্বে পাহাড়। স্মৃতিসৌধে পৌঁছানোর আগেই মুগ্ধ হতে হয়। সে মুগ্ধতা এনে দেয় এখানকার স্লুইস গেট। চেলাই খালের ওপর নির্মিত সে স্লুইস গেটের সৌন্দর্য অসাধারণ। সামনের দিকে এগিয়ে যাই। ডাউক সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ নম্বর সেক্টর। ৫ নম্বর সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। ৫ নম্বর সেক্টরের সাবসেক্টর ছিল সুনামগঞ্জ জেলার বাঁশতলা। এখানকার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন। পাহাড়বেষ্টিত বাঁশতলা এলাকায় এবং তার আশপাশে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হন, তাদের সমাহিত করা হয় বাঁশতলার এ নির্জনে। সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য নির্মাণ করা হয় বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ।

আমরা দাঁড়িয়ে আছি বাঁশতলার স্মৃতিসৌধ। চারপাশের গাছগাছালি আর পাখির কিচির-মিচির আওয়াজ এক অন্য রকম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। স্মৃতিসৌধের চারপাশের সৌন্দর্য পলকহীন চোখে উপভোগ করছি। স্মৃতিসৌধের পেছনে তাকালে বোঝা যায় দূরে পাহাড়গুলো আকাশ ছুঁয়েছে। যেন পাহাড়ে উঠতে পারলেই আকাশ হাতের মুঠোয়। ওপরে নীল আকাশ, নিচে থই থই জলরাশি স্বচ্ছ আর নীল। স্মৃতিসৌধের বামপাশের রাস্তা দিয়ে কিছুটা হেঁটে দেখতে পেলাম সবুজ ছায়ায় মুক্তিযুদ্ধে নাম না জানা ১৪ জন শহীদের সারি সারি সমাধি। কোলাহল মুক্ত পরিবেশে আমাদের প্রিয়জনরা ঘুমিয়ে আছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আকাশছোঁয়া বৃক্ষ যেন এক একটি প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে সবুজ পাহাড়ের গায়ে শত শত বছরের পাথরের কারুকাজ। পাহাড়ের একপাশে ঘন কালো মেঘের অন্ধকার। অন্য পাশে কাঠফাটা রোদ। এ যেন প্রকৃতির এক অনন্য খেলা। স্মৃতিসৌধ আর পাহাড়কে বিদায় জানিয়ে আমরা ১০ মিনিট হেঁটে টিলার ওপর পাহাড়ি গ্রামে চলে এলাম। এখানে প্রায় ৩৬ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী পরিবারের বসবাস। যে দিকে চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। এর পর আমরা গেলাম চেলাই খালের ওপর স্লুইস গেট বা পানির ব্যারাজ দেখতে। আকাশের সাথে মিতালী করেছে জলের ধারা, আর তা দূর থেকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল। কিন্তু ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে সময় এগিয়ে চলছে আর আমাদের শহর পানে ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে এলো। নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমাদের গাড়ি ছুটছে শোঁ শোঁ করে। পেছনে ফেলে আসছি একরাশ স্মৃতি। আমরা শহীদদের ভুলিনি। আমাদের চিন্তায় ও প্রতিজ্ঞায় তারা বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

জেনে নিন কিভাবে যাবেন: বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলায়। সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বাঁশতলা যাওয়া যাবে। আবার ছাতক উপজেলা থেকেও বাঁশতলা যাওয়া যাবে। দিনরাত ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ বাস চলাচল করে। সুবিধামতো সময়ে হানিফ, ইউনিক কিংবা শ্যামলী পরিবহনের বাসে চেপে বসলেই হবে। আমরা সিলেট-ছাতক-দোয়ারা বাজার হয়ে বাঁশতলা গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার বাসে সিলেট যাত্রা করলে রাত ১২টার মধ্যে সিলেট পৌঁছে রাতটুকু বিশ্রাম নিয়ে পরদিন বাঁশতলা। সকালে আম্বরখানা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আপনাকে ছাতক আসতে হবে। এবার ছাতক বাজার থেকে সুরমা নদী পার হয়ে আবার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে সরাসরি বাঁশতলা। তা ছাড়া মাইক্রোবাস করেও যেতে পাড়বেন বাঁশতলা স্মৃতিসৌধে।


আরও খবর

সেন্টমার্টিনের রিপ কারেন্ট থেকে সাবধান!

বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩




ম্যানেজার পদে চাকরি দেবে ট্রাস্ট ব্যাংক

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ২৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বেসরকারি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডে ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড

বিভাগের নাম: কল সেন্টার, (এসপিও-এভিপি)

পদের নাম: ম্যানেজার

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক/স্নাতকোত্তর

অভিজ্ঞতা: ০৮ বছর

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বয়স: ২৫-৪৫ বছর

কর্মস্থল: যে কোনো স্থান

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩

নিউজ ট্যাগ: চাকুরীর খবর

আরও খবর

অ্যাকশনএইডে চাকরির সুযোগ

মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারী ২০২৩