Logo
শিরোনাম

সুইস ব্যাংকে এক বছরে বাংলাদেশিদের টাকা বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৭১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত এক বছরে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। গত বছর (২০২১ সাল) বাংলাদেশিরা সুইস ব্যাংকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সেখানকার ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা; যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ করা জমা।

এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডের প্রতি ফ্রাঁ বাংলাদেশের ৯৫ টাকার সমান। সেই হিসেবে সেখানকার ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বৈধ-অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখেন। দেশটির কঠোর গোপনীয় ব্যাংকিং নীতির কারণে সারা দুনিয়ার মানুষ সেখানে অর্থ জমা রাখেন।

সুইজারল্যান্ডের আইনে গ্রাহকদের গোপনীয়তা দৃঢ়ভাবে রক্ষার নিয়ম রয়েছে। এ আইনের ফলে দেশটির ব্যাংকগুলো কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রাহকদের তথ্য কারও কাছে প্রকাশে বাধ্য নয়। ফলে কারা, কেন অথবা কীভাবে অর্থ ব্যাংকে রাখছেন, সে সম্পর্কে ব্যাংকগুলো কাউকে কোনো তথ্য দেয় না।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ তার আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। ওই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ২০৩ কোটি টাকা।

তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। ২০১৮ সালে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। আর ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

তবে ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের মতো সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের অর্থ গচ্ছিত রাখার পরিমাণও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের গচ্ছিত অর্থ আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাং‌শেরও বে‌শি বেড়ে ৩০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা।

পিটিআই বলছে, ২০২০ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের অর্থ জমার পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা ২০ হাজার ৭০০ কোটি রুপি। এর ফলে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের অর্থ জমা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের নাগরিকদেরও গত বছর সুইস ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ বেড়েছে। ২০২১ সালে পাকিস্তানিরা সুইস ব্যাংকে জমা করেছেন ৭১২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ।

সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার শীর্ষে কারা?

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন ব্রিটিশ নাগরিকরা। সুইস ব্যাঙ্কে ৩৭৯ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ জমা রেখে এই তালিকার সবার শীর্ষে আছে যুক্তরাজ্য।

আর এরপরই দ্বিতীয় স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নাগরিকরা ১৬৮ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ জমা রেখেছেন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। তালিকায় মাত্র এই দুটি দেশের নাগরিকরা ১০০ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর ওপরে অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন।

সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা অন্য শীর্ষ ১০ দেশ হল— ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জার্মানি, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, হংকং, লুক্সেমবার্গ, বাহামা, নেদারল্যান্ডস, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ এবং সাইপ্রাস।

এই তালিকায় ভারত রয়েছে ৪৪তম স্থানে। এরপরই আছে পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, বাহরাইন, ওমান, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, মরিশাস, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, হাঙ্গেরি এবং ফিনল্যান্ড।

২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ২৩৯টি ব্যাংকের সমন্বয়ে সুইস ব্যাঙ্কিং স্পেকট্রামে গ্রাহকের আমানত বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়িয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: সুইস ব্যাংক

আরও খবর



গ্রামীণফোনের সর্বনাশ, রবির পৌষমাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মানসম্মত সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষ থেকে নতুন সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় গ্রামীণফোনকে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির শেয়ারের দরে। এতে কোম্পানিটির শেয়ারের দর কমা শুরু করেছে। এ যেন কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস।

অন্যদিকে ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অন্য কোম্পানিগুলোর নতুন সিম বিক্রি ও গ্রাহক ধরার সুযোগ বাড়বে- এমন আশায় বেড়েছে রবি আজিয়াটার শেয়ারের দাম।

এদিকে সিম বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার খবরে প্রভাব পরতে শুরু করেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর গ্রামীণফোনের শেয়ার দরে।

বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারটির দর ৬ টাকা বা ২ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ শেয়ার লেনদেন হয় ২৯৪ টাকা ১০ পয়সা দরে। এদিন কোম্পানিটি ১ হাজার ৩২ বারে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি শেয়ার লেনদেন করেছে। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এদিকে গ্রামীণফোনের এমন অবস্থায় যেন পৌষমাস হয়ে এসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের আরেক কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের শেয়ারে। বৃহস্পতিবার শেয়ারের দর বৃদ্ধির তালিকায় ১০ম অবস্থানে রয়েছে কোম্পানিটি।

এদিন রবি অজিয়াটা লিমিটেডের শেয়ারের দর বেড়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৫.২৪ শতাংশ। এদিন শেয়ারটি সর্বশেষ ৩০ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। কোম্পানিটি ২ হাজার ৭১৩ বারে ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৮টি শেয়ার লেনদেন করে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণফোনের সিম বিক্রি বন্ধ হবার ফলে দেশের অন্য মোবাইল অপারেটরগুলোর সিম বিক্রির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তেমনিভাবে বৃদ্ধি পাবে রবি অজিয়াটার সিম বিক্রির পরিমাণ। আর এজন্যই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে রবি অজিয়াটা লিমিটেডের শেয়ারের প্রতি। আর একইভাবে সিম বিক্রি বন্ধের সংবাদে দর পতনের শীর্ষে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

এদিকে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে সামান্য উত্থান দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬.৪৭ পয়েন্ট বা ০.৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭৬.৯৪ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১.৩৭ পয়েন্ট বা ০.০৯ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ০.৪০ পয়েন্ট বা ০.০১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৮৬.৭৭ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ২৯৫.৫৮ পয়েন্টে।

টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৩২ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার।

ডিএসইতে ৩৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৫টির বা ৫১.১৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৩৬টির বা ৩৫.৭০ শতাংশের এবং ৫০টির বা ১৩.১২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।


আরও খবর



পাকিস্তানের জনপ্রিয় উপস্থাপক আমির লিয়াকত আর নেই

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পাকিস্তানের জনপ্রিয় টকশো উপস্থাপক ও সাবেক এমএনএ আমির লিয়াকত হুসাইন (৫০) মারা গেছেন। পাকিস্তানের ডন ও জিও টিভি অনলাইন এ তথ্য জানায়।

করাচির খুদান কলোনিতে নিজ বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমির লিয়াকতের মৃত্যু হয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

গতকাল বুধবার রাতে বুকে ব্যথা উঠলেও হাসপাতালে যেতে অস্বীকৃতি জানান পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আমির লিয়াকত হুসাইন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের টিকেটে তিনি এমএনএও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অধিবেশন চলাকালে সাবেক এমএনএ আমির লিয়াকতের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ।

ব্যক্তিজীবনে তিন বার বিয়ে করেছিলেন আমির লিয়াকত হুসাইন। সর্বশেষ গত মাসে তৃতীয় স্ত্রী দানিয়া শাহ তাঁকে ডিভোর্স দেন।

রাজনীতিবিদ শেখ লিয়াকত হুসাইন ও কলামিস্ট মাহমুদা সুলতানা দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আমির লিয়াকত হুসাইন। ২০০১ সালে জিও টিভিতে উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন আমির। ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন তিনি।

মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের হয়ে ২০০২ সালে করাচি থেকে এমএনএ নির্বাচন করেন আমির লিয়াকত হুসাইন। ভোটে জিতে শওকত আজিজের মন্ত্রিসভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। পরে ২০১৮ সালে করাচির একই আসন থেকে পিটিআইয়ের টিকেটে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।


আরও খবর

২৭ বছরের সম্পর্কে ইতি টানলেন মীর!

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২

বড় পর্দায় বাম-কংগ্রেস সন্ত্রাস

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




রূপগঞ্জে কলেজছাত্রীসহ দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৫০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইলে ও এর আগে ভুলতা এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন- শিমুলী আক্তার (১৮) ও সালমা আক্তার (২০)। শিমুলী উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ও সালমা ভুলতা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল শিমুলী আক্তার। তিনি ওই এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে। তিনি ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।

এর আগে শনিবার দিনগত রাতে উপজেলার সাওঘাট এলাকার শাহ আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া আনিছুর রহমান অপুর স্ত্রী সালমা আক্তারকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক।

এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী পরিদর্শক (এসআই) অলিউল্লাহ জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আরও খবর



ঘুরে আসুন মেঘ-পাহাড়ের শহর রাঙামাটি

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের বৃহত্তম পার্বত্য জেলা রাঙামাটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের স্বপ্নভূমি। প্রকৃতির সবুজ পাহাড় যেমন এ জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ, তেমনি অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ধরন তাতে এনে দিয়েছে অসামান্য বৈচিত্র্য। রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলার প্রতিটিতে রয়েছে পর্যটন প্রেমীদের জন্য দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়ায় মেঘ স্পর্শ করা থেকে শুরু করে কাপ্তাই হ্রদের জলে পা ভেজানো, সূর্যাস্ত উপভোগ করাসহ ভ্রমণ পিপাসা মেটানোর সমস্ত উপাদান সমৃদ্ধ এই জেলা। তাই পার্বত্য রাঙামাটিকে বলা হয় পর্যটনের তীর্থভূমি/তীর্থস্থান। ১০টি ভাষাভাষীর ১১টি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক কৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে হলে বছরের যেকোনো সময়ে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি।

রাঙামাটির দর্শনীয় স্থান : রাঙামাটিতে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে নয়নাভিরাম ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্না, কাপ্তাই হ্রদ, রাজবন বিহার, পুলিশ পলওয়েল পার্ক, উপজাতীয় জাদুঘর, আরণ্যক, ফুরমোন পাহাড়, সাজেক ভ্যালী, বার্গী পিকিনিক স্পট, বরগাঙ, কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প পিকনিক স্পর্ট, প্যনোরামো জুম রেস্তোরাঁ, গিরিনন্দিনী পিকনিক স্পর্ট। কাপ্তাইয়ে আছে বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফুলী পেপার মিলস। তবে এ দুটি স্থানে ভ্রমণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন আছে। রাঙামাটির এসব স্পট ভালোভাবে ঘুরে দেখতে গেলে কমপক্ষে ২-৩ দিন সময় হাতে নিয়ে আসতে হবে। নয়নাভিরাম বহুরঙা এই ঝুলন্ত সেতুটি দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে গড়ে দিয়েছে হৃদ্দিক সম্পর্ক। সেতুটি পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি আপনাকে এনে দেবে ভিন্ন দ্যোতনা। রাজবনবিহারের মনমুগ্ধকর নির্মাণশৈলী দেখে আপনি অবাক হবেন বৈকি! এখানে এসে ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দেখা পাবেন। গেরুয়া রঙের কাপড় পরিহিত নির্জনতা প্রিয় এইসব ভিক্ষুদের জীবনাচার সত্যিই অনুসরণযোগ্য।

এদিকে, পর্বত প্রেমীরা ফুরমোন পাহাড় চাইলে ঘুরে আসতে পারবেন। এ পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহর দেখা যায়।এমনিক মেঘ না থাকলে চট্টগ্রাম শহরও দৃষ্টিগোচর হয়। পর্বত প্রেমী পর্যটকরা যেতে পারেন সুভলং অভিমুখে। পাহাড় হ্রদের নিবিড় নৈকট্যে আপনার মনেও সৃষ্টি করতে পারে ভিন্ন এক অনুভূতি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উত্তর-পূর্ব কূল ঘেঁষে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালী। পাশেই ভারতের মিজোরাম। বর্ষাকালে সাজেক আচ্ছাদিত থাকে মেঘের চাদঁরে। তাই সাজেককে মেঘের বাড়িও বলা চলে। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অর্ন্তগত হলেও সড়ক পথে যোগাযোগ করতে হয় খাগড়াছড়ি দিয়ে। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৬৯ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। আঁকাবাঁকা স্বপ্নীল পাহাড়ী পথ পেরিয়ে যেতে হয় সাজেকে। পথিমধ্যে চোখ আটকে যাবে পাহাড়ী নদী কাচালং-মাচালং ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার দৃশ্য দেখে। সাজেকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় এনজিও সংস্থা ও ব্যক্তি মালিকাধীন পরিচালিত রিসোর্ট রয়েছে । পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে সাজেকে রাত্রিযাপন করা যায় এসব রিসোর্টে। এ ছাড়াও, স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও নিজস্ব থাবু নিয়ে সাজেকে রাত্রিযাপন করা যায়। খাবারের সুব্যবস্থাও রয়েছে রিসোর্টগুলোতে। তবে সাজেক গেলে রিসোর্টে আগে থেকে রুম বুকিং করে নেওয়া ভালো।

কীভাবে আসবেন : রাঙামাটি আসতে হলে ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল থেকে সরাসরি বাস ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশ্যে। ঢাকার এসব স্থান থেকে ইউনিক, রিলাক্স, শ্যামলী, ডলফিন, সেন্টমার্টিন, হানিফ পরিবহনের এসি/নন এসি বাস পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে রাঙামাটির বাস ভাড়া জনপ্রতি ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আছে। এদিকে, চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকেও রাঙামাটির সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে। এর মধ্যে লোকাল বাস ছাড়াও পাহাড়ীকা বাস ও রিলাক্স পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় প্রতি ৩০ মিনিট পর। বাসে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা এবং লোকাল বাসে ৩-সাড়ে ৩ ঘণ্টা। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া যায় বাস। এ ছাড়া, নিজস্ব গাড়ি অথবা ভাড়া করা মাইক্রো, কার, নিয়েও আপনি আসতে পারেন রাঙামাটি। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আসলে সময় এবং অর্থ দুইই সাশ্রয় হবে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের গাড়ি ভাড়া চাঁদের গাড়ি আসা যাওয়ায় ৬,০০০ টাক থেকে ৭,০০০ টাকা এবং মাইক্রো-কারে ৮,০০০-১০,০০০টাকায়। এ ছাড়াও, যারা মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করেন, তারা মোটরসাইকেলে করে সাজেকে যেতে পারেন। তবে পাহাড়ী উচুঁ-নিচু পথে অভিজ্ঞতা না থাকলে মোটরসাইকেল না চালানো উত্তম।

চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় ও কদমতলী বাস স্ট্যান্ড থেকেও খাগড়াছড়ির উদ্দেশে বাস ছেড়ে আসে। এদিকে এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই লেক যদি ভ্রমণ করতে চান, তাহলে প্রত্যেকটা পর্যটক ছোট-বড় অনেক বোট এবং স্পিড বোট ভাড়ায় পাওয়া যায়। প্রতিটি বোট ভাড়া সর্বনিম্ন ১,৫০০/- থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত । এদিকে একটি বিষয় উল্লেখ করে রাখা ভালো, রাঙামাটি শহর হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র রিকশাবিহীন শহর। এখানকার স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হলো অটোরিকশা। পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় টুরিস্টদের সিএজি আটোরিকশা ভাড়াটা একটু বেশি গুণতে হয়। সে ক্ষেত্রে গাড়িতে উঠার আগে ভাড়া দরদাম করে নেওয়া ভালো। যাতে করে বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়।

কোথায় থাকবেন : রাঙামাটি ভ্রমরণ আসা পর্যটকদের জন্য বেশকিছু ভালো মানের হোটেল-মোটেল-রেস্ট হাউজ ও রিসোর্ট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-শহরের ফিসারী ঘাট সংলগ্নে হোটেল হিল অ্যাম্বাসেডর, পৌরসভা কার্যালয় এলাকায় সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল, বনরুপায় নীডস হিল ভিউ, রিজার্ভ বাজার এলাকায় মতি মহল ও গ্রিণ ক্যাসেল ও পর্যটন কমপ্লেক্স।  শহরের রিজার্ভ বাজারে রয়েছে হোটেল নাদিশা, আনিকা।  আবার কমদামী কিছু হোটেলও আছে। যেমন মধুমিতা, সৈকত, শাপলা, ডিগনিটি, সমতা, উল্লেখযোগ্য। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের রেস্ট হাউস, গেস্ট হাউস এবং বাংলোগুলো নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ এবং অনুমতি সাপেক্ষে ভাড়া দেওয়া হয়।

প্রতি বছরই হাজারো মানুষ নগর জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে ইট পাথরের শহর ছেড়ে ভিড় জমায় এই রাঙামাটিতে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে সমতলের মানুষ উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কখন আবার ঘুরে আসবে অরণ্যের শহর রাঙামাটিতে।

নিউজ ট্যাগ: রাঙামাটি

আরও খবর



ইউক্রেনে হামলার পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন পুতিন

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর এই প্রথমবার বিদেশ সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রবিবার জানিয়েছে, এই সপ্তাহে মধ্য এশিয়ার দুটি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র সফর করবেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইউক্রেনে রুশ আক্রমণে কয়েক হাজার মানুষ নিহত, কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মস্কোর বিরুদ্ধে ভয়াবহ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চীন, ভারত ও ইরানের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য পুতিন এই নিষেধাজ্ঞাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

রুশ টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান সফর করবেন পুতিন। সফর শেষে মস্কো ফিরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ডুশানবেতে পুতিন বৈঠক করবেন তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমনের সঙ্গে। সাবেক এই সোভিয়েত রাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা নেতা রাখমন এবং রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। আশগাবাটে তিনি কাস্পিয়ান দেশগুলোর একটি সম্মেলনে যোগ দেবেন। এতে থাকবেন আজারবাইজান, কাজাখস্তান, ইরান ও তুর্কমেনিস্তানের নেতারা।

পুতিনের সর্বশেষ বিদেশ সফর করেছিলেন ফেব্রুয়ারির শুরুতে। ওই সময় তিনি চীনের বেইজিং সফর করেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই নেতা ঘোষণা দেন, তাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের কোনও সীমা নেই।

রাশিয়া দাবি করে আসছে, প্রতিবেশী দেশে ২৪ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরুর মূল কারণ হলো ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা, রাশিয়াকে হুমকি দিতে দেশটিকে পশ্চিমাদের দ্বারা ব্যবহার কমানো, জাতীয়তাবাদীদের উৎখাত এবং পূর্বাঞ্চলে রুশ ভাষাভাষীদের রক্ষা করা। ইউক্রেন এই আক্রমণকে সাম্রাজ্যবাদী স্টাইলে ভূমি দখল হিসেবে অভিহিত করছে।


আরও খবর