Logo
শিরোনাম

শুভ জন্মদিন, নির্মূল কমিটি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৪৩৬জন দেখেছেন
Image

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

পুরো নাম একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, একটি সংগঠনের জন্য নামটি যথেষ্ট লম্বা, বলতে সময় লাগে। কিন্তু গত ২৯ বছরে এটি এই দেশের জন্যে এতবার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে যে, আজকাল আর পুরো নাম বলতে হয় না, নির্মূল কমিটি বললেই সবাই বুঝে নেয় কাদেরকে নির্মূল করার জন্য এই সংগঠন। এটি যখন জন্ম নেয়, ১৯৯২ সনের ১৯শে জানুয়ারি, আমি তখন আমেরিকায়। তখন ই-মেইল ইন্টারনেটের জন্ম হয়নি, দেশের খবরা-খবর সরাসরি পাই না, ঘুরে ফিরে পেতে হয়। যেটুকু খবর পাই শুনে মন খারাপ হয়ে যায়। কিছু একটা করার ইচ্ছে করে, কী করবো বুঝতে পারি না। সমমনা যারা আছি তারা মিলে ভাবলাম, মুক্তিযুদ্ধের পর ঠিক দুই দশক পার হয়েছে, বিশ বছর পরনাম দিয়ে একটা সংকলন বের করা যাক, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব বিশিষ্ট মানুষজনের লেখা ছাপা হবে। দেশের বিশিষ্ট মানুষজনের ভেতর হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া আমি কাউকে চিনি না, আমাকেও কেউ চেনে না, তাই আমি বললাম আমি সম্পাদনার কাজটুকু করে দেব। কেউ যেন মনে না করে সম্পাদনার কাজটুকু খুব সহজ, কারণ অনেকে নিশ্চয়ই অনুমানও করতে পারবে না, ত্রিশ বছর আগে আমেরিকাতে বাংলায় একটা বই বের করতে হলে সেই বইটি কম্পোজ করার দায়িত্বও সম্পাদকের! কাজটুকু তখন গুরুতর কঠিন কারণ, তখনও কম্পিউটারে বাংলা লেখার কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। দায়িত্ব ঠিক আমার ঘাড়ে এসে পড়েছে, তার কারণ আমি কম্পিউটারে বাংলা লেখার একটা পদ্ধতি দাঁড়া করিয়েছি, উত্তর আমেরিকার অনেকেই সেই পদ্ধতি ব্যবহার করে তখন পত্র পত্রিকা বের করে।

সেই বইটি প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর নুরুন নবী, আমি যেরকম জবুথবু তিনি ঠিক সেরকম কাজের মানুষ। সবার সাথে যোগাযোগ আছে, সবাইকে চেনেন! তিনি সবার কাছ থেকে লেখা বের করে আনলেন, আমি সেই লেখাগুলো টাইপ করি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের লেখার শিরোনাম, বিশ বছরের বিষ-বাষ্প, ভিতরে লিখেছেন, বিশ বছর পর একটি কথাই চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছেবিশ বছরের বিষবাষ্পে সারা দেশ এবং জাতি আজ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে। কী ভয়ঙ্কর একটি কথা! কবীর চৌধুরীর লেখাটির শিরোনাম, স্বাধীন বাংলাদেশের বিশ বছর: হিসাব কি মেলে? প্রফেসর আনিসুজ্জামান এর লেখার প্রথম লাইনটিই ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের কুড়ি বছর পর দেশের হতশ্রী অবস্থা দেখে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, আমরা কী চেয়েছিলাম আর কী পেলাম? হুমায়ূন আহমেদ লিখেছে যুদ্ধাপরাধী শর্ষিনার পীর এর স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি নিয়ে, তার লেখার শেষ লাইন, হায়, এই দুঃখ আমি কোথায় রাখি?

পুরো বইয়ের প্রতিটি লেখা এরকম, একটি থেকে অন্যটি বেশি মন খারাপ করা। বইটি যখন বের হয়েছে সেটি হাতে নিয়ে বিষন্ন ভাবে দেখি এর মাঝে শুধু দুঃখ, হতাশা এবং ক্ষোভ। দেশ স্বাধীন হওয়ার বিশ বছর পর কেন শুধু দুঃখ হতাশা এবং ক্ষোভ থাকবে?

ঠিক তখন দেশ থেকে একটা বিস্ময়কর খবর পেলাম, ১৯৯২ সনের ২৬শে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালত করে সেখানে গোলাম আযমের বিচার করা হবে। আমরা কৌতূহল এবং উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি। বিচার শেষ হওয়ার পর একটু একটু করে খবর পেলাম। পুলিশ মঞ্চ করতে দেয়নি, মাইকও কেড়ে নিয়েছিল, দুটি ট্রাক পাশাপাশি জোড়া দিয়ে মঞ্চ বানিয়ে সেখানে গণআদালত করা হয়েছে। সেই গণআদালতে নাকি শুধু মানুষ আর মানুষ, বিশাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিল পরিমাণ জায়গা খালি ছিল না। বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। গণআদালতের বিচারের রায়ে গোলাম আযমকে দোষী সাব্যস্ত করে তার ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। বাসা থেকে চিঠিপত্র আসছে, সেখান থেকেও খবর পাচ্ছি, একটা খবর আমার জন্য খুবই চমকপ্রদ। আমার মা গণআদালতের সেই ট্রাক দিয়ে তৈরি মঞ্চে ছিলেন, বিশাল একটা ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের পরিবারেরও একটু স্পর্শ আছে। কী আশ্চর্য!

একটি বিশাল ঘটনা এমনি এমনি হয়ে যায় না। সেটি হওয়ার জন্য তার পেছনে কোনও না কোনও মানুষের কিংবা কোনও না কোনও সংগঠনের কাজ করতে হয়। এই গণআদালতের আয়োজন করেছে ৭২টি রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে তৈরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি। এর একমাস আগে ১৯শে জানুয়ারি জন্ম নিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। নির্মূল কমিটির সভাপতি শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। আমি জাহানারা ইমামকে চিনি তার একাত্তরের দিনগুলি বই থেকে। তিনি যে এত বড় একটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পারেন আমি সেটা জানতাম না।

বিশ বছর পর বইটি বের করার পর যেরকম মন খারাপ হয়েছিল, গণআদালতের পর তার অনেকটুকুই কেটে গেল। আমরা সবাই কেমন জানি উজ্জীবিত হয়ে উঠলাম। মনে হলো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক ধরনের উদ্দীপনা এবং রাজাকারদের নিয়ে এক ধরনের তীব্র ঘৃণা জন্ম নিতে শুরু করেছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথাগুলো প্রায়ই উচ্চারিত হতে লাগল।

এর মাঝে একদিন জানতে পারলাম জাহানারা ইমাম নিউ ইয়র্কে আসছেন। আমাদের উত্তেজনার শেষ নেই। যখন এসেছেন একদিন আমি তার সাথে দেখা করতে গেলাম, হাতে তার লেখা একাত্তরের দিনগুলি বইটি। খুবই মুখ কাচুমাচু করে বললাম, আপনি আমাকে চিনবেন না, আমার বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদআমার নাম মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

জাহানারা ইমাম আমাকে থামিয়ে বললেন, আমি তোমাকেও চিনি, তোমার একটা বই আছে বইটার নাম কপোট্রনিক সুখ দুঃখ—”, তারপর আমার সেই বইটা সম্পর্কে খুবই দয়ার্দ্র কিছু কথা বললেন। শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম এবং সেই মুহূর্তে আমার জীবনের একটা বড় পরিবর্তন হলো। আমি একটু আধটু লেখালেখি করি, দেশে মাঝে মাঝে সেই বই প্রকাশিত হয়, বইয়ের ভালো-মন্দ জানি না, কেউ সেই বই কোনোদিন পড়ে কিনা তারও খবর পাই না, কাজেই তখন লেখালেখি নিয়ে আমার কোনও উৎসাহ বা আগ্রহ নেই। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের দয়ার্দ্র কথা শুনে আমার মনে হলো, তাঁর মতো একজন মানুষ যদি আমার বই নিজ থেকে আগ্রহ নিয়ে পড়তে পারেন তাহলে আমি কেন লিখব না? আমাকে লিখতেই হবে। যা হয় হোক, আমি লিখে যাব। সেই যে লেখালেখি শুরু করেছি আর থামিনিএখনো লিখে যাচ্ছি!

আমি একাত্তরের দিনগুলি বইটিতে জাহানারা ইমামের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য তার হাতে দিয়ে বললাম, এই বইটি পড়তে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। জাহানারা ইমাম বললেন, এই বইটি লিখতে আমারও খুব কষ্ট হয়েছে, আমি বুকে পাথর বেঁধে এই বইটি লিখেছি।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সাথে সেই যে আমার একটা আন্তরিক সম্পর্ক হয়ে গেল সেটি তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বজায় ছিল। আমেরিকায় গাড়ি করে যাবার সময় পেছনের সিটে তাঁর সাথে বসে কতো কী গল্প করেছি! আমি খুব অবাক হয়ে দেখতাম, যেই মানুষটি বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে একটি বিশাল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, যার ভয়ে রাজাকার আলবদরেরা থর থর কম্পমান, সেই মানুষটি আসলে একেবারে ছোট একটি বাচ্চা মেয়ের মতো সহজ সরল!

মনে আছে, যখন আমরা টের পেলাম এই পৃথিবীতে তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে তখন নিউইয়র্ক নিউজার্সি এলাকা থেকে আমরা অনেকে সারারাত গাড়ি চালিয়ে মিশিগানে তাঁর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের কেবিনে অল্প কিছক্ষণের জন্য আমরা দুইজন দুইজন করে তাঁর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, তখন মুখে আর কথা বলতে পারেন না। কাগজে লিখে আমাদের সাথে বক্তব্য বিনিময় করলেন। আমাদের সান্ত্বনা দিলেন, তারপর কাগজে লিখলেন, একদিন দেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে।

এর কয়দিন পর তিনি মারা গেলেন। বিশ্বাস করা কঠিন, তখনও তিনি খালেদা জিয়া সরকারের দেওয়া দেশদ্রোহীর মামলার আসামি! যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে তাঁর কথা অবশ্য ভুল হয়নি। প্রায় আট বছর আগে এই দেশে সত্যিই যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হয়েছে। সেই বিচারে অনেকের অপরাধ প্রমাণিত হয়ে রায় হয়েছে, শাস্তি হয়েছে, শাস্তি কার্যকর হয়েছে। বিচার শেষ হয়নি, এখনো চলছে। গণআদালত দিয়ে সেই যে মানুষের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসা এবং যুদ্ধাপরাধীদের জন্য প্রবল ঘৃণার জন্ম হয়েছিল সেটি কখনোই থেমে যায়নি। আমি বিস্ময় নিয়ে দেখি, এখন নূতন প্রজন্মের ভেতরেও সেই আবেগটুকু সঞ্চারিত হয়েছে।

১৯৯৪ সালে জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর নির্মূল কমিটির আন্দোলন থেমে গেলে কিংবা কমে গেলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু সেটা হয়নি। একজনের পর একজন নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন। মনে হয় এটি সবচেয়ে দীর্ঘদিন থেকে চলমান একটি আন্দোলন। এর অনেকগুলো বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য আছে। আমার মনে হয় তার সবচেয়ে প্রথমটি হচ্ছে এর সুবিশাল ব্যাপ্তি, বাংলাদেশের বিশিষ্টজনদের প্রায় সবাই কোনও না কোনোভাবে এর সাথে জড়িত, সেই কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, অধ্যাপক আহমদ শরীফ, কথাশিল্পী শওকত ওসমান, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী থেকে শুরু করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রায় সব বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক পেশাজীবীরা, এরপর তার পরের প্রজন্ম, এখন তার পরের প্রজন্মের তরুণেরা এসেছে, আসছে। নামটিতে একাত্তরের ঘাতক দালাল’দের নির্মূলের কথা বলা হলেও এটি এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা থেকে শুরু করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন এর সবকিছুতে সোচ্চার। মনে হয় এই দেশের মূল আদর্শের বিরুদ্ধে পান থেকে চুন খসলেও সেটি নির্মূল কমিটির নজর এড়ায় না! তারা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। নির্মূল সমন্বয় কমিটি আরো একটি বড় কাজ করেছিল, সেটি হচ্ছে কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে গণতদন্ত কমিশন তৈরি করে দুটি অসাধারণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। জোট সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছিল তার উপর নির্মূল কমিটি তিন খণ্ডে প্রায় তিন হাজার পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, এছাড়াও হেফাজতের তাণ্ডব, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের উপর হাজার হাজার পৃষ্ঠায় শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। শুধু আবেগীয় কথায় নির্মূল কমিটির আগ্রহ নেই, তারা তথ্য প্রমান হাজির করে দেয়। এই দেশে নির্মূল কমিটি যত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে তার কোনো তুলনা নেই।

নির্মূল কমিটির এই বিশাল কর্মকাণ্ডে অনেকেই জড়িত, তাদের সবার কাছে এই দেশ কৃতজ্ঞ থাকবে। আমি শাহরিয়ার কবিরের নাম আলাদাভাবে মনে করিয়ে দিতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের জন্য একজন মানুষের এত তীব্র ভালোবাসা থাকতে পারে নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না! (তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য খুব ভালো লিখতেন, নির্মূল কমিটির জন্য সময় দিতে গিয়ে তাদের জন্য লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছেন! এই দেশের শিশু-কিশোরদের অনেক বড় ক্ষতি হলো!) জোট সরকারের আমলে প্রতিহিংসার কারণে শাহরিয়ার কবির জেল খেটেছেন, যেদিন জেল থেকে বের হবেন সেদিন মুনতাসির মামুনের সাথে আমি জেলগেটে হাজির ছিলাম। এই দেশকে ভালোবাসার জন্য একজন মানুষকে কত কষ্ট করতে হয় আমি নিজের চোখে দেখেছি। যুদ্ধাপরাধী শর্ষিনার পীরকে স্বাধীনতা পদক দিয়ে এই দেশকে অনেক বড় অপমান করা হয়েছে, অথচ মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মানিত করার বেলায় শাহরিয়ার কবিরকে কারো চোখে পড়ে না ভেবে আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই!

এই দেশের বিবেক একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ২৯ বছরে পা দিচ্ছে। এই অসাধারণ, ঐতিহাসিক সংগঠন এবং তার সাথে জড়িত সবার জন্য অভিনন্দন।

নতুন তরুণ প্রজন্ম এই বিশাল সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আমি সেই স্বপ্ন দেখছি।

লেখক: শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও কথাসাহিত্যিক।


আরও খবর



জেরুজালেমের যমজ ভাই-বোন এখন আন্দোলনের মধ্যমণি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৮ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৯২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের শেখ জারাহ মহল্লায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

উচ্ছেদের হুমকিতে থাকা শেখ জারার চারটি ফিলিস্তিনি পরিবারের মধ্যে একটি এল-কুর্দ পরিবার। রবিবার ইসরায়েলি পুলিশ ওই বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছরের তরুণী মুনা এল কুর্দকে ধরে নিয়ে যায়। খবর বিবিসির।

তিনি এবং তার জমজ ভাই মোহাম্মেদ এল কুর্দ গাজার বেশ পরিচিত মানবাধিকার কর্মী। বোনের আটকের খবর পেয়ে তার ভাই মোহাম্মেদ এল কুর্দ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে স্বেচ্ছায় ধরা দেন।

জমজ এই ভাইবোনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের পুলিশ স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করলে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

মুনা এবং মোহাম্মেদের বাবা নাবিল এল কুর্দ পরে সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ ঘরে ঢুকে পুলিশের তল্লাশি এবং মেয়েকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি হতবাক হয়ে পড়েছিলেন।

কেন বিনা উস্কানিতে মুনা কুর্দকে ইসরায়েলি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়? পুলিশের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পূর্ব জেরুসালেমে দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে করা এক মামলায় তাকে আটক করা হয়।

মুনা বা তার ভাই মোহাম্মেদ নিজেরা শেখ জারাহ বা আল আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরায়েলি পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়েছিলেন কিনা বা ছুঁড়তে উৎসাহ দিয়েছিলেন কিনা তা নিশ্চিত নয়, কিন্তু এই দুই যমজ ফিলিস্তিনি ভাই-বোন এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন।

বিশেষ করে শেখ জারাহ থেকে ফিলিস্তিনি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে প্রতিবাদ তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন এই দুই ভাই-বোন।

রবিবার যখন তাদের আটকের খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, মুহূর্তের মধ্যে তাদের প্রচুর সমর্থক দলে দলে পূর্ব জেরুজালেমের ওই পুলিশ স্টেশনের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সে সময় পুলিশের ছোঁড়া স্টান গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ডজন-খানেক ফিলিস্তিনি জখম হয়েছে।

গত ক'মাসে তরুণ বয়সী এই দুই ভাই-বোন শেখ জারাহ থেকে উচ্ছেদ ঠেকানোর আন্দোলন এবং সার্বিকভাবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিবাদ আন্দোলনের অত্যন্ত পরিচিত দুই মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বিশেষ করে সোশাল মিডিয়ায় এই আন্দোলনে তারা কার্যত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা দু'জনই টুইটার এবং ইনস্ট্রগ্রামসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্লাটফর্মে খুবই সরব।

ইনস্টাগ্রামে মুনার ফলোয়ারের সংখ্যা এখন ১৩ লাখের মত। টুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলছেন মার্চ মাসে কিন্তু এরই মধ্যে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ৬৪ হাজার। দিনে দিনে সেই সংখ্যা বাড়ছে।

টুইটারে তার ভাই মোহাম্মেদের ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি।

তিন মাস আগে মুনা 'সেভশেখজারাহ' (শেখ জারাহকে বাঁচাও) হ্যাশটাগে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ক্যাম্পেইন শুরু করেন সেটাই সারা বিশ্বের ফিলিস্তিনি এবং তাদের সমর্থকদের নজর কাড়ে এবং দ্রুত তা বড় একটি আন্দোলনে দানা বাঁধে।

মোহাম্মেদ এই মুহূর্তে জেরুজালেমে থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য নিউইয়র্কে থাকেন তিনি। কিন্তু সেখানে বসেই ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি অনলাইনে এবং মূলধারার মিডিয়াতে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

বয়স মাত্র ২৩ হরেও সিএনএন, গার্ডিয়ান বা আল জাজিরাসহ প্রথম সারির মিডিয়ায় তার একাধিক সাক্ষাৎকার এবং লেখা প্রচার হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের ইতিহাস নিয়ে লেখা তার একটি বই বর্তমানে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।



আরও খবর



৬ দফা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | ৬৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। সোমবার (৭ জুন) ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস।

জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য প্রতিবাদী ও আত্মত্যাগের সংগ্রামী একটি দিন। ৬ দফার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন যার পরিণতি রূপ নেয় মহান মৃক্তিযুদ্ধে।

পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর জেঁকে বসা পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের চাকায় পিষ্ট বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত এই ৬ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন-সংগ্রামই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ রচিত হয়। ৬ দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র সমাজের ৫ দফা দাবি যুক্ত হয়ে ১১ দফা দাবিতে পরিণত হয় এবং এই ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৬৯ এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। এই গণঅভ্যুন্থানের পথ ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির বিজয় সূচিত হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণ ব্রিটিশ শাসন ও শোষকদের এদেশ থেকে তাড়াতে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ৬ দফাকে তৎকালীন পূর্ববাংলার জনগণ পাকিস্তানিদের এদেশ থেকে তাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ৬ দফার প্রতিটি দফা বাংলার আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। আত্মঅধিকার প্রতিষ্ঠার ৬ দফা দ্রুত বাঙালির মুক্তির সনদে পরিণত হয়।

১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পল্টনের এক জনসভায় ৭ জুন হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জুন মাসব্যাপী ৬ দফা প্রচারে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়। ৭ জুন তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল বেভারেজের শ্রমিক সিলেটের মনু মিয়া গুলিতে প্রাণ হারান। এতে বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তেজগাঁওয়ে ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আজাদ এনামেল অ্যালুমিনিয়াম কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন ইপিআরের গুলিতে শহীদ হন। একই দিন নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যান ৬ জন শ্রমিক। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সন্ধ্যায় কারফিউ জারি করা হয়। হাজার হাজার আন্দোলনকারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হন। বহু জায়গায় বিক্ষুব্ধ জনতা গ্রেফতারদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন সারাদেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্দোলন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় হলো ৬ দফা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া। ৬ দফার পক্ষে জনমত সংগঠিত করার লক্ষ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ আন্দোলন শুরু করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় তাকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বার বার গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৬ সালের প্রথম তিন মাসে তিনি ৮ বার গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০-এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিচালিত ৬ দফা আন্দোলই ছিল সেই সময়ে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু।

এই ৬ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান অনুষ্ঠিত হয়। ৬ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন। এর পর ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা বাঙালি জাতি বিপুল বিজয় পায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। এরপর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি বিশ্বের বুকে স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।



আরও খবর



সিরিয়ায় বোমা হামলা, শিশুসহ নিহত ১৮

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহী অধ্যুষিত আফরিন শহরে গোলাবারুদের হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার ওই হামলা চালানো হয়েছে।

একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই একটি হাসপাতালের। ওই হাসপাতালও হামলার শিকার হয়েছে।

সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, আল সিফা হাসপাতালে হামলার ঘটনায় এক চিকিৎসক, তিন হাসপাতাল কর্মী, দুই নারী এবং দুই শিশু নিহত হয়েছে। হামলায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক কমান্ডারও নিহত হয়েছেন।

পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় ২৩ জন আহত হয়েছে। সংস্থার পরিচালক রামি আবদেল রাহমান এএফপিকে জানিয়েছেন, শহরের হাসপাতালসহ বেশ কিছু স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই হাসপাতালের। আহত বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো প্রদেশ থেকে কামানের গোলা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। তবে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক বিবৃতিতে এই হামলায় কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

ওই এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। আর এতে বহু বেসামরিক প্রাণ হারাচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিরোধী অধ্যুষিত ইদলিবে হামলার ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়।

সিরিয়ায় ২০১১ চাল থেকে চলা দীর্ঘদিনের সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।


আরও খবর



আরও বাড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে আগামী ২৯ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। কিন্তু চলমান লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ানো হলো।

বুধবার (২৬ মে) দুপুর ১২টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ক্লাস নিতে পারব।

এর আগে গত রোববার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, মহামারি মোকাবিলায় চলমান লকডাউন তথা বিধিনিষেধের সময়সীমা বৃদ্ধির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু দেশের চলমান লকডাউন ৩০ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে নতুন করে আরও এক সপ্তাহ ছুটি বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে যদি লকডাউন তুলে দেওয়া হয় তাহলে স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি শুরু করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সপ্তাহে ছয় দিন তাদের ক্লাস নেওয়া হবে। অন্য স্তরের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ক্লাস নেওয়া হলেও অনলাইন ও অফলাইনে চলবে নিয়মিত ক্লাস।

মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে দিশেহারা বিশ্ববাসী। বাংলাদেশেও প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন শত শত মানুষ। মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এ ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে। চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।



আরও খবর



৫৩ দিন পর ফিরোজায় ফিরছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশিত:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৪৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চিকিৎসা শেষে ৫৩ দিন পর গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার পর তিনি এয়ারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলাদেশ জার্নালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল পোস্ট কোভিডসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। এর ৬ দিন পর (৩ মে) শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলে গত ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে কেবিন ফিরিয়ে আনা হয়।

গত ১৪ এপ্রিল গুলশানের বাসা ফিরোজায় করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। করোনামুক্ত হন গত ৯ মে।


আরও খবর