Logo
শিরোনাম

উদ্বোধনের পর মধুমতি সেতুতে কোটি টাকার টোল আদায়

প্রকাশিত:শুক্রবার ১১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ২৩০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা পয়েন্টে মধুমতি সেতু উদ্বোধনের পর এক মাসে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি দুই লাখ ৯৬ হাজার ৬৯০ টাকা। গত ১১ অক্টোবর রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে বুধবার (৯ নভেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত এ টোল আদায় করা হয়।

যানবাহন চলাচল শুরুর প্রথম এক মাসে সেতু পারাপার হয়েছে ছোট-বড় এক লাখ পাঁচ হাজার ৪২৫টি যানবাহন। গোপালগঞ্জ সড়ক বিভা‌গের উপ‌বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমা‌রেশ বিশ্বাস টোল আদা‌য়ের তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন।

গত ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধনের পর মধুমতি সেতু সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ওই দিনগত রাত ১২টা ১মিনিটে যান চলাচল শুরু হয়। এ সেতুতে ঢাকা-কলকাতা রুটের বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করছে। 

মধুমতি সেতুতে টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে, বড় ট্রেইলার ৫৬৫ টাকা, তিন বা ততোধিক এক্সেল বিশিষ্ট ট্রাক ৪৫০ টাকা, দুই এক্সেল বিশিষ্ট মিডিয়াম ট্রাক ২২৫, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, কৃষি কাজে ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ১৩৫ টাকা, বড় বাসের ক্ষেত্রে ২০৫ টাকা, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, কনভারশন জিপ ও রেন্ট-এ-কার ৯০ টাকা, প্রাইভেটকার ৫৫ টাকা, অটোটেম্পু, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহন ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা এবং রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেল পাঁচ টাকা।

সেতুটি চালু হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে নড়াইল, যশোর, খুলনা, বেনাপোল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কমেছে পথের দূরত্ব। ফলে ভোগান্তি ছাড়াই পার হওয়া যাচ্ছে মধুমতি নদী।


আরও খবর



পরিসংখ্যানে মেক্সিকো থেকে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে পরাজয়ে স্নায়ুচাপে আর্জেন্টিনা। সামনে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বের অনির্ধারিত ফাইনালে দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। দল হিসেবে কঠিন প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। তবে পরিসংখ্যান এগিয়ে রাখছে আলবিসেলেস্তেদের। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে মেক্সিকো থেকে ১০ ধাপ এগিয়ে আকাশী-সাদা জার্সিধারীরা। র‍্যাংকিংয়ে আর্জেন্টিনা ৩-এ আর মেক্সিকো ১৩-তে রয়েছে। তাই দল হিসেবে মেক্সিকো মোটেই দুর্বল নয়।

আর্জেন্টিনা ১৭ ম্যাচে ১১ জয় আর ৬ ড্রয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে মেক্সিকো ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৮ ম্যাচে জয়, ৪ ম্যাচে ড্র করে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনির দল। দুই দলের মোট ৩৫ বারের দেখায় লে আলবিসেলেস্তেরা ১৬ ম্যাচে জয় পেয়েছে আর এল ট্রিরা জিতেছে পাঁচবার। ড্র হয়েছে ১৪ ম্যাচে।

সবশেষ দুই দলের দেখা হয়েছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। এই প্রীতি ম্যাচে মেক্সিকানদের ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আর্জেন্টাইনরা। হ্যাটট্রিক করেন লতারো মার্টিনেজ।

অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চের পরিসংখ্যানও মেসিদের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে মেসিদের একবারও হারাতে পারেনি কোচ টাটা মার্তিনোর দল। তিনবারের দেখায় প্রতিবারই জিতেছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সবশেষ, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-১ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টাইনরা। এখন দেখার বিষয়, মরুর বুকে প্রথম বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকানদের বিজয় উল্লাস নাকি মেসিদের স্বস্তির জয়।

নিউজ ট্যাগ: কাতার বিশ্বকাপ

আরও খবর

রোনালদোকে টপকে গেলেন মেসি

রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২




৭ দিনের মধ্যে সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর 2০২2 | ৪৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সারাদেশের সকল অবৈধ ইটভাটা ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার আগামী সাত দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করতে বলেছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিব এবং পরিবেশ সচিবকে এ নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে গণমাধ্যমে আসা কয়েকটি প্রতিবেদন যুক্ত করে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিটটি করা হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুসারে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইট ভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধ এমন বিধান থাকলেও বাংলাদেশের বেশির ভাগ জেলায় শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করছে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এই মর্মে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে গত ১৩ নভেম্বর এইচআরপিবি হাইকোর্টে রিট করে।


আরও খবর



‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না’

প্রকাশিত:বুধবার ১৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি জাপানি রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, নির্বাচন এদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। তাদের ডেকে সতর্ক করা হবে।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় সময় ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে গাছের পরিচর্যা কার্যক্রমের উদ্বোধন কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে দুর্ভিক্ষ আসার কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়াও ডলার সংকটটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। ইউক্রেন যুদ্ধের শেষে সমস্যা আর থাকবে না বলে জানান মন্ত্রী। খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি ডলার সংকট সমাধানে কাজ করছে সরকার।

মুজিবনগর এসে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মন্ত্রী ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আম্রকাননের সার্বিক পরিচর্যা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং পাশে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন, কৃষি মন্ত্রালয়ের সিনিয়র সচিব সায়েদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, জেলা পুলিশ সুপার রাফিউল আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ হিসেবে গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আমাদের সৌভাগ্য ২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ৮৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

এ সময় মিলিটারির নবীন অফিসারদের উদ্দেশ্যে- প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের নবীন অফিসাররাই হবে ২০৪১ এর সৈনিক। যারা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। দুর্যোগ-দুর্বিপাক সবক্ষেত্রেই সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ৭৫ সালের পর দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তখন সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়। জাতির পিতাই বলেছেন- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, আমরা তা মেনে চলছি। সেভাবে আমরা আমাদের দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য স্থির করে আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সাল পালন করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছি।

সেখান থেকে দুপুরে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে আসবেন। স্টেডিয়াম থেকে গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রী পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৩টায় দলীয় জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।


আরও খবর



‘রিজার্ভের টাকা কেউ চিবিয়ে খায়নি, গিলেও খায়নি, নিয়েও যায়নি’

প্রকাশিত:শনিবার ১২ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভের টাকা কেউ চিবিয়ে খায়নি, গিলেও খায়নি আর নিয়েও যায়নি। আজ শনিবার সকালে গণভবনে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরোধী দল থেকে প্রায়ই রিজার্ভের টাকা গেল কোথায় এ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন করে। সেই সঙ্গে সঙ্গে সারা বাংলাদেশে একটা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করে। তাদের আমি বলতে চাই, বিএনপির যখন ক্ষমতায় ছিল তখন রিজার্ভ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এটা বৃদ্ধি পেয়েছিল মাত্র ৫ বিলিয়নের মতো। সেই জায়গা থেকে আমরা এই রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়নের কাছাকাছি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ-যাতায়াত-আমদানি সবকিছু পায় বন্ধ ছিল। যখন এই যোগাযোগটা খুলে গেছে, তখন আমাদের আমদানি করা, বিশেষ করে সারা বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক যে মন্দা দেখা দিয়েছে, তার আঘাতটা আমাদের দেশে এসে পড়েছে। আজকে রিজার্ভের টাকা থেকে আমাদের যেমন আমদানি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে, পাশাপাশি আমরা বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিয়েছি। করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থাও বিনা পয়সায় করেছি। পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশ বিনা পয়সার টেস্টের ব্যবস্থা করেনি, ভ্যাকসিনও দেয়নি। আমরা নগদ টাকা দিয়ে প্রথমে ভ্যাকসিন কিনি। এরপরে আমরা অনুদান পেয়েছি। আমরা কিন্তু নগদ টাকা দিয়ে কিনি।

খাদ্যপণ্যের দাম কিন্তু সারা বিশ্বে বেড়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। জ্বালানি-ভোজ্য তেল, গম, ভুট্টা, ডালযা কিছু আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। আমরা চাল উৎপাদন করছি, খাদ্য উৎপাদন করছি। আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ, তারপরও আমাদের আমদানি করতে হয়। যখন বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে ফসল নষ্ট হলো তখন আমাদের ফসল আমদানি করতে হয়েছে। আমরা যেটুকু খরচ করেছি সেটা জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। জনগণের খাদ্য, ক্যানসারের ওষুধ কেনা...জনগণের মঙ্গলের জন্য আমাদের করতে হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ আমাদের কিন্তু কিনতে হচ্ছে। নগদ টাকা দিয়ে আমরা কিনছি। তা ছাড়া, আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে আমরা কিন্তু বিমান কিনেছি। নদী ড্রেজিং, সেটাও আমরা নিজেদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে করছি, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু কিছু আমরা বিনিয়োগ করছি এই কারণে সেটা হলো, আমরা যদি অন্য দেশ থেকে লোন নিই আমাকে সুদসহ সেই ডলার পরিশোধ করতে হয়। আমাদের ডলার যদি আমরা খরচ করি, আমরা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দিচ্ছি, তাতে করে সুদসহ টাকাটা..আমাদের দেশের টাকা দেশেই থেকে যায়। সেটাকে লক্ষ করে ৮ বিলিয়নের মতো আমরা খরচ করেছি। যখন শ্রীলঙ্কা খুব অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে তাদেরকেও কিছু টাকা আমরা ধার দিয়েছি।

এখানে কিন্তু পয়সা কেউ তুলে নিয়ে চলে যায়নি। তাদের মনে সব সময় ও রকম ভয় থাকে, এ কথা তারা বলে। বিএনপি বিশেষ করে বলবে। বলার কারণটা হচ্ছে, তাদের নেতা তারেক জিয়া মানি লন্ডারিং কেসে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড পেয়েছে এবং সে পলাতক আসামি। মানি লন্ডারিং যাদের অভ্যাস তারা শুধু ওইটাই জানে টাকা বোধ হয় সব নিয়ে যেতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের একটা অর্থও অপচয় করে না। প্রতিটি অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে-কল্যাণে এবং তাদের ভালো-মন্দ দেখে, বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, টাকা কেউ চিবিয়ে খায়নি, গিলেও খায়নি আর নিয়েও যায়নি। তবে হ্যাঁ, বিএনপি বলবে। তারা নিজেরা চুরি করে অর্থ-সম্পদ বানিয়েছে। কারণ তাদের তো কিছুই ছিল না। জিয়াউর রহমান যখন মারা যায়, আমরা ৪০ দিন টেলিভিশনে দেখেছি, ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া কিছু রেখে যায়নি। পরবর্তীতে দেখি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক তারা। জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেই তারা তা হয়েছে।

সবাইকে উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে। বিশ্বব্যাপী একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, তারপর করোনা, তার ওপর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা; যার ফলাফলে আজকে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম-পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে নিজেদের সফল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিশ্চয়তার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মাটি মানুষ আছে, আমরা তা করতে পারবো। যাদের নিজের জমি আছে সেখানে যাতে চাষ হয় সে ব্যবস্থা নেবেন। যদি কখনো বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় আমাদের বাংলাদেশে যেন সেই ধাক্কা কোনোভাবেই না লাগে। আমাদের সাবধানতা আমাদেরই নিতে হবে।

আমরা চাই, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। আমরা বঙ্গবন্ধু টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল তৈরি করছি। সবগুলোতেই আমাদের টাকা খরচ করতে হচ্ছে। রিজার্ভের টাকা তো লাগছে। এটা তো বাস্তবনা। মানুষের যোগাযোগ-চলাচল আরও সহজ হয় যাতে তার ব্যবস্থা করছি। আমরা সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশ পথ; সবগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি। এটা আকাশ থেকে পড়েনি। বেশিরভাগ কাজ আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে করছি। যেন কারো কাছে হাত পেতে চলতে না হয়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও খবর