Logo
শিরোনাম

উপসর্গহীন করোনা রোগীরা যা করবেন

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ৮৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেশে এক দিনে করোনা আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় সবাই রয়েছে আতঙ্কে। আর তাই আগ্রহ বেড়েছে পরীক্ষা করানোরও। করোনায় বেশিরভাগ আক্রান্তেরই এখন খুব সামান্য উপসর্গ দেখা যায়। অনেকের আবার করোনা পজিটিভ এলেও তেমন কোনো উপসর্গই থাকে না। 

করোনার উপসর্গ না থাকলেও তাদের যেভাবে থাকতে হবে আর যেসব বিষয় মেনে চলতে হবে-

*    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফ, শ্বাসকষ্ট, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা, ক্লান্তি, স্বাদ ও গন্ধহীনতা ইত্যদি নেই, তারাই উপসর্গহীন। উপসর্গহীন আক্রান্তদের থেকে কোভিড বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য তাদেরকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে ও কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলতে হবে।

*   আক্রান্তরা বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে আলাদা রুমে থাকবেন

*   সঙ্গে থাকতে হবে পালস অক্সিমিটার ও ডিজিটাল থার্মোমিটার

*   সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে

*   নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

*    হোম আইসোলেশনে থাকা কোভিড আক্রান্তের সঙ্গে দেখা করতে কেউ আসতে পারবেন না

*    একজনকে থাকতে হবে শুধু নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার ও প্রয়োজনীয় সব কিছু তাকে দেওয়ার জন্য

*    যিনি রোগীর দেখভাল করবেন তাকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে

*    মন খারাপ করে না থেকে এই ১৪ দিন নিজেকে ব্যস্ত রাখুন সৃজনশীল কোনো কাজে

*    পড়াশোনা করুন, গান শোনা, মুভি দেখা ছবি আঁকা, অনলাইনে কোনো কোর্স করা, এখন তো অনেক অপশন রয়েছে

*    হালকা ব্যায়াম, মেডিটেশন ও প্রথর্না করলে সুস্থ থাকার পাশাপাশি মানুসিক চাপও কমবে

*    জরুরি প্রয়োজনে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

কোভিড আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি ঘরোয়া চিকিৎসা এবং ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে।



আরও খবর

গাজরের মালাই পাটিসাপ্টা

রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১

মেজবানি মাংস রান্না করবেন যেভাবে

বৃহস্পতিবার ২২ জুলাই ২০২১




করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশিত:সোমবার ১২ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ জুলাই ২০২১ | ৮০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ইতিমধ্যে করেছেন নিবন্ধন। তবে কবে টিকা নিতে পারবেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কারণ অনলাইন নিবন্ধনের পর এখনো তিনি ফিরতি এসএমএস পাননি।

সোমবার বিকালে টিকার জন্য খালেদা জিয়ার নিবন্ধন করার নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল বলেন, ডা. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন চেয়ারপারসন টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

জানা গেছে, গত ৯ জুলাই সুরক্ষা অ্যাপ থেকে টিকার নিবন্ধন করেছেন করোনা থেকে সেরে ওঠা বেগম খালেদা জিয়া। মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে টিকা নেয়ার কথা রয়েছে।

খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয় গত ১৪ এপ্রিল। প্রথম দিকে বাসায় চিকিৎসা নিলেও পরে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ৯ মে তার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। তারপরও শারীরিক সমস্যা থাকায় প্রায় দেড় মাস তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়। কিছুদিন সেখানকার করোনারি কেয়ার ইউনিটেও (সিসিইউ) রাখা হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৪ দিন চিকিৎসার পর গত ১৯ জুন রাতে তিনি গুলশানের বাসায় ফেরেন। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও হাসপাতালে জীবাণু এবং দেশে করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণের মধ্যে ঝুঁকি এড়াতে খালেদা জিয়াকে বাসায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাসাতেই আছেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এখনো খালেদা জিয়ার করোনাপরবর্তী চিকিৎসা চলছে।


আরও খবর



পুরনো বন্ধু রূপে মেসি-নেইমার

প্রকাশিত:রবিবার ১১ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

লিওনেল মেসি ও নেইমারের বন্ধুত্ব বেশ পুরনো। একসময় বার্সেলোনায় একে অন্যের সতীর্থ ছিলেন।

একসঙ্গে জিতেছেন বেশকিছু শিরোপা। পরে দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেলেও বন্ধুত্বে এতটুকু মরচে ধরেনি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের সময় সেই বন্ধুত্ব এক পাশে সরিয়ে রেখে শিরোপা জেতার দিকে সব নজর দেন নেইমার জুনিয়র। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেননি কেউ কাউকে।

এমনকি তাতে যদি বন্ধুত্ব ভেঙেও যায় তাহলেও একচুলও ছাড় দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন ব্রাজিল তারকা।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অবশ্য ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ট্রফি জিতেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা। রবিবার ঐতিহাসিক মারাকানায় আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে উদযাপনে মাতে আলবিসেলেস্তারা।

একইসঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথম কোনো মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

এই শিরোপা জয়ে কোপা আমিরেকার সর্বোচ্চ ট্রফি ঘরে তোলার রেকর্ডে উরুগুয়ের পাসে বসলো আর্জেন্টিনা। এবার ১৫তম শিরোপা জিতল ম্যারাডোনার দেশ।

ম্যাচ শেষে অবশ্য পুরনো সেই বন্ধু রূপে দেখা যায় মেসি-নেইমারকে। একজন আরেকজনকে আলিঙ্গন করেন। 


আরও খবর



৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধই থাকছে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ৩৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কঠোর লকডাউনে আগামী ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু শিল্প-কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু এসময়ের মধ্যে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা খোলার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বিধিনিষেধ চলাকালীন গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা বন্ধই থাকছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল-কারখানা, কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে।

শিথিলতা শেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার।


আরও খবর



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ ও তার সংগ্রামী জীবন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ | ১৩৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্রতি বছর হাজারো নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে বের হচ্ছেন। দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হিসেবে উচ্চতর জীবনদর্শন ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এই নারীগণ দেশে ও বিদেশে নিজ নিজ ক্ষেত্রেবিশেষে যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু এই গৌরবময় ইতিহাসের সূচনা যার হাত ধরে, তাকে ভুলে গেলে চলবে কি করে? বলছি লীলা নাগের কথা। চলুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রথম ছাত্রীর ব্যক্তিগত ও সংগ্রামী জীবনের উপর কিছুটা চোখ বুলিয়ে নিই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ, এই তথ্যটির সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত। তার হাত ধরেই ঢাবিতে নারী শিক্ষার সূচনা। ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংগ্রহশালায় লীলা নাগের ছবিসহ এই তথ্যটির উল্লেখ আছে। তবে শুধু এই একটি কারণেই নয়, লীলা নাগ পরিচিত তার ঘটনাবহুল সংগ্রামী জীবনের কারণে। তিনি একাধারে ছিলেন একজন সাংবাদিক, জনহিতৈষী ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

উপমহাদেশে নারী জাগরণের পথিকৃৎ লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় ১৯০০ সালের ২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। জন্মগত নাম শ্রীমতি লীলাবতী নাগ। মা-বাবা আদর করে ডাকতেন বুড়ি। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। মা কুঞ্জলতা ছিলেন গৃহিনী। লীলার বাবার বাড়ি ছিল মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে, পাঁচগাঁওতে। তাদের পরিবার ছিল মৌলভীবাজারের অন্যতম শিক্ষিত ও সংস্কৃতমনা একটি পরিবার। ১৯১৬ সালে বাবা অবসরগ্রহণ করার পর তিনি স্থায়ীভাবে বাস করার জন্যে আসাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৩৯ সালে বিপ্লবী অনিল রায়কে বিয়ে করেন লীলা। বিয়ের পর তার নাম হয় লীলাবতী রায়।

১৯০৫ সালে আসামের দেওগড় বিদ্যালয়ে লীলার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। সেখানে দুবছর অধ্যয়নের পর ভর্তি হন কলকাতার ব্রাহ্ম গার্লস স্কুলে। ১৯১১ সালে তিনি ভর্তি হন ঢাকার ইডেন হাইস্কুলে। ১৯১৭ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্যে কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হন। পড়াশোনায় তার গভীর আগ্রহ ছিল। খেলাধুলাতেও উৎসাহ কম ছিল না। নিয়মিত টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও হাডুডু খেলতেন লীলা। শিক্ষকদের কাছে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী লীলা ছিলেন প্রিয় ছাত্রী।

শিক্ষা জীবন থেকেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল। কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে বড়লাটের পত্নীকে নতজানু হয়ে অভিবাদন জানানোর প্রথা বাতিলের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে ২০ টাকা বৃত্তি পেয়ে আইএ পাশ করেন লীলা। এরপর ১৯২১ সালে বেথুন কলেজ থেকেই বি.এ পাশ করেন তিনি। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এম.এ করার জন্যে ভর্তি হন।

তখনও ঢাবিতে সহশিক্ষার প্রচলন ছিল না। তার জেদ, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়বেন। মেয়েরা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না এই মর্মে লীলা চ্যান্সেলর (বাংলার গভর্ণর) ও ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে দেখা করে নিজের কেস প্লীড করেন। তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর পি জে হার্টজ লীলার মেধা ও আকাঙ্খা বিবেচনা করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন। তার ভর্তি ক্রমিক নাম্বার ছিল ২৫। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

অবশ্য লীলা একাই সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন না। সেই শিক্ষাবর্ষে (১৯২১-২২) ঢাবির অর্থনীতি বিভাগে বি.এ (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হন আরেকজন ছাত্রী, সুষমা সেনগুপ্ত। সুষমা ছিলেন সেই সময় ঢাবির আইনের অধ্যাপক ও জগন্নাথ হলের প্রথম প্রাধ্যক্ষ নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের মেয়ে। সুষমা সেনগুপ্তের নিজস্ব স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, আইএ পড়তে পড়তে আমার বিয়ে হয়ে গেলো। ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হলো। বিএ পড়তে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। সে বছর লীলাও এমএ ক্লাসে ভর্তি হলো। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আমরা দুজন প্রথম ছাত্রী। এক কমন রুমে বসতাম দুজন। ক্লাসে যাবার সময় অধ্যাপক আমাদের ডেকে নিয়ে যেতেন। অর্থাৎ, প্রথম ছাত্রী হবার তকমা লীলা নাগ ও সুষমা সেনগুপ্ত দুজনকেই দেয়া যায় বৈকি।

লীলা নাগ কর্মজীবনে মহিয়সী ছিলেন, বিপ্লবী হিসেবেও তিনি পরিচিত। অপরদিকে সুষমা সেনগুপ্ত একজন সাধারণ ছাত্রী ছিলেন। বি.এ পাশ করার পর তিনি আর পড়াশোনা করেছেন কিনা তাও জানা যায় না। তাই লীলা নাগ এককভাবে বারবার এসেছেন আলোচনায়, লাভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীর মর্যাদাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন রেজিস্টার থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। এরপরের তিন শিক্ষাবর্ষে আর কোনো ছাত্রী ভর্তি হয়নি। ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হন ফজিলাতুন্নেসা। এরপর ১৯২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্রীরা আসতে শুরু করেন। ১৯২১ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৭১১ জন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাবস্থাতেই লীলা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও ঋষি রামানন্দের সাহচর্য লাভ করেন। ১৯২৩ সালে তিনি ইংরেজিতে ২য় বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রিধারী। শিক্ষাজীবন শেষ করে লীলা নারীশিক্ষার প্রসার ও স্বদেশের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে ব্রতী হন। নারীদের অশিক্ষার অন্ধকার থেকে মুক্ত করার জন্যে ১২ জন সংগ্রামী সাথী নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন দীপালি সংঘ। এই সংঘের মাধ্যমে তিনি দীপালি স্কুল ও আরও ১২টি অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। নারীশিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামেও দুটি স্কুল তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকায় তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল দীপালি-১ পরবর্তীতে নাম বদলে হয় কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল, আর নারীশিক্ষা মন্দির নাম হয় শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়। ঢাকার আরমানিটোলা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। বিয়ের পর লীলা কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়াও তিনি দীপালি ছাত্রী সংঘ ও মহিলা আত্মরক্ষা কেন্দ্রও গড়ে তোলেন। বিপ্লবী পুলিন দাসের নেতৃত্বে মেয়েরা এখানে অস্ত্র চালনা ও লাঠিখেলা শিখতেন।

দীপালি সংঘ তৈরির আগে থেকেই লীলা বিপ্লবীদের সাথে জড়িয়ে গেছিলেন। ১৯২৮ সালে কলকাতা কংগ্রেস ও বাংলার অন্যান্য বিপ্লবী দলগুলো সুভাষচন্দ্র বসুর চারপাশে সমবেত হতে থাকে। স্বামী অনিল রায়, আরেক বিপ্লবীকে নিয়ে লীলাও উপস্থিত হন সেখানে। নিখিল ভারত মহিলা সম্মেলনে বাংলার নারী আন্দোলনের ইতিহাস বলার সময় লীলা মঞ্চে ওঠেন। তার বিপ্লবী জীবনের পথ এর মাধ্যমে প্রশস্ত হয়। নেতাজির অনুরোধে তার প্রকাশিত ইংরেজি সাপ্তাহিক ফরওয়ার্ড ব্লকের সম্পাদনার ভার নেন লীলা।

পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে দীপালি সংঘের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতে থাকে। দলে দলে মেয়েরা এর পতাকাতলে সমবেত হতে থাকে। আসাম ও বাংলার বিভিন্ন স্থানে এর শাখা বিস্তৃত হতে থাকে। নারী সমাজের মুখপাত্র হিসেবে জয়শ্রী নামে একটি পত্রিকাও বের করেন তিনি। ছাত্রীদের সুবিধার জন্যে কলকাতায় একটি মহিলা হোস্টেল তৈরি করান তিনি। বিপ্লবী নেত্রী লীলা নাগের কাছে দলের ছেলেরাও আসতেন নানা আলোচনার উন্মুখতা নিয়ে। প্রীতিলতার মতো সুপরিচিত নারী বিপ্লবীরাও এই দীপালি সংঘের মাধ্যমেই বিপ্লবের পাঠ নিয়েছিলেন লীলা নাগের কাছ থেকে। দীপালি সংঘ ছাড়াও অনিল রায়ের শ্রীসংঘের সাথেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৩০ সালে সব বিপ্লবী দলের নেতাদের ইংরেজ সরকার একযোগে প্রেপ্তার করা শুরু করলে অনিল রায়ও প্রেপ্তার হন। ফলে শ্রীসংঘের দায়িত্ব পুরোটাই এসে পড়ে লীলার উপর।

শ্রীসংঘের সদস্যরা সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনার জন্যে অস্ত্র সংগ্রহ ও বোমা তৈরির কাজ করতেন। বোমার ফর্মুলা নিয়ে কাজ করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ছাত্র অনিল দাস ও শৈলেশ রায়। ১৯৩১ সালে বিপ্লবীদের কার্যকলাপ আরও জোরদার হয়। পরপর বেশ কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজ বিপ্লবীদের হাতে নিহত হন। এর মধ্যে কুমিল্লার জেলা জজ স্টিভেন্সের হত্যার সাথে দুজন তরুণী জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে।

১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর দীপালি সংঘের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে লীলা নাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৩৭ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত লীলা ঢাকা, রাজশাহী, সিউড়ী, মেদিনীপুর জেল ও হিজলী বন্দিশালায় আটক ছিলেন। ভারতবর্ষে বিনা বিচারে আটক হওয়া প্রথম নারী রাজবন্দী লীলা নাগ। পরবর্তীতে আরও অনেকবার কারাভোগ করতে হয় তাকে।

জেল থেকেই লীলা সাঙ্গঠনিক সংহতিকে অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড করে বৈপ্লবিক সংঘাত পরিচালনার প্রয়াস চালান। জেল থেকে মুক্তি পাবার পর পুনরায় লীলা পূর্ণোদ্যামে কাজে নামেন। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর অনিল-লীলা দম্পতি পূর্ববঙ্গে বসবাসের উদ্যোগ নেন। পূর্ব বাংলার সংখ্যালঘু রক্ষা ও শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তারা। এ সময় কবি সুফিয়া কামাল কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এলে লীলা নাগ তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ১৯৫১ সালে ভারত সরকার প্রণীত উদ্বাস্তু উচ্ছেদের বিলের বিরোধীতা করে আবারও গ্রেপ্তার হন লীলা।

১৯৫২ সালে লীলা নাগের স্বামী অনিল রায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিয়ের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় অকাল বৈধব্য ও বহুদিনের আন্দোলন- সংগ্রামের সাথীকে হারিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন লীলা। তবে কম সময়ের মধ্যেই শোক কাটিয়ে স্বদেশের বৃহত্তর স্বার্থে পুনরায় মনোনিবেশ করেন তিনি।

১৯৬৪ সালে পূর্ববাংলা বাঁচাও কমিটির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে পুলিশ লীলা নাগকে গ্রেফতার করে। ১৯৬৬ সালে ছাড়া পাবার পর তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে কলকাতার পি.পি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ দিন সংজ্ঞা ফিরে এলেও বন্ধ হয়ে যায় তার বাকশক্তি। শরীরের ডান অংশ সম্পূর্ণরুপে অচল হয়ে যায়। এভাবেই আড়াই বছর চলার পর ১৯৭০ সালের ১১ জুন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক মহানায়িকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, উপমহাদেশের নারী সমাজের জাগরণের প্রথম অগ্রদূত, অগ্নিকন্যা লীলা নাগ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

লীলা নাগদের জন্মই হয় একটি যুগের পরিবর্তন করতে, জংধরা একটি সমাজ ব্যবস্থায় বিপ্লব নিয়ে আসতে। নিজেদের সারাটা জীবনের সাধনার দ্বারা এরা উত্তরসূরীদের জন্য রেখে যান উত্তমতর সমাজ ব্যবস্থা আর স্বাধীনতার স্বাদ। তাদের কীর্তিই তাদের করে রাখে অমর।


আরও খবর



গত ২৪ ঘণ্টায় মমেক হাসপাতালে আরও ১৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ৩৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।

তিনি জানান, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ‌্যে ১০ জনের করোনা পজিটিভ ছিলো। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭ জন। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১৮৪ জনের।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে ২২ জনসহ মোট ৪৭৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬৪ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ জন।

এদিকে, ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, শনিবার ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও হাসপাতালে অ‌্যান্টিজেন টেস্টে মোট ৬৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৬.৩২ শতাংশ।


আরও খবর