
ভারতে ওষুধ বানানোর কাজে ব্যবহৃত অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) এবং অন্যান্য মূল উপাদানের দাম বেড়েছে। মালামাল পরিবহন ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক আয় ২০০-২৫০ বেসিস পয়েন্ট (২.৫ শতাংশ পয়েন্ট) কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একটি রেটিং এজেন্সির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হওয়া এবং নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে চীনে চলমান লকডাউনের ফলে কিছু এপিআইয়ের দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ১২০ শতাংশ। রেটিং এজেন্সি কেয়ারএজ জানিয়েছে, যেখানে গত ১২ থেকে ১৮ মাসে ওষুধ পরিবহনে ব্যবহূত কম সক্রিয় পদার্থগুলোরই দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০০ শতাংশ। কাঁচামালের দামের পাশাপাশি প্যাকেট করার উপাদানেরও দাম এ সময়ে বেড়েছে ২৫-১০০ শতাংশ। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কয়লার দাম গত এক বছর বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এজেন্সি বলছে, আর এসবের ফলে পরিবহনের খরচ বেড়েছে দুবার।
এজেন্সির রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০২২) পর্যবেক্ষণে দেখেছে যে অনেক ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল তাদের উৎপাদন সুবিধার ওপর ফরম ৪৮৩ পর্যবেক্ষণ পেয়েছে। তাছাড়া ইউএসএফডিএর বারবার চালানো অডিট অবজারভেশনও প্রতিপালনের খরচ অনেকাংশে বাড়িয়েছে এবং এর ফলস্বরূপ ওষুধ শিল্পে লাভ করার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমেছে। এর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চালানো কোনো প্রতিকূল পর্যবেক্ষণের কারণেও নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনতে দেরি হয়ে যায়, এভাবে মধ্যমেয়াদের জন্য সেই পণ্যের সম্ভাবনা খাদে নেমে যায়।
যদিও ভারতের ওষুধের দাম নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের দাম ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে। তারা এক্ষেত্রে বিবেচনায় রেখেছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে। এর ফলে ওষুধ শিল্পে লাভজনকতা অর্জনে কিছুটা সহায়তা প্রদান করা যাবে।

