Logo
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের কেমব্রিজে পুলিশের গুলিতে সৈয়দ ফয়সাল (২০) নামে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি বোস্টন।

ফয়সালের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই। তিনি দি ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের শিক্ষার্থী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, ফয়সাল পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন।

এনবিসি বোস্টন জানায়, বুধবার দুপুরে চেস্টনাট স্ট্রিটে এ ঘটনা ঘটে। এদিন পুলিশের কাছে ফোন আসে সন্দেহভাজন এক তরুণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের জানালা ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং তার হাতে ছোরা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ভবনের পেছনে ফয়সালকে খুঁজে পায়। পুলিশকে দেখে তিনি দৌড় দিলে পুলিশ সদস্যরাও তাকে ধাওয়া করে।

মিডলসেক্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান বলেন, পুলিশ ধাওয়া করে চেস্টনাট স্ট্রিটে তাকে (ফয়সাল) ঘিরে ফেলে। তখন ফয়সালকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু এই তরুণ ছুরি হাতে নিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে আসছিলেন। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ ফয়সালকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পুলিশের গুলিতে ফয়সাল নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এবং কেমব্রিজের মেয়র সুমবুল সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করে প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচি নিয়েছে। দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে বিচার দাবি করেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগ, ফয়সাল শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছে।


আরও খবর



বিয়ে বাড়িতে চাঁদা দাবি

মিরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চাঁদার দাবিতে বিয়ে বাড়িতে তাণ্ডবের অভিযোগে তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর মডেল থানার ৩ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর রোড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-  বৃষ্টি আফরিন (২৫), মধু (৩২), ঈশানী (২৫) ও সুমি (২২)।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মিরপুর মডেল থানার ৩ নম্বর সেকশনের, সি ব্লক, ৮ নম্বর রোডে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। সেই তথ্য পেয়ে দুপুরে তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন সেখানে উপস্থিত হয়। বাড়িতে গিয়েই তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সেখানে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।

পরবর্তীতে পাত্রী নিজে তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জনকে ১৫শ টাকা দেন। কিন্তু এই টাকা পেয়ে তারা আরও বেশি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে এবং বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। এ সময় ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন পাত্রী। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তারা দরজায় ধাক্কা ও লাথি মারা শুরু করে। একপর্যায়ে সেই ঘর বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে বিয়ে বাড়ির পাত্রীসহ অনেককে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের দেওয়া সেই দেড় হাজার টাকাও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।


আরও খবর

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

রাজধানীতে ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩




নয়াপল্টনে বিএনপিকে গণঅবস্থানের অনুমতি

প্রকাশিত:বুধবার ১১ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ২৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের একপাশের সড়কে গণঅবস্থানের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। কাল বুধবার চার ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পুলিশের অনুমতি পাওয়ার কথা জানিয়ে ডা. এজেডএম জাহিদ বলেন, আমরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। পুলিশের অনুমতিও আমরা পেয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি করবো। এর আগে দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে নিয়ে ডিএমপি কার্যালয়ে যান তিনি। তারা কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে তাদের কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। উল্লেখ্য, সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে বুধবার ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে অবস্থান কর্মসূচি করবে বিএনপি


আরও খবর



গোপালগঞ্জে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ১৩৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে রাবেয়া বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

কোটালীপাড়া থানার ভ্রাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানান, রবিবার দুপুর দেড়টায় উপজেলার ঘাঘর বাজার থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার মহুয়া চত্তরের কাছে পৌছালে গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে ফাস লেগে যায়।

এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। নিহত গৃহবধূ উপজেলার বড় দক্ষিনপাড় গ্রামের মোয়াজ্জেম শেখের স্ত্রী।


আরও খবর

ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

শুক্রবার ১৮ নভেম্বর ২০২২




বোয়ালমারীতে আগুন পোহাতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পুরোহিত অনিল সাধু (৮৫) নামের এক বৃদ্ধ আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়নের কয়ড়া কালীবাড়ির পুরোহিত অনিল সাধু মন্দির চত্বরে আগুন পোহানোর সময় তার গায়ে আগুন ধরে যায়।

এ সময় তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর থেকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি সুভাষ সাহা বলেন, ৩৫ বছর ধরে অনিল সাধু কালীবাড়ি মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে আছেন। তার পরিবারের সবাই ভারত থাকেন। তার লাশ কালীবাড়ি মন্দিরে সমাহিত করা হবে।

নিউজ ট্যাগ: বৃদ্ধের মৃত্যু

আরও খবর



ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমারা কত টাকা খরচ করেছে?

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্য ছাড়া ইউক্রেন কোনোভাবেই তাদের রক্ষণভাগ টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে পারতো না। কিন্তু কী পরিমাণ সাহায্য ইউক্রেন পেয়েছে, আর এই সাহায্য কতটুকু পার্থক্য গড়ে দিয়েছে?

গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের জন্য আরেকটি ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যেটি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা হবে। যদি প্রস্তাবটি অনুমদিত হয়, তবে ইউক্রেনকে সাহায্য নিয়ে এই নিয়ে চতুর্থবার মার্কিন সাহায্য যাবে, সব মিলিয়ে যার আর্থিক মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।  এই আকাশছোঁয়া অঙ্ক তাই অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এটি ইউক্রেনকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্টেও তাদের মার্কিন প্রতিনিধি একটি মতামত প্রকাশ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যে মার্কিন প্রক্সিযুদ্ধ চলছে না এমন ভান করা থেকে সরে আসার সময় এখনই।

তবে, অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত নন। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক ভ্লাদিমির রাউতা  বলেন, এটা যে কোনো প্রক্সিযুদ্ধ নয় তা স্পষ্ট। প্রক্সিযুদ্ধতে গোপনভাবে সাহায্য করা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের সম্পর্ক সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যের এক আদর্শ উদাহরণ। প্রক্সিযুদ্ধ হলো ওটাই, যখন রাশিয়া ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সমর্থন করেছে, সাহায্য করেছে এবং তাদেরকে ট্রেনিং করিয়েছে।

যুদ্ধের খরচ: যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপও ইউক্রেনের পেছনে যথেষ্ট টাকা ঢেলেছে। তবে ঠিক কতটুকু খরচ করেছে তা বলা বেশ শক্ত।  সৌভাগ্যক্রমে জার্মান গবেষণা সংস্থা কিয়েল ইনিস্টিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি (আইএফডব্লিউ) ইউক্রেন সাপোর্ট ট্র্যাকার তৈরি করেছে, যেখানে কে কত সাহায্য করেছে তা নথিভুক্ত করা আছে, যার মধ্যে সামরিক সাহায্য, মানবাধিকার সার্ভিস এবং অর্থসাহায্য  রয়েছে। তারপরেও এই হিসাব করা বেশ জটিল বলে জানিয়েছেন আইএফডব্লিউ-এর একজন অর্থনীতিবিদ আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক।  প্রাথমিক সমস্যা হলো তথ্যের পর্যাপ্ততা, বিশেষ করে দেশগুলোর সরকারি তথ্য এবং বিভিন্ন পণ্যের আর্থিক মূল্য, বিশেষ করে সামরিক পণ্যগুলোর আর্থিক মূল্য বের করা। আমরা প্রথম সমস্যাটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে খুঁজে বের করে সমাধান করেছি। সাধারণত, আমরা সরকারের অফিশিয়াল সূত্রগুলোকেই উৎস হিসেবে নিয়েছি।যদিওর্থদানের ব্যাপারে সরকার কোনো তথ্য প্রকাশ না করে, সেক্ষেত্রে আমরা সেগুলোর শূণ্য জায়গা পূরণ করেছি গণমাধ্যমে আসা বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। একটি বড় সমস্যা হলো, বেশ কিছু দেশের অফিশিয়াল প্রেস রিলিজে যে তথ্য থাকে তা বেশিরভাগ সময়েই অসম্পূর্ণ থাকে। একটি দেশ তাদের তথ্যগুলো কতটুকু বিস্তারিত বা সংক্ষেপে প্রকাশ করে, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের কাজ সহজ বা কঠিন হয়ে পড়ে। সাহায্যদাতা দেশগুলো তথ্যতেও অনেকসময় স্বচ্ছতা রাখে না। যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ডেটাবেজে কী কী জিনিস দান করেছে, কতটুকু দান করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে। সামরিক সাহায্যগুলোও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকার ফলে সেগুলোর অর্থের একটি সঠিক পরিমাণ বের করা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আবার এই চিত্র দেখা যায় না। পূর্ব ইউরোপ, বাল্টিক অঞ্চল এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের দেশগুলো কী কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কয়টি করে দান করেছে তা পরিষ্কারভাবে বললেও স্পেন, ইতালি আর পর্তুগালের মতো দেশগুলো তা প্রকাশ করে না এবং ইচ্ছা করেই সেই তথ্য চেপে রাখে।

সবচেয়ে বড় সাহায্যদাতা যুক্তরাষ্ট্র: ইউরোপের ডি ফ্যাক্টো নেতা জার্মানি এই সাহয্য হিসাবের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ বার্লিন দীর্ঘদিন ধরে বাতিল বা ব্যবহার করা হয়নি এমন সব সামরিক সরঞ্জাম তাদের স্টক থেকে দান করেছে যার বর্তমান আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা বেশ কঠিন। জার্মানি কেবল ট্যাঙ্ক-বিরোধী সরঞ্জাম বা বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভারি অস্ত্রই সরবরাহ করেনি, মেশিনগান, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং অন্যান্য গোলাবারুদের মতো হালকা অস্ত্রও সরবরাহ করেছে। আবার, একদিকে তারা সশস্ত্র বাহিনী বা বুন্দেসভেরের স্টক থেকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। আবার, ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন করা স্টক থেকেও দিয়েছে। জার্মানির মতো দেশগুলো তাদের বিতরণ করা পণ্যগুলোর সংখ্যার একটি বিস্তারিত তালিকা প্রদান করলেও তাতে সেগুলোর মূল্যের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।। এটি আমাদের কাজকে অবিশ্বাস্যভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। কারণ জার্মানির কিছু পণ্য বুন্দেসভেরের স্টক থেকে এসেছে, যেগুলো ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করছে। যার ফলে এগুলোর সঠিক মূল্য অনুমান করা প্রায় অসম্ভব, বলে জানান ফ্রাঙ্ক। স্বাভাবিকভাবেই, আইএফডব্লিউর তালিকায় সবচেয়ে উপরের স্থানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দখলেই, যারা অনান্য দেশের তুলনায় বেশ বড় ব্যবধানে সর্বাধিক সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে।

ফ্রাঙ্ক জানান, সামরিক সাহায্যের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা ২২.৮৬ বিলিয়ন ইউরো বা ২৪.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সাহায্য করেছে। যুক্তরাজ্য রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে, তার করেছে ৪,১৩ বিলিয়ন ইউরো বা ৪.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী। লন্ডনের সরকার ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে এম২৭০ মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, হাজার হাজার অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্র, শত শত স্বল্প-পাল্লার মিসাইল, সাঁজোয়া যান এবং কিছু স্টারস্ট্রিক অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট সিস্টেম সরবরাহ করেছে বা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক আরও ১২৫টি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জার্মানি, সামরিক সাহায্যের অবস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের পরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তারা ২.৩৪ বিলিয়ন ইউরো বা ২.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য করেছে।

ইউরোপীয় সমর্থনের বেশিরভাগই এসেছে লন্ডন এবং বার্লিন থেকে। আইএফডব্লিউ-এর মতে, ইইউ সদস্য দেশগুলো সামরিক সহায়তা হিসেবে মোট ৮.৬১ বিলিয়ন ইউরো প্রদান করেছে।

পশ্চিমা সাহায্যের অনস্বীকার্য প্রভাব: ইউরোপীয়দের সাহায্য কেবল সামরিক সমর্থন দিয়েই শেষ হয়নি। যদি আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিচালিত সামরিক প্রতিদান প্রকল্প ইউরোপীয় শান্তি সুবিধাকে অন্তর্ভুক্ত করি, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক সহায়তা হিসেবে আরও ৩.১ বিলিয়ন ইউরো যোগ হবে, মোট অর্থ বেড়ে দাঁড়াবে ১১.৭১ বিলিয়ন ইউরোতে। ফ্র্যাঙ্ক উল্লেখ করেন। তবে সামরিক সাহায্য বাদ দিলেও ইউক্রেনের প্রতি দেশগুলোর মানবিক সহায়তা, আর্থিক সহায়তাও কম নয়। জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনকে আরও ১৮ বিলিয়ন ইউরো সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। এটি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে।

এর ফলে ইউরোপ তখন কিয়েভকে মোট ৫২ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা করবে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক, আর্থিক এবং মানবিক সহায়তার পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ইউরো, আইএফডব্লিউ জানায়। গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি থেকে শুরু করে সম্প্রতি অনুমোদন করা ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্যের প্যাকেজ ইউক্রেনকে রুশ আগ্রাসন মোকাবেলার করার অনুমতি দিয়েছে কিছু প্রত্যাশিত উপায়ে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক রাউতা বলেন, প্রায়শই, যুক্তি দেওয়া হয় যে ইউক্রেনের জন্য সাহায্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গোয়েন্দা আপডেট অনুযায়ী, পুতিন ২০২৩ সালে ইউক্রেনে তার যুদ্ধের জন্য ১১৬ বিলিয়ন পাউন্ড বা ১৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ২০২৩ সালে রাশিয়ার মোট প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাজেট হিসেবে ১৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে।

রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই যুক্তফ্রন্ট অটল থাকতে পারে কিনা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে যখন রিপাবলিকান নেতৃত্ব রয়েছে, সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে, সাফল্য-পরাজয়ের ভারসাম্য এখনও কোনও দেশের যায়নি, প্রতি মাসেই যুদ্ধের অবস্থা পরিবর্তন হচ্ছে। ইউক্রেন একদিকে আরও এলাকা পুনরুদ্ধার করলেও রাশিয়া অবকাঠামোর ওপর ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে আচ্ছে। এছাড়াও রুশরা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কিয়েভ দখলের জন্য নতুনভাবে এগোবে বলে শোনা যাচ্ছে। আবার, ইউক্রেনও তাদের দেশকে রক্ষার জন্য অটল সংকল্প ধরে রেখেছে, রুশরাও শান্তিচুক্তিতে এগোতে চাচ্ছে না। ২০২৩ সালে যা-ই হোক না কেন, রুশরা যদি শান্তিচুক্তি কররার ভান করে, তবে সেটি হবে সময় কেনা, নিজেদের সংগঠিত করা এবং পুনরায় সংগঠিত করার উপায়ের জন্য। ২০২৩ সালে ইউক্রেনের জন্য আটলান্টিকের দুই পাশ থেকে আরও সাহায্য আসবে বলা আশা করাই যায়, যখন তাদের কয়েক দশকের মধ্যে নিরাপত্তাগতদিক থেকে সবচেয়ে বড় হুমকিতে পড়তে হচ্ছে।


আরও খবর