
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য গণতান্ত্রিক পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ। শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে সাকি বলেন, সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শান্তিপূর্ণ পুনর্বহাল আমরা সমর্থন করি। আমরা একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আরেকটি দলকে সমর্থন করি না। যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে আইনের শাসনের মূল্যবোধ ও আইনে ন্যায়বিচার পাওয়ার সমতাকে সমর্থন করে। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদের সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে। ক্ষমতায় যে-ই থাকুক না কেন, এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খানের সঙ্গে কখনো টেলিফোনে কথা বলেননি। ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
এর আগে নানা নাটকীয়তার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে হেরে ৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান খান। সরকার পতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ ইমরান ও তাঁর দলের। গত ৮ মার্চ বিরোধীরা পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর থেকেই এ অভিযোগ করে আসছেন ইমরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা শাহবাজ শরিফ। সোমবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পার্লামেন্টে ১৭৪ সদস্য তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য ভোট দেন।
পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মূলত ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু তার আগেই অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। অতীতের ধারা অনুসরণ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনও হয়েছে মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই।

