Logo
শিরোনাম

এ বছর ডেঙ্গু বাড়ার শঙ্কা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০২৩ | ২২২৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ চলতি বছর বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, সম্প্রতি মৌসুমপূর্ববর্তী এডিস মশা জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় এ বছর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৮, ৪০, ৪৫নং ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ২০ ও ৩২নং ওয়ার্ড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যা ২০১৯ সালের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এ জরিপ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালের মতো ডেঙ্গু মহামারী পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া রোধে এখন থেকেই নিতে হবে আগাম প্রস্তুতি। জরিপ অনুযায়ী, ডিএনসিসির ৪৫নং ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ব্রুটো ইনডেক্স (মশার ঘনত্ব) ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ৩৮ ও ৪০নং ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ২০ শতাংশ। এসব এলাকায় পরিত্যক্ত কনটেইনারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ ছাড়া জলমগ্ন মেঝে ও প্লাস্টিক কনটেইনারে বেশি মাত্রায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ডিএসসিসির ২০ ও ৩২নং ওয়ার্ডে এডিস মশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই দুটি এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এসব এলাকায় পরিত্যক্ত কনটেইনার, প্লাস্টিক ড্রামে এডিস মশার লার্ভা সবচেয়ে বেশি ২৩ দশমিক ১৯ শতাংশ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জলমগ্ন মেঝেতে ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। রাজধানীর দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডের ১১০টি সাইটে তিন হাজার ১৫০টি বাড়িতে এই প্রাক-মৌসুম জরিপ চালানো হয়। ২১টি দল ১০ দিন ডিএনসিসির ৪০টি এবং ডিএসসিসির ৫৮টি ওয়ার্ডে এই জরিপ চালায়। এর মধ্যে উত্তর সিটির ৬৩টি এবং দক্ষিণ সিটির ৯৬টি বাড়িতে এডিস মশা অতিরিক্ত মাত্রায় চিহ্নিত হয়েছে।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল এবং এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাবেক ডিপিএম ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান বলেন, জরিপের রিপোর্টের তথ্যমতে, মৌসুমের আগেই অনেক স্থানে এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। যে মাত্রায় এটি বাড়ছে তা অস্বাভাবিক। এই সার্ভে থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়- মৌসুম শুরু হলে এটি আরও বিস্তৃতি লাভ করবে। ম্যালেরিয়া নির্মূল হয়, কিন্তু ডেঙ্গুর নির্মূল নেই। তাই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির বোতল, ফুলের টব, ট্রে, মাটির পাত্র ইত্যাদি যত্রতত্র কোনোভাবেই ফেলে রাখা যাবে না। বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই সার্ভে রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে এখনই জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর ইনসেকটিসাইড ব্যবহার করতে হবে।

গত তিন বছরের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০১৯ সালে প্লাস্টিক ড্রামে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, সেখানে ২০২২ সালে মৌসুমপূর্ব জরিপে লার্ভার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে জলমগ্ন ফ্লোরে লার্ভা ছিল ২০ শতাংশ, এখন সেটি ২৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। প্লাস্টিক বালতিতে ছিল ছিল ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, চলতি বছর তা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। পানির ট্যাংকে ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, এ বছর ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বর্তমানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সার্ভে মৌসুমের আগে বা পরে করলে হবে না। এটি সারাবছরই করতে হবে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট অঞ্চলে, যেখানে ডেঙ্গুর ভাইরাস শনাক্ত হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে ভাইরাসের সার্ভেইলেন্স করতে হবে। কোনো এলাকায় রোগী পাওয়া গেলে সেই বাড়িগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তাদের সতর্ক করতে হবে, পর্যাপ্ত ফগিং করতে হবে। যাতে রোগটি আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তা ছাড়া রাজধানীর চারপাশের জলাশয় দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে কিউলেক্স মশা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এটিও উদ্বেগজনক, এদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে ২০১৮ সালে প্রণীত ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু সিনড্রোম বর্তমানে অচল বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। গাইডলাইনে রোগীদের মধ্যে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম খুবই বিরল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এখন তা আর বিরল নেই, বরং সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম, অর্থাৎ লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডের জটিলতা তৈরি হতে সময় লাগছে না।

চিকিৎসকরা বলছেন, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু হলে পাঁচ দিনের আগে অবস্থা জটিল হতো না। এ বছরে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রক্তচাপ নেমে যাচ্ছে, পেটে-বুকে পানি চলে আসছে, রক্তক্ষরণ হচ্ছে, চট করে শকে চলে যাচ্ছে রোগী। এবার ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের রোগীদের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম দেখা যাচ্ছে। গতবার এটি ছিল ৫ থেকে ১০ শতাংশ।

নিউজ ট্যাগ: ডেঙ্গু জ্বর

আরও খবর