Logo
শিরোনাম

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ৫ দফা মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিত:শনিবার ১২ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০২৩ | ৯০৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে ৫ দফা মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য দুবাইয়ে কপ২৬, কপ২৭ ও কপ২৮ সম্মেলনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে যৌথভাবে চূড়ান্ত করা হবে।

মহাপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা, ২০৩৫ সালের মধ্যে দূষণকারী দেশগুলো তাদের ব্যবসা এবং নগরায়ণ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনবে। বিদ্যুৎ খাতে কমপক্ষে আন্তঃদেশীয় বৈদ্যুতিক প্লান্টগুলো থেকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে হবে। কৃষি খাতে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিলিয়ন পাউন্ড খরচের মাধ্যমে সবুজ শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়। গতকাল শুক্রবার মিশরের শান্তির নগরখ্যাত শার্ম আল শেখ শহরে চলমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে এ মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, শুক্রবার ছিল সম্মেলনের ষষ্ঠ দিন। এ দিনকে জাতিসংঘ কপ২৭-এর ডিকার্বনাইজেশন দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। মূলত বিভিন্ন সেক্টর থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, তেল, গ্যাস, স্টিল ও সিমেন্ট শিল্পগুলো কার্বন নিঃসরণে বেশি দায়ী, পৃথিবীর প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয় এ শিল্প খাত থেকে।

এ শিল্পগুলোর মধ্যে আবার স্টিলশিল্পে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু অপরিহার্য এ শিল্প বন্ধ করা যাবে না। তাই উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে শিল্পটিতে কীভাবে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা যেতে পারে, তা নিয়ে বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তেল ও গ্যাসশিল্পের কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশের বেশি কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন হচ্ছে। এ ছাড়া তেল ও গ্যাস উত্তোলনের সময় মিথেন গ্যাস লিকেজ হয়ে থাকে; মিথেন গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে দায়ী। তাই নবায়নযোগ্য বিকল্প জ্বালানির দিকে আমাদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মিথেন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানোর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিশ্বের ১২২ দেশ বিশ্ব মিথেন চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে। কপ২৭-এর আলোচনায় টেকনোলজি ট্রান্সফার, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে, কীভাবে তেল ও গ্যাসশিল্প থেকে মানবসৃষ্ট মিথেন নিঃসরণ কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনে অপরিহার্য উপাদান সার, কিন্তু কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও বর্জ্য হতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রাস অক্সাইড উৎপাদন হয়। ইউএসইপিএর তথ্যমতে, ২০২০ সালে আমেরিকাতে মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মোট পরিমাণের ৭ শতাংশ দায়ী ছিল নাইট্রাস অক্সাইড। বিশ্বের ৭ শতাংশ কার্বন- ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়ে থাকে সিমেন্টশিল্প হতে। এ শিল্পের কাঁচামাল থেকে খাদ ও উদ্বায়ী পদার্থ দূর করতে উচ্চতাপ প্রয়োগে প্রচুর কার্বন নিঃসরণ হয়ে থাকে। কিন্তু অপরিহার্য এ শিল্প বন্ধ করা যাবে না, তাই উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে কীভাবে কার্বন কমানো যাবে, সেসব বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার অনেকে অনুপস্থিত থাকায়, মিশরে চলমান কপ২৭-এর সৌন্দর্য অনেকটা কমেছে। গত ৬ নভেম্বর মিশরের অবকাশ কেন্দ্র শার্ম আল শেখে শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আর কোনো প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট থাকতে চাইছে না। গত বছর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতার একজন ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শেখ হাসিনাকে দুর্গতদের কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে অংশ নেননি। গত বছর পর্যন্ত তিনি ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অনুপস্থিতিতে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পরিবেশমন্ত্রী সাহাব উদ্দিন, সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ কপ২৭ সম্মেলনকে একটি প্রতারণা হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়ে এবারের সম্মেলন বর্জন করেছেন। অথচ গত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন তিনি। একইভাবে চীনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আলোচক সিয়ে জিন হুয়া স্পেনের কেরিজা রিভেরাও সম্মেলনে যোগ দেননি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে এডভান্স রাইটস বেইজড প্রটেকশন অব ক্লাইমেট মাইগ্রেশন উইথ রোল পর লোকাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্টর শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলা করছে, তাদের নিয়ে একটি প্ল্যাটফরম করতে হবে। এ প্ল্যাটফরমটি লস অ্যান্ড ভ্যামেজ দেশগুলোকে নিয়ে করতে হবে। প্ল্যাটফরমটি ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করবে। এ ছাড়া জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে যারা বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়েও কাজ করবে।

নিউজ ট্যাগ: কার্বন নিঃসরণ

আরও খবর