
র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকার যুক্তরাষ্ট্রে ল’ফার্ম নিয়োগ
করার দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের
নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান পেতে যে চুক্তি করা হবে, তা বাছাই করা
হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অনুদান পাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে চুক্তির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও স্বরাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত
ছিলেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ বিন মোমেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনুদান পেতে আমরা দেশটির সঙ্গে লেহ চুক্তিতে সম্মতি হয়েছি। এই চুক্তির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। চুক্তি খতিয়ে দেখছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটাকে ঠিক চুক্তি বলা যাবে না। এটা একটি সম্মতিপত্র।
তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আগামী দিনে
তারা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য যে অনুদান দেবেন, তার হিসাব নিকাশ দিতে হবে। তবে অতীতে
ব্যয়ের জন্য সে হিসাব প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা
বাহিনীকে অনুদান দিয়ে থাকে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশও এই অনুদান পেয়ে আসছিল। এখন থেকে এই
অনুদানের সব ধরনের তথ্য দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। একইসঙ্গে চুক্তিও করতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে
১ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে গত ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তির অনুরোধ
করেছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো ১৫ দিন সময় চেয়েছে। সে অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের
মধ্যে চুক্তি করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের
অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর
নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা
দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে
র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তামনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর
আহমেদ রয়েছেন। বেনজীর আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির
পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও
পড়েছেন তিনি।
এছাড়া র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি)
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক
অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক
(অপারেশন্স) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার
লতিফ খানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।

