
সামান্য পরিমাণ
মদ পানেও মস্তিষ্কে ‘ভয়ংকর ক্ষতি’ হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’-এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়
যুক্তরাষ্ট্রের
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এমন তথ্য জানানো হয়।
৩৬ হাজার পুরুষ
ও নারী মদ্যপায়ীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন গবেষকরা। সপ্তাহে তাদের মদ্যপানের অভ্যাস ও
পরিমাণ খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করানো হয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন,
যারা সপ্তাহে খুব সামান্য পরিমাণে বা মাঝারি পরিমাণে মদ্যপান করেন, তাদেরও মস্তিষ্কের
বিভিন্ন অংশের বিকৃতি ঘটে। ব্যাহত হয় স্মৃতিশক্তিসহ মস্তিষ্কের নানা ধরনের সক্রিয়তা।
গবেষকরা পরীক্ষা
করে দেখেছেন, যে কোনো ধরনের মদপান মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। বিভিন্ন প্রকার মদ, পান
করার ধরন ও অন্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা মদপানে মস্তিষ্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
স্বাস্থ্যের জন্য
নিরাপদ কোনো ‘মদ’ গবেষকরা খুঁজে
পাননি। ওয়াইন, স্পিরিট বা বিয়ার, সব ধরনের মদই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অপরদিকে অল্প
মদপানেও পানকারী মস্তিষ্কের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন না।
চিকিৎসা সাময়িকী
দ্যা ল্যানসেটে ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যে মদপানের কারণে
প্রতি দশজনের মধ্যে একজন মানুষ মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছেন। মদ বিভিন্ন রোগের সূচনা করে।
এর ফলে পানকারীর অকাল মৃত্যুর বিপুল ঝুঁকি থাকে।
গবেষকরা দেখিয়েছেন,
৫০ বছর বয়সী কোনো পুরুষ বা নারী যদি দিনে গড়ে একটি বিয়ার বোতলের অর্ধেক (যাকে এক ইউনিট
অ্যালকোহল সেবন বলা হয়) বা পুরোটা খান অথবা এক গ্লাস করে ওয়াইন খান—তাহলে তাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কম
করে দুই বছর বুড়িয়ে যায়। তার মানে, দুই বছর বয়স বাড়লে মস্তিষ্কের এসব অংশের আকার
যেমন বদলে যেত ও কাজকর্মের গতি যতটা শ্লথ হয়ে পড়ত, তেমনটাই হয়।
আর ৫০ বছর বয়সী
কেউ যদি দিনে গড়ে দুই বা তিন ইউনিট অ্যালকোহল সেবন করেন, তাহলে তাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন
অংশের ক্ষয়ক্ষতি হয় আরও দ্রুত হারে। তাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ তিন থেকে সাড়ে তিন
বছর বেশি বুড়িয়ে যায়।

