
আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা
অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত, স্বয়ংসম্পূর্ণ, চৌকস এবং পেশাগতভাবে দক্ষ
বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি প্যারেড-২০২১-এ
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে
যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীতে সংযোজিত
হয়েছে অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান এবং গোলন্দাজ কোরে মাঝারি ও দূরপাল্লার এমএলআরএস রেজিমেন্ট।
আকাশে বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় সোরাড, ভিসোরাড ও সর্বাধুনিক অরলিকন মিসাইল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষায় সূচিত হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। অত্যাধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং
ও সিগন্যাল সরঞ্জাম ছাড়াও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, হেলিকপ্টার, বিমান, মডার্ন ইনফ্যান্ট্রি
গেজেটসহ নানাবিধ অস্ত্র-সরঞ্জাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযুক্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অস্ত্র-সরঞ্জামের
জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও বিপুলসংখ্যক নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও নানাবিধ অস্ত্র-সরঞ্জাম ও ভৌত কাঠামো সংযোজন ও সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান
রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের মনে রাখতে
হবে, তোমরা এ দেশের সন্তান; জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তোমাদের সবাইকেই সাধারণ মানুষের
সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশীদার হতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ ও দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের
পাশে দাঁড়াতে হবে। তোমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুগত ও অধীনস্থদের প্রতি সহমর্মী
হতে হবে। মনে রাখবে, অনেক রক্ত আর ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই
স্বাধীনতা। কষ্টার্জিত এই স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা তোমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
সুযোগ্য নেতৃত্ব, সার্বিক দিকনির্দেশনা, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে
তোমাদের দেশের সেবা করে যেতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে-বিদেশে দায়িত্ব
পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে
সক্ষম হয়েছে। তোমাদের এই সুনাম আরও এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ,
শান্তি আর সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জানবে—এটিই আমার প্রত্যাশা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার
নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও নারীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীতে
২০০০ সালে সর্বপ্রথম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে মহিলা অফিসার নিয়োগ এবং ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম
মহিলা সৈনিক ভর্তির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নেতৃত্ব ও যোগ্যতার ধারাবাহিকতায়
আর্মি মেডিকেল কোরের একজন মহিলা অফিসারকে ‘মেজর জেনারেল’ পদে পদোন্নতি
দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মহিলা কর্মকর্তাদেরও ‘লেফটেন্যান্ট
কর্নেল’ পদে পদোন্নতি
প্রদান, কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত
করা হচ্ছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনজন মহিলা অফিসার
‘কন্টিনজেন্ট কমান্ডার’ হিসেবে দায়িত্ব
পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মিলিটারি
একাডেমিকে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিতে পরিণত করার লক্ষ্যে
আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখানে ক্যাডেটদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের জন্য সব ধরনের অত্যাধুনিক
সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা
হয়েছে। একটি প্রশিক্ষিত ও আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে এই আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা যুগান্তকারী
ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা রাখি। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে
জাতির পিতা যে মিলিটারি একাডেমির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই সফল বাস্তবায়িত রূপ আজকের
এই বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি।’
নবীন অফিসারদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন,
‘আজকের দিনটি তোমাদের
জীবনে অত্যন্ত আনন্দের এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির জন্য আজ
একটি স্মরণীয় দিন। আজকের এই শুভক্ষণে আমি সব নবীন অফিসারকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা
ও অভিনন্দন। আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তোমাদের ওপর ন্যস্ত হলো দেশমাতৃকার মহান
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে তোমাদের সজাগ ও সদা
প্রস্তুত থাকতে হবে। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব
রক্ষা করাই হবে তোমাদের পেশাগত জীবনের প্রধান ব্রত।’

