
‘গণতান্ত্রিক পরিবেশে
নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনা থাকবেই। এটা বন্ধ করা যাবে না। সমালোচনা বন্ধ করতে হলে
মার্শাল ল দিতে হবে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব না বলে জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার
(সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মানুষের
বাকস্বাধীনতা ছিল না। মানুষের মাথায় লাঠি ধরে, বন্দুকের নল উঁচিয়ে জরুরি অবস্থার মধ্যে
নির্বাচন হয়েছে বলেই তখন এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন প্রশংসা পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক ও
রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচন করা কঠিন হলেও আগের সেই অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব না। ’
বিদায়ের ১৮ দিন আগে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন
কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স ফোরাম
ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি- আরএফইডির সঙ্গে এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিব
ও কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সম্পাদক ড.
বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে কমিশনের পক্ষে নির্বাচনী সংলাপ আয়োজনে আর্থিক দুর্নীতির
অভিযোগ ছিল বলে জানান সিইসি। কিন্তু সে অভিযোগের তদন্ত করেছেন কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে
তিনি বলেন, তদন্ত হয়নি। ওই ঘটনার সময় যারা কমিশনে ছিলেন তাঁরা তদন্ত করেননি।
নিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশের
বিশিষ্ট ৪২ জন নাগরিকের দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ইভিএম ক্রয়ে
কোনো অনিয়ম হয়নি। সরকারের ক্রয়নীতি অনুসরণ করেই এগুলো কেনা হয়েছে। প্রশিক্ষণে ব্যয়
নিয়ে যে অডিট আপত্তি এটা সব প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়।
এটা নিষ্পত্তিযোগ্য। নিষ্পত্তি হয়েছে কি না - এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনো হয়নি।
নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে
বলেন, ‘এটা আদালতে প্রমাণ
করতে হবে। ’ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচনব্যবস্থা
এখন আইসিইউতে। এ বিষয়ে নূরুল হুদার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি অসুস্থ মানুষ।
নিজেও আইসিইউতে ছিলেন। ভারতে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য সরকারের ৪০ থেকে
৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আইসিইউ শব্দটি পরিচিত বলে ব্যবহার করেছেন। মিডিয়ায় কভারেজ
পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরো কিছু শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিনা ভোটে
বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের ব্যাপকতা প্রসঙ্গে নূরুল হুদা বলেন, এতে কমিশনের
কিছু করার নেই। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। বিনা ভোটে কেন নির্বাচিত হলো তা দেখার
এখতিয়ার কমিশনের নেই।
প্রচার হয়েছে যে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা
ধ্বংসের অভিযোগে আপনার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কথার জবাবে
নূরুল হুদা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো চিঠি আমি পাইনি।

