Logo
শিরোনাম

আজ রাজশাহী মুক্ত দিবস

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারী ২০২১ | ৫৯জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আজ শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজশাহী মুক্ত দিবস। রাজশাহীবাসীর স্মৃতিপটে দাগ কেটে যাওয়া স্মরণীয় একটি দিন। ৪৯ বছর আগে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর এসেছিল বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়। 

কিন্তু রাজশাহীতে স্বাধীনতার সেই সূর্য কিরণের ছোঁয়া লেগেছিল আজকের দিনে। শহর শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিবাহিনী, মিত্রবাহিনী ও গেরিলা যোদ্ধাদের ক্রমাগত আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদররা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও রাজশাহীতে স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা উড়ে দুইদিন পর। দীর্ঘ নয় মাস বিভীষিকাময় সময়ের অবসান ঘটে। 

বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় আর আত্মপরিচয়ের ঠিকানা করে নেওয়ার অনুভূতিতে পুলোকিত হয়ে ওঠে রাজশাহীর মানুষ। মুক্তিকামী জনতার ঢল নামে প্রতিটি সড়কে। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী অঞ্চলকে নেওয়া হয় ৭নং সেক্টরে। বিদেশি প্রতিনিধিদের পরিস্থিতি জানাতে মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্ত পার হয়ে আসে।  একাত্তরের ১৭ জুন ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধা রাজশাহী শহরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শুরু করে তাদের অ্যাকশন অপারেশন। পাকিস্তানি সৈন্য ও দোসরদের নির্যাতন হত্যাযজ্ঞ বাড়তে থাকে। রাজশাহীর নারীরাও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। কেউ সীমান্ত পার হয়ে ভূমিকা রাখেন, কেউ এ পারেই হয়ে ওঠেন দুঃসাহসিক গেরিলা। 

ওই সময় আলবদর বাহিনী গঠনের পর শুরু হয় ত্রাস, হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ নানা নিপীড়ন। পাকিস্তানী সৈন্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করে চার হাজার মানুষকে। নারীরাও তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাননি। 

রাজশাহী অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহকারী ও গবেষক ওয়ালিউর রহমান বাবু বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা দোসরদের মদদে বিভিন্ন কায়দায় লোকজনকে হত্যা করে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ঢুকে পড়তে থাকে রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে। ২৫ নভেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুর বাবলাবন চরে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন্ত অবস্থায় বালির মধ্যে পুঁতে হত্যা করে। সবকিছু সহ্য করে স্বাধীনতার দিনগুণতে থাকে রাজশাহীর মানুষ। 

মিত্র বাহিনীর বিমানকে স্বাগত জানাতে সবাই তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। সে সময় পাক সেনাদের বিমান বোমা ফেলতে থাকলো রাজশাহীতে। লালগোলা সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও সেখপাড়া সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর রশিদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের সাথে লড়াই করে মুক্ত করে ফেলে রাজশাহীর গ্রামাঞ্চল। 

মহদিপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর রাজশাহী অ্যাডভান্সের পরিকল্পনা নেন। তিনি ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেহায় চরে শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী রাজশাহীর দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়। ১৬ ডিসেম্বর পরাজয় বরণের পর যৌথ বাহিনীর এই অগ্রগামী দল পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছ থেকে সাদা পাগড়ী ও আত্ম সমর্পণের চিঠি নিয়ে রাজশাহী শহরে বীর দর্পে প্রবেশ করে। 

১৮ ডিসেম্বর মুক্ত হয়ে যায় রাজশাহী। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে স্বাধীন বাংলার পতাকা তুলেন লাল গোলা সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। পরে পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজশাহী ছেড়ে চলে যায় নাটোরে। 

তাদের দোসররা এখানে সেখানে লুকিয়ে যায়। খাদ্য সংকট এড়াতে বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর জন্য খাবার সরবরাহ করা হয়। রাজশাহীর মানুষ আজকের দিন থেকে নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। রাজশাহী শত্রু মুক্ত হয় আজ।

Share


এই সম্পর্কিত আরও খবর

‘ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ’

‘প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই কোটা বাতিলের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে’

মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মহান বিজয় দিবস আজ

বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের

মাকে লেখা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কাজি নুরুন্নবীর চিঠি