Logo
শিরোনাম

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৩৭

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর 20২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৩৭ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে আরও দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৩৭ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩০৬ জন ও ঢাকার বাইরে ১৩১ জন।

বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ৫২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ১৮৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৩৪৬ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৮৭৫ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১৭ জন ও ঢাকার বাইরে ২ হাজার ৮৫৮ জন।

একই সময় সারাদেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৮১৩ জন ও ঢাকার বাইরে ২ হাজার ৪৮৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮ হাজার ২৬৫ জন ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১০৫ জন।


আরও খবর

করোনায় একজনের মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ১৯৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেড় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে ভালো করছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ৫৭১ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে এবছর পোশাক রফতানি বেড়েছে ৫৪.৪৩ শতাংশ। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এমন তথ্য মিলেছে।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বাজারটিতে রফতানি কমে যায়। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০১৯ সালে বাজারটি আবারও বাংলাদেশকে বেছে নেয়। করোনার কারণে রফতানি নিম্নমুখী হলেও গত বছরের মে মাস থেকে বাজারটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবার বাড়াতে শুরু করে।

অটেক্সার মতে, ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি ৫৪.৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে সমগ্র বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৩৯.০৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৫.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে।

এদিকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক রফতানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি।

পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রয়কেন্দ্রে পোশাকের বিক্রি কিছুটা কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ালমার্ট, গ্যাপের মতো বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে। চলমান ক্রয়াদেশও বিলম্বে জাহাজীকরণ করতে বলছে।

এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, মূলত করোনা মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ভোক্তাদের কেনাকাটা বৃদ্ধির ফলে খুচরা বিক্রয় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পায়। তবে মূল্যস্ফীতি, ফেডের হার বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দার কারণে ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা টিকে থাকবে, সেটি ভাবনার বিষয়। অস্বাভাবিক দীর্ঘ গ্রীষ্মের কারণে শীতের পোশাকের চাহিদাও তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, লক্ষণীয় যে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানি চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছিল। ফলে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রাখতে পারে এবং পরবর্তীতে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে খুচরা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় ক্রেতারা সতর্ক অবস্থানে আছেন।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার। সাড়ে ৯ বছর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বাজারটিতে রফতানি কমে যায়। তারপর কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কারকাজ করেন উদ্যোক্তারা। ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি।

অন্যদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০১৯ সালে দেশটির অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প উৎস হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়। তবে করোনার কারণে রফতানি আবার নিম্নমুখী হতে থাকে। গত বছরের মে মাস থেকে বাজারটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবার বাড়াতে শুরু করে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক। ওই বাজারে গত বছর বাংলাদেশ ৭১৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে। ২০২০ সালের চেয়ে এই আয় প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বরাবরের মতো পোশাক রফতানিতে চীন শীর্ষস্থানে রয়েছে।

অটেক্সার তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪০ শতাংশ। উল্লেখিত সময়ে চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পর দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনাম। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে দেশটি ১ হাজার ৯১ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে চতুর্থ ও পঞ্চম শীর্ষ পোশাক রফতানিকারক দেশ যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত। এ ছাড়া অন্যান্য শীর্ষ দেশ যেমন কম্বোডিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তান থেকে আমদানি একই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ইপিবির তথ্য জানায়, জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপের বাজারে মধ্যে জার্মানিতে পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। স্পেনের বাজারে ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। ফ্রান্সে রফতানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসা যুক্তরাজ্যে পোশাকপণ্য রফতানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। কানাডায় পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রফতানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮১ শতাংশ আর ভারতে রফতানি বেড়েছে ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তবে এ সময়ে রাশিয়া ও চীনে রফতানি কমেছে যথাক্রমে ৫৮ দশমিক ২৯ এবং ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ।


আরও খবর

৩১ ডিসেম্বরের পর পাম অয়েল বিক্রি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




ইউক্রেনকে ন্যাটোতে চাচ্ছে যে ৯ দেশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে সদস্য পদ পেতে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়েছে জোটটির নয় ইউরোপীয় সদস্য দেশ। এ দেশগুলো হচ্ছে- চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, মন্টিনিগ্রো, পোল্যান্ড, রুমানিয়া ও স্লোভাকিয়া।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল রোববার ইউরোপের নয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়েছেন। তারা কিয়েভের জন্য সামরিক সহায়তা জোরদার করতে ন্যাটোর ৩০টি দেশকেই আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার দ্রুত ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের কথা জানান। ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে রাশিয়া তাদের দেশের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে জেলেনস্কি এ সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ভিডিওতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এরই মধ্যে ন্যাটো জোটের মানদণ্ড অনুযায়ী আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আমরা এখন ন্যাটোতে যোগদান ত্বরান্বিত করতে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আবেদন সইয়ের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তবে ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ পেতে হলে জোটের ৩০ দেশেরই অনুমোদন লাগবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, সহসাই ন্যাটোতে যোগ দেওয়া হচ্ছে না ইউক্রেনের।  এ ছাড়া, যুদ্ধে লিপ্ত থাকার কারণে দেশটির সদস্যপদের আবেদন নিয়ে জটিলতাও আছে।

২০০৮ সালের সম্মেলনে ইউক্রেন এবং জর্জিয়াকে ন্যাটো জোটে যোগদানের আকাঙ্খাকে স্বাগত জানা হয়েছিল। তবে এই দুই দেশকে কবে নাগাদ ন্যাটো সদস্য করে নেওয়া হতে পারে তার সুস্পষ্ট কোনোও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল দেওয়া বিবৃতিতেও এ সম্পর্কিত কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।


আরও খবর

‘হাসি’ মানুষের সবচেয়ে ভালো ওষুধ

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২




মিয়ানমারের অর্থনীতি ধ্বংস করছে জান্তা সরকার

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় আজকাল হরহামেশা দেখা যায়, রান্নার তেল বিক্রি করা ট্রাকের পেছনে মানুষের দীর্ঘ সারি। গত জুলাই থেকে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পাইকারি দরে তেল কিনতে তীব্র গরম, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকছে বাসিন্দারা। এ ধরনের ট্রাক থেকে প্রতি কেজি তেল তিন হাজার কিয়াটে (১৪৯ টাকা প্রায়) পাওয়া যায়, খোলা বাজারে কিনতে গেলে যার দাম পড়বে প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও এক বছর আগের দামের তুলনায় ট্রাক থেকে কেনা ভোজ্যতেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। অভ্যুত্থান-পূর্ব মূল্যের তুলনায় বর্তমানে এক তৃতীয়াংশ কমে লেনদেন হচ্ছে কিয়াট।

পাম তেল, পেট্রল, ওষুধের মতো পণ্যের চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশের জন্য এটি বড় বিপর্যয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, মিয়ানমারের ৪০ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয় এখন চার মার্কিন ডলারেরও কম (২০১৭ সালের মূল্যে)। দেশটিতে আধা-বেসামরিক শাসনের অধীনে প্রায় এক দশকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মুছে দিয়েছে সামরিক জান্তা।

কিন্তু সংকটের দায়ভার নেওয়ার পরিবর্তে জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং জনগণকে কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তরকারি রান্নায় ব্যবহৃত তেলের পরিমাণ নিয়ে অসন্তুষ্ট তিনি। কিন্তু এটি মূলত হ্লাইংয়ের আসল উদ্বেগ ঢাকার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। তার বড় দুশ্চিন্তা মিয়ানমারের বর্তমান অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স নিয়ে। দেশটির অভ্যন্তরীণ শক্তি বাড়াতে ও অর্থপ্রদানের ভারসাম্য আনতে ভোক্তা চাহিদা কমানো, অভ্যন্তরীণ তেল-ফসলের উৎপাদন বাড়ানো এবং বন্ধ রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলো ফের চালু করতে চায় জান্তা সরকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মিয়ানমারের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে জেনারেলদের নীতিগুলো পড়লে পাগলামিই মনে হবে। এর আগে ১৯৬২ ও ১৯৮৮ সালে দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পরের সময়গুলোতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দরকার হয়েছিল। এবারের অভ্যুত্থানের পরপরই জান্তা শাসকরা প্রথম যে ঘোষণা দেন তা হলো, এক বছর জরুরি অবস্থা জারি থাকবে। পরে এর সময়সীমা দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং এরপর নতুন নির্বাচন হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু দেশব্যাপী যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না সামরিক জান্তা। অভ্যুত্থানের পর অনিবার্য অর্থনৈতিক পতন মোকাবিলায়ও তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাদের।

কিয়াটের প্রাথমিক দরপতন ঠেকানোর চেষ্টায় মিয়ানমারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার (মোট রিজার্ভের আনুমানিক ১০ শতাংশ) বিক্রি করে দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এপ্রিল মাসে গিয়েও রিজার্ভ কমা অব্যাহত ছিল। কারণ বিদেশি বিনিয়োগ, সহায়তা, রেমিট্যান্স- সবই কমে গিয়েছিল এবং পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় পুঁজি নিয়ন্ত্রণ ও আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করে জান্তা সরকার। কিন্তু এই পদক্ষেপে ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের ওষুধসহ আমদানি করা প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর ঘাটতি তৈরি হয়। রপ্তানিকারকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে বৈদেশিক মুদ্রার মুনাফা কিয়াটে রূপান্তর করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় বণিজ্য বন্ধ করে দেন অনেকে। জান্তা সরকারের জন্য নিজেদের আয়ের একটি অংশ হারানোর বদলে মুনাফা বিদেশে রেখে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেন কেউ কেউ। পরবর্তীতে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে পরোক্ষভাবে হলেও বিশৃঙ্খলার জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করেন জেনারেলরা। আগস্টের মাঝামাঝি গিয়ে জান্তা সরকার ঘোষণা দেয়, রপ্তানিকারকরা তাদের বৈদেশিক আয়ের এক-তৃতীয়াংশ রাখতে পারবে অথবা তা দিয়ে বাজার দরে কিয়াট কিনতে পারবে।

কিন্তু ব্যবসায়িক লাভের জন্য বাজারে যে নিশ্চয়তা দরকার হয়, সামরিক জান্তার কাছ থেকে সেটি আসার সম্ভাবনা কম। গত জুন মাসে হ্লাইং তার ছয়জন লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পদে নিযুক্ত করেন। জান্তা প্রধানের ঘনিষ্ঠ লেফটেন্যান্ট-জেনারেল মো মিন্ট তুন এখন বিনিয়োগ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নিয়ন্ত্রক। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টা পৃষ্ঠপোষকতার জায়গা তৈরি করে। মিন অং হ্লাইং হয়তো মিয়ানমারের আগের জান্তাদের জন্য সহায়ক হওয়ায় ধনকুবের শ্রেণি পুনর্গঠনের আশা করছেন। কিন্তু সেটি অনেক কঠিন হবে বলে মনে করেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জেরার্ড ম্যাকার্থি। যেসব ধনী ব্যবসায়ী তাদের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করতে এক দশক কাটিয়েছেন, তারা আরেকটি জান্তার ফাঁদে পড়তে চাইবেন না। তাছাড়া, এই সরকার যেহেতু বলছে, তারা পদত্যাগ করবে এবং ক্রমাগত জাতিগত ও গণতন্ত্রপন্থি গেরিলাদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে, তাই তাদের পক্ষে বাজি ধরার মতো লোকও খুব বেশি নেই। বিদ্রোহীরা সফল হলে শাস্তির ভয় রয়েছে জান্তা সরকারের সহযোগীদের।

ম্যাকার্থি বলেন, আপনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যবসায়িক শ্রেণি তৈরি করতে পারবেন না, যা এক বা দুইজন জেনারেলের কাছে ঋণী। জান্তা সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত একটি নতুন নির্বাচনী প্রশাসনে রূপান্তরিত হওয়ার চেষ্টা না করছে বা পথিমধ্যে ধসে না পড়ছে, ততক্ষণ বিদ্যমান ব্যবসায়িক অভিজাতরা কালক্ষেপণ করবেন বলেই মনে হয়।

নিউজ ট্যাগ: মিয়ানমার

আরও খবর

‘হাসি’ মানুষের সবচেয়ে ভালো ওষুধ

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২




ট্রেনে কাটা পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে শহীদুল মাতুব্বর (২৬) নামে এক তরকারি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে রাজবাড়ী-ভাঙ্গা রেলপথে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শহীদুল মাতুব্বর ভাঙ্গার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার মাতুব্বরের ছেলে। তিনি সবজি ব্যবসায়ী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শহীদুল গরুর জন্য ঘাস কটার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে রেলপথ ধরে ভাঙ্গা রেল স্টেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে ভাঙ্গাগামী মধুমতী এক্সপ্রেস নামের আন্তঃনগর ট্রেনটি ভাঙ্গা স্টেশনে যাচ্ছিল। শহীদুল ওই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জান্দী গ্রামের বাসিন্দা তুজারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম খান। ভাঙ্গা রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সিয়াম আক্তার হায়দার বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়ার এ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেবে রাজবাড়ী রেল পুলিশ।


আরও খবর

ইঁদুর মারার ঔষুধ খেয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২




আজ থেকে করোনা টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা প্রদানের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর)। এটি আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করা যাবে। ৩ অক্টোবরের পর আর প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে না।

সে ক্ষেত্রে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, দেশে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ এখনও করোনা টিকার প্রথম ডোজ এবং প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি।

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী চলা বিশেষ ক্যাম্পেইনে করোনা টিকার প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক ভ্যাকসিন শেষ, অনেক ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ। ফলে অক্টোবরের পর হয়তো প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন থাকবে না। তাই প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বাদ পড়াদের আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে টিকা নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১১ অক্টোবর।


আরও খবর

করোনায় একজনের মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২