
বোলিংটা দুর্দান্ত
করলেও ব্যাট হাতে পারল না বাংলাদেশ। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ ওভারে গিয়ে মাত্র
৪ রানে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলের শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৯ রানের।
এ সময় জাহানারাকে (৮) আউট করে দেন টেইলর।
এরপর ফারিহাকে
নিয়ে এগিয়ে যান নাহিদা। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১১ রানের। ৪৯তম ওভারে ৫ রান নিলে জয়ের
জন্য শেষ ৬ বলে প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৬ রানের। কিন্তু নাহিদাকে আর সঙ্গ দিতে পারেননি ফারিহা।
৩ বল বাকি থাকতে আউট হয়ে যান তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারে ১৩৬ রানে থেমে গিয়ে মাত্র ৪ রানে
হেরে গেছে বাংলাদেশ।
৬৪ বলে ২৫ রানে
অপরাজিত থেকে গেছেন নাহিদা আক্তার। পাকিস্তানকে হারানোর পর বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়
জয় আর হলো না বাংলাদেশের। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের
বে ওভালে আজ পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে
আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
শুরুতেই ক্যারিবীয়
ব্যাটারদের চাপে রাখেন জাহানারা-ফাহিমারা। ৯ উইকেটে ১৪০ রানের বেশি করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।মোটামুটি
সহজ লক্ষ্য পাড়ি দিতে গিয়ে ম্যাথিউজ-ফ্লেচারেই কুপোকাত হয়েছেন টাইগ্রেসরা।
১০ ওভারে মাত্র
১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন ম্যাথিউজ। অন্যদিকে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন
ফ্লেচার। তবে ম্যাচ জয়ের নায়ক বলা যায় টেইলরকে। ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও
শেষ ওভারে তার দারুণ নৈপুণ্যে হেরে গেছে বাংলাদেশ।
১৪১ রানের তাড়ায়
ব্যাট হাতে নেমে শুরুতেই শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার শামিমা সুলতানা। ম্যাথিউসের বলে এলবিডব্লিউ
হন তিনি। এরপর অপর ওপেনার শারমিন, টপঅর্ডার ব্যাটার ফারজানা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানার
যথাক্রমে ১৭, ২৩ ও ২৫ রানের সুবাদে কোনোমতে বিপদ কাটিয়ে ওঠে টাইগ্রেসরা।
কিন্তু ম্যাথিউস
ও ফ্লেচার এ তিনজনকে ফিরিয়ে দিলে ফের চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফ্লেচারর দুর্দান্ত এক ওভারে
শূন্য হাতে ফেরেন রোমানা আহমেত ও রিতু মনি।
এরপর দলকে একাই
টেনে নিয়ে যেতে থাকেন অভিজ্ঞ সালমা খাতুন। তবে বেশিদূর পারেননি। টেইলরের বলে আউট হওয়ার
আগে তার ইনিংস থামে ৪০ বলে ২৩ রান করে।
সালমার আউটের
পর বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ৩৯ বলে
৩০ রানের। লক্ষ্যটা অতো কঠিন ছিল না। কিন্তু ব্যাটারদের অভাবে সে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব
হয়নি।
এর আগে বল হাতে
শুরুতেই ক্যারিবীয় ব্যাটারদের চাপে রাখে বাংলাদেশ।ইনিংসের নবম ওভারে প্রথম আঘাত হানেন ডানহাতি পেসার জাহানারা আলম।তার বলে
কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ১৭ রান করে অলরাউন্ডার দেয়ান্দ্র ডটিন। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত
বোলিংয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ১ উইকেটে মাত্র ৩৪ রান করতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।দারুণ
বোলিং করেন বাঁহাতি পেসার ফারিহা তৃষ্ণা, নাহিদা ও সালমা।পরবর্তী ৩০ ওভারে ক্যারিবীয়
ব্যাটারদের হাত খুলে খেলতেই দেননি স্পিনার
সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদ, নাহিদা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন।
এই ৩০ ওভারে মাত্র
৫৩ রানে আরও ৬ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৪০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৮৭ রান।ক্যারিবীয়
ইনিংসের ৩৬ ওভার শেষে সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৭২ রান। সেখান থেকে শেষ ১৪ ওভারে মাত্র ২
উইকেট হারিয়ে ৬৮ রান করে তারা। যা দলকে এনে দেয় ১৪০ রানে নিয়ে দাঁড় করায়।
নবম উইকেট জুটিতে
৩৬ রান যোগ করেন কারিশমা রামহারাক ও শারমেইন ক্যাম্পবেল। এর আগে অ্যাফি ফ্লেচারকে নিয়ে
অষ্টম উইকেটেও ৩২ রানের জুটি গড়েন ক্যাম্পবেল।
১০৭ বলে ৫৩ রান
করে অপরাজিত থাকেন ক্যাম্পবেল। হিলি ম্যাথুজ (১৮), রাশাদা উইলিয়ামস (৪), স্টেফানি টেলর
(৪), চেডন ন্যাশনদ (৬) রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ডানহাতি সালমা ও বাঁহাতি
নাহিদা নিজেদের প্রথম ছয় ওভারে তিনটি করে মেইডেন তুলে নেন, রান খরচ করেন সমান ১২ এবং
উইকেটও নেন সমান ২টি করে। জাহানারা, রুমানা ও রিতু মনি নেন একটি করে উইকেট।

