শিরোনাম

জুমার দিন যে সময় দোয়া কবুল হয়

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | ৮৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সাপ্তাহিক দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন জুমা। এই দিন মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৬১)

তার মানে দুনিয়াতে মানুষের আগমন ঘটেছিল এই জুমার দিনেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০)

উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, জুমার দিনের বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার সব দোয়া কবুল করেন। কিন্তু জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটি কোনটিতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। নিম্নে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে সেই সময়গুলো তুলে ধরা হলো

ইমাম মিম্বরে উঠার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত : আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৯)

আসরের শেষ সময় : অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগমুহূর্তে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ.)-কে এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। এই দিনই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল। এই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন এবং এই দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে। এই দিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোনো অভাব পূরণের জন্য দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন।

কাআব (রা.) বলেন, এই সময়টি প্রতি এক বছরে একটি জুমার দিনে থাকে। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম, না, বরং প্রতি জুমার দিনে থাকে। অতঃপর কাআব (রা.) (এর প্রমাণে) তাওরাত পাঠ করে বলেন, রাসুল (সা.) সত্যই বলেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাআব (রা.)-ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন, আমি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম, জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন, যেকোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় ওই সময়টি পাবে...। কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো নামাজ আদায় করা যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কি বলেননি, যে ব্যক্তি নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত নামাজরত বলে গণ্য হবে। আবু হুরায়রা বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, তা এরূপই। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৬)

নিউজ ট্যাগ: জুমার দিন

আরও খবর

আজ শুভ বড়দিন

শনিবার ২৫ ডিসেম্বর ২০২১




ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককে অপহরণ করে হত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা খালেককে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আবাসন প্রকল্প এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা খালেক ঢাকার সাভারে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখানে তিনি নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ করছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ চলাকালে শ্রমিকরা হয়তো কিছু দাবি করেছিল তার কাছে। তাদের সঙ্গে হয়তো সাইদা খালেকের মনোমানিল্য হয়েছিল। তিনদিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। আজ সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। সন্দেহজনক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।


আরও খবর



বেতন-ভাতা না দিয়েই অফিস গুটিয়ে চলে গেছে বিতর্কিত প্রিয়া সাহার এনজিও

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | ১৫৯১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দীর্ঘ ৯ মাসেরও অধিক সময় ধরে বেতন ভাতা বন্ধ রেখে সেই বিতর্কিত প্রিয়া সাহার এনজিও শারি রাতের আঁধারে অফিস গুটিয়ে চলে গেছে। কোথায় গেছে তাও কেউ বলতে পারছে না। অফিসের অনেক কর্তাব্যক্তিরা মোবাইলও রিসিভ করছেন না। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফিনান্স সমন্বয়কারী প্রদীপ দাস বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন অফিস গুটিয়ে নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে উক্ত শারি এনজিও ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ এবং খুলনা অফিসের আওতায় প্রায় ৮০জন কর্মকর্তা, কর্মচারিদের কোন প্রকার বেতনাদি দিচ্ছেনা। উপরন্তু আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ওই সকল কর্মীদের পূর্বের পাওনা তথাকথিত স্টাফ ওয়েলফেয়ারের নামে কর্তনকৃত বেতনের ৫% হারে যে টাকা জমা হয়েছে, তাও দিচ্ছে না। টাকা চাইলেই অফিসের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক ডেসটিনি কর্মকর্তা শক্তিময়ী হীরা বলেন, আমেরিকায় প্রিয়া সাহার সাথে কথা বলতে। অনেকে আবার প্রিয়া সাহার সাথে কথা বললে তিনি ধমকের সুরে তাদেরকে থামিয়ে দেন বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, অফিসে কর্মরত কর্মীদের বেতন ভাতা না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হঠাৎ করে অফিস গুটিয়ে চলে গেছে এই সংস্থাটি। কোথায় গেছে তাও কেউ বলতে পারছে না। যদিও অফিসের সাথে সম্পর্কিত কেউ ফোনই ধরছে না। শারি সংস্থার সেই বিতর্কিত নির্বাহী পরিচালক প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহা অফিসের জেনারেল ফান্ডে থাকা সকল টাকা নিয়ে গেছেন বলে সংস্থার হিসাব শাখা থেকে জানা গেছে। যে কারণে কর্মীদের প্রাপ্য বেতন ভাতাদিও দিতে পারছে না এই সংস্থাটি। উল্লেখ্য যে, জার্মান ভিত্তিক দাতা সংস্থা ব্রেড ফর দ্যা ওয়ার্ল্ড এবং মিজেরিয়র’ বাংলাদেশের তথাকথিত বেসরকারী সংস্থা শারিকে প্রতি বছর অন্ততঃ আড়াই কোটি টাকা অনুদান দিত।

সর্বশেষ ২০২০ সালের শেষের দিকে করোনা চলাকালীন সময় ত্রাণের জন্য উক্ত দুটি দাতা সংস্থা থেকে ৪৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত অনুদান দিলেও কোন ত্রাণ না দিয়ে পুরোটাই আত্মসাত করে আমেরিকায় প্রিয়া সাহার কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দাতা সংস্থা ব্রেড ফর দ্যা ওয়ার্ল্ড তাদের নিজস্ব অডিট টিম পাঠিয়ে অডিট করালে ত্রাণের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু আত্মসাতের বিষয় ধরা পড়ে। ফলে ওই দাতা সংস্থা শারিকে অনুদান বন্ধ করে দেয়।

জানা গেছে, দেশের দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করার, তাদের জীবনমান উন্নয়নে কথা বলে আনা টাকার নামমাত্র কিছু টাকা খরচ করে কিছু ট্রেনিং প্রোগ্রামসহ কিছু সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার করে অনুদানের বাকী টাকা আত্মসাৎ করতো শারি।

এ সকল বিষয় জানার জন্য শারি’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শক্তিময়ী হীরা এর মোবাইল নম্বর ০১৬৭৬২৮৬০১৫ এ ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেন নি। অন্যদিকে সংস্থার ফিনান্স সমন্বয়কারী প্রদীপ দাস এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিস গুটিয়ে নেওয়ার কথা সঠিক নয়। তবে ফান্ড না থাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। ফান্ড না পাওয়ায় ষ্টাফদের বেতনভাতাও একটু বকেয়া পড়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর কাছে বাংলাদেশের হিন্দুদের নির্যাতন করা হয় এবং হিন্দুরা দেশ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করায় দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়ে বিতর্কিত হন পিরোজপুরের নাজিরপুরের মেয়ে এবং শারি’র নির্বাহী পরিচালক প্রিয়া সাহা।

২০১৯ সালের ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আয়োজনে সেকেন্ড মিনিস্টারিয়াল টু এ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ নামের একটি ইভেন্টে যোগ দিতে গিয়ে প্রিয়া সাহা তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর কাচে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে থেকে (তার ভাষায়) ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান নিখোঁজ হয়েছে’, তার নিজের বাড়িঘরও আক্রান্ত হয়েছে কিন্তু এর কোন বিচার হয় নি। মি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন তিনি যেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সাহায্য করেন- যাতে তারা দেশে থাকতে পারে।

প্রিয়া সাহা সেদিন ট্রাম্পকে বলেন, স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে ৩৭ মিলিয়ন (তিন কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের, বাংলাদেশী মানুষদের, সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। সে দেশে এখনো ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু আছেন। আমার অনুরোধ হচ্ছে, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে যেতে চাই না। শুধু আমাদের দেশে থাকতে সাহায্য করুন।’

প্রিয়া সাহা আরো বলেন, আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের জমি নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এর কোন জাজমেন্ট (বিচার) হয় নি।’

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে প্রশ্ন করেন বাড়ি ও জমি কে নিয়েছে ?

তখন প্রিয়া সাহা একটু কথা গুলিয়ে ফেললেও পর মুহূর্তেই বলেন, মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠী। তারা সবসময়ই রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। সব সময়।’

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহার এমন অভিযোগের বিষয়ে সে সময়ে বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং উক্ত অভিযোগ ভয়ংকর মিথ্যা, সাজানো গল্প বলে অভিহিত করে।

এ ঘটনার পরে তিনি আর বাংলাদেশে ফিরে আসেন নি। তিনি বর্তমানে মুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন। সেখানে তার দুই মেয়েও রয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: প্রিয়া সাহা

আরও খবর



পাঁচ মাসে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় ৫৫ কোটি ডলার

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | ৯২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৫৫ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলারের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথম বারের মত ১০০ কোটি ডলারের কৃষি পণ্য রপ্তানির মাইলফলক অর্জন করে। চলতি অর্থবছরে সে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য কৃষিজাত রপ্তানি পণ্য হলোশাকসবজি, চা, ফুল, ফলমূল, নানা রকম মসলা, তামাক, শুকনো খাবার ইত্যাদি। তবে, এর মধ্যে ড্রাই ফুড বা শুকনো খাদ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব ড্রাই ফুডের মধ্যে রয়েছেবিস্কুট, চানাচুর, কেক, পটেটো ক্র্যাকার ও বাদামের মতো নানা রকম পণ্য।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) জানায়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যে ১০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্যের হিস্যাই বেশি। কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে ২০টি। আর, রপ্তানি করছে ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান।

কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়ের বিষয়ে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পণ্য রপ্তানিতে কর রেয়াত এবং ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে চার বছর ধরে এ খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে। তিনি মনে করেন, এ খাতের উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক বাজারে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে। সরকার চাচ্ছে এ সুযোগ দেশের উদ্যোক্তারা যেন কাজে লাগান এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় রুটি, বিস্কুট ও চানাচুরের মতো শুকনো খাবার, ভোজ্য তেল ও সমজাতীয় পণ্য, ফলের রস, বিভিন্ন ধরনের মসলা, পানীয় এবং জ্যাম-জেলির মতো বিভিন্ন সুগার কনফেকশনারি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিস্কুট ও রুটি জাতীয় শুকনা খাবার রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে দেশীয় কোম্পানিগুলো আট কোটি ৮৬ লাখ ডলার আয় করেছে।

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রধান গন্তব্য হলোইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল। তবে, এসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীরা হচ্ছেন মূল ভোক্তা। বর্তমানে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের রপ্তানির বড় অংশ করে প্রাণ গ্রুপ। বিদায়ী অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি ডলার। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সে খাদ্য পণ্য রপ্তানি শুরু করা এ শিল্পগোষ্ঠী বর্তমানে ১৪৫টি দেশে পৌঁছে গেছে। ফ্রুট ড্রিংক, পানীয়, বিস্কুট, সস, নুডলস, জেলি, মসলা, সুগন্ধি চাল, পটেটো ক্র্যাকারস, চানাচুর, ঝাল-মুড়ি ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বে অনেক মানুষ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে। খরচ কমাতে তারা সাশ্রয়ী মূল্যের খাবার বিশেষ করে শুকনো খাবারের প্রতি ঝুঁকছে। যে কারণে গত অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আমরা ১০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি।

কামরুজ্জামান কামাল আরও বলেন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার ফলে বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। এ ছাড়া কর রেয়াত এবং নগদ সহায়তার মতো সরকারের নীতি সহায়তা কৃষি পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কামরুজ্জামান কামাল আরও বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদিত হয় না। তারা মূলত আমদানি নির্ভর। সব মিলিয়ে আগামী দিনে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা আরও বাড়বে। পণ্যটির রপ্তানি বাড়াতে হলে আমাদের দেশের কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনমুখী হতে হবে।

কামরুজ্জামান কামাল মনে করেন, এ খাতের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এখনও বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক ও অশুল্ক বাধা রয়ে গেছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এসব জটিলতা দূর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের নির্ধারিত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ ডলার।


আরও খবর



বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে এখন ভাবা প্রয়োজন: ইসি মাহবুব

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ ডিসেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৫ জানুয়ারী ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন নিয়ে এখন ভাবা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ কমিশনার মাহবুব তালুকদার। মঙ্গলবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউসে আয়োজিত চতুর্থ দফা ইউপি নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইসি মাহবুব বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনকে উৎসাহিত করা সম্ভব নয়, সমীচীনও নয়। আমাদেরকে নতুন করে চিন্তা করতে হবে, নির্বাচন পক্রিয়া পরিবর্তন করলে- এ অবস্থা থেকে আমরা উদ্ধার পেতে পারি কিনা। আগামীতে যারা নির্বাচন কমিশনে আসবেন তারা নিশ্চয়ই এ বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন। 

দায়িত্ব পালনে বর্তমান নির্বাচন সফল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, এককভাবে আমার কোনো বক্তব্য রাখতে চাই না। এটি একেকজনের একেক রকম অনুভূতি। তবে যেহেতু আমরা চার সহকর্মী কাজ করেছি, এখানে কোনো ব্যক্তিগত অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

ইসি মাহবুব আরও বলেন, এ নির্বাচন কমিশনের আয়ুষ্কাল আর মাত্র ৫৫ দিন। তার আগে আমাদের দায়িত্ব সুসম্পন্ন করতে চাই। বাংলায় প্রবাদ আছে, যার শেষ ভালো, তার সব ভালো। কাজেই এই শেষ ভালোটাকে আমরা সব ভালোর মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ।


আরও খবর



মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৬ শতাধিক শরণার্থীকে ফেরত পাঠাল থাইল্যান্ড

প্রকাশিত:সোমবার ২০ ডিসেম্বর ২০21 | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং জাতিগত বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের মুখে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ৬শরও বেশি জনকে ফেরত পাঠিয়েছে থাইল্যান্ড। রোববার থাইল্যান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শরণার্থীদেরকে ফেরত পাঠানোর এই খবর জানিয়েছেন। এদিনও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ চলছে বলে জানান তিনি।

সীমান্তের থাই অংশে রয়টার্সের এক সাংবাদিক রোববার বিকালেও অবিরাম গুলির আওয়াজ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এই লড়াই পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার সকালের দিকে রয়টার্সের সাংবাদিকরা থাইল্যান্ডের স্থানীয় একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া কয়েক ডজন শরণার্থীকে সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানোর জন্য তিনটি ট্রাকে তুলতে দেখেছেন।

ট্রাক সীমান্ত ছেড়ে যাওয়ার আগে এক শরণার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‌‌আমি মায়ে তাও তালে থেকে পালিয়ে এসেছি। সেখানে আমার আশপাশের এলাকায় গোলা পড়েছিল। আমি পানি পার হয়ে এই (থাইল্যান্ড) দিকে হেঁটে এসেছি।

থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের গভর্নর সোমচাই বিকালের দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, লড়াইয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক শরণার্থী স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে চাইছেন।

সোমচাই বলেন, এ পর্যন্ত ৬২৩ জন শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখনও ২, ০৯৪ জন শরণার্থী থাইল্যান্ডে অবস্থান করছে। তারা মিয়ানমারে ফিরতে চাইলে তাদেরকেও ফেরত পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন থাইল্যান্ডকে তাড়াহুড়ো করে শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‌মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন মাঠে নামে, তখন তারা যে ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষকে হামলার নিশানা করে সেটি সবারই জানা। তাই এই শরণার্থীরা যে আসলেই তাদের জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না।

রোববার এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে করা ফোনকলের কোনও সাড়া দেননি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্র। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

থাইল্যান্ড-ভিত্তিক মিয়ানমারের শরণার্থী অধিকার সংগঠন দ্য এইড অ্যালায়েন্স কমিটি বলেছে, থাইল্যান্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১,০০০ বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী।

এরপর থেকেই দেশটিতে সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলে আছে। গ্রামাঞ্চলের জঙ্গলে জঙ্গলে জান্তার বিরুদ্ধে লড়তে সংগঠিত হচ্ছে সাধারন মানুষ ও কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মাঝে মধ্যেই তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হচ্ছে।

মিয়ানমারের সবচেয়ে পুরোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) সঙ্গে সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এ সহিংসতা থেকে বাঁচতেই কারেন রাজ্য থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্তে আশ্রয় নিচ্ছে মানুষ।

অনেকে মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের মাঝের ছোট ছোট নদী পাড়ি দিচ্ছেন নৌকায় করে। আবার কেউ কেউ শিশুকে হাতে উঁচু করে তুলে ধরে বুক সমান পানি পেরিয়ে থাইল্যান্ডের দিকে ছুটছেন।



আরও খবর

আবুধাবিতে ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত

সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২