Logo
শিরোনাম

নামের আগে-পরে ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলোর বিশ্লেষণ

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ মার্চ ২০২১ | ৯৫জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নামের আগে-পরে ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলোর বিশ্লেষণশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের পর লেখা হয়- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

ধর্মীয় নেতা কিংবা ব্যক্তিত্বের নামের আগে বা পরে নানা ধরনের উপাধি লেখা হয়।

ব্যবহৃত উপাধিসমূহের কিছু অর্থ বুঝা যায়, আর কিছু উপাধি বা নামের আগে পরে থাকা শব্দের অর্থ অনেকই বুঝেন না; জানেন না। ক্ষেত্রবিশেষ এসব আবার সংক্ষেপেও লেখা হয়।

না জানা থেকে এগুলো পড়তে অনেকের ভুল হয়। কেননা, লেখার সময় সংক্ষেপণ রীতিসিদ্ধ হলেও পড়ার সময় কিন্তু সংক্ষেপণ রীতি সিদ্ধ নয়। বরং পড়ার সময় সংক্ষিপ্ত শব্দের বিস্তারিত রূপ পাঠ করাই হলো- নিয়মের কথা। নামের আগে-পরে ব্যবহৃত ওইসব শব্দের মাঝে রয়েছে-

সা., স., দ.

এ শব্দগুলো সংক্ষেপের যে কোনো একটি লেখা হয় শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের পর। সা., স. অথবা দ. যেটাই লেখা থাকুক; পড়তে হবে- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এর অর্থ, আল্লাহ তার (নবী মুহাম্মদ) ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুক।

পরিভাষায় এ বাক্যের নাম দরুদ। তাই সংক্ষেপ করতে যেয়ে অনেক সময় দ. লেখা হয়। আবার প্রথম বর্ণ  হওয়ায় শব্দ সংক্ষেপ করে সা., কিংবা স. লেখা হয়। তবে বেশ আগে দ. লেখার প্রচলন থাকলেও বর্তমানে তা নেই বললেই চলে। এখন সবাই সা., অথবা স. লেখে থাকেন। 

তবে অভিজ্ঞ ইসলামি স্কলাররা এ বাক্যকে সংক্ষেপ করে লেখাকে পছন্দ করেন না। তারা সবসময় পূর্ণ বাক্য লেখার পক্ষপাতী।

আ.

এ শব্দসংক্ষেপ লেখা হয়ে থাকে শেষ নবী ব্যতীত অন্য সব নবীদের নামের পর। এর পূর্ণ রূপ হলো- আলাইহিস সালাম।  অর্থ, তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

রা., রাযি., রাজি. ও রাদি.

এ শব্দগুলোর যে কোনোটি লেখা হয়- সাহাবিদের নামের পরে। ইসলামের পরিভাষায় সাহাবি বলা হয়, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছেন এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এ শব্দ সংক্ষেপগুলোর পূর্ণরূপ একবচন পুরুষের ক্ষেত্রে রাযিয়াল্লাহু আনহু, বহুবচন পুরুষের ক্ষেত্রে রাযিয়াল্লাহু আনহুম, একবচন মহিলার ক্ষেত্রে রাযিয়াল্লাহু আনহা, বহুবচন নারীর ক্ষেত্রে রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না এবং দ্বি-বচন পুরুষ-মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে রাযিয়াল্লাহু আনহুমা।  পূর্ণ বাক্যের অর্থ হলো- আল্লাহ তার অথবা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। 

র., রহ.

র., রহ. শব্দ দুটো সংক্ষেপ লেখা হয় নবী ও সাহাবি ব্যতীত বিশিষ্ট নেককার, পরহেজগার, মুত্তাকি মুসলিমদের মধ্যে যারা মারা গেছেন- তাদের নামের পর। পূর্ণ রূপ হলো-রাহমতুল্লাহি আলাইহি।  বাক্যটির অর্থ- তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

দা. বা., মু. আ., হাফি.

এ শব্দসংক্ষেপগুলো লেখা হয়- বিশিষ্ট নেককার, পরহেজগার মুত্তাক মুসলিমদের মধ্যে যারা জীবিত আছেন- তাদের নামের পর। দা. বা.-এর পূর্ণ উচ্চারণ হলো- দামাত বারাকাতুহুম।  অর্থ- তার কল্যাণসমূহ স্থায়ী হোক। 

মু. আ.-এর পূর্ণ উচ্চারণ হলো- মুদ্দাযিল্লুহুল আলি।  অর্থ- তার মহান ছায়া আমার ওপর দীর্ঘ হোক। হাফি.-এর পূর্ণ উচ্চারণ হলো- হাফিযাহুল্লাহ।  অর্থ- আল্লাহ তার হেফাজত করুক।

মাও.

শব্দটি সংক্ষেপ লেখা হয় কওমি মাদরাসা থেকে তাকমিল বা দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ হয়েছেন অথবা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেছেন তাদের নামের পূর্বে। এর পূর্ণ উচ্চারণ হলো- মাওলানা।  অর্থ- আমাদের কল্যাণকামী বন্ধু।

এভাবে নামের আগে-পরে ছাড়াও মুসলিম সভ্যতায় ব্যবহারিক জীবনে বেশ কিছু আরবি বাক্য খুব গুরুত্ব ও যত্নের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। যেমন-

আলহামদুলিল্লাহ

কোনো শুভ সংবাদের আগে বা পরে এ বাক্যটি বলা হয়। যেমন, আলহামদুলিল্লাহ- আমি ভালো আছি। বাক্যটির অর্থ- সব প্রশংসা আল্লাহর।

ইন্নালিল্লাহ

ছোট-বড় যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির শিকার হলে এ বাক্যটি বলা হয়। কোনো কিছু হারিয়ে গেলে বলতে হয়- ইন্নালিল্লাহ। আবার অনেক সময়, বিশেষতঃ কারো মৃত্যুর সংবাদ দেওয়ার সময় আরেকটু বড় করে বলা হয়- ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাক্যটির অর্থ- আমরা সবাই আল্লাহর অধীন এবং আমরা সবাই তারই কাছে ফিরে যাব।

জাযাকাল্লাহ

ধন্যবাদ জানানোর জন্য এ বাক্যটি বলা হয়। এর অর্থ- আল্লাহ আপনাকে প্রতিদান দেবেন।

ইনশাআল্লাহ

ভবিষ্যতে কোনো কিছু করার ইচ্ছা ব্যক্ত করার আগে বা পরে এ বাক্যটি বলা হয়। যেমন- ইনশাআল্লাহ, আমি কাল আপনার সঙ্গে দেখা করব। অর্থ- যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয়।

মাশাআল্লাহ

ভালো কোনো কিছু দেখলে এ বাক্য বলা হয়। যেমন- মাশাআল্লাহ, আপনার ছেলে খুব সুন্দর হয়েছে। মাশাআল্লাহ শব্দের অর্থ- আল্লাহ যেমন চেয়েছেন।

Share

আরও খবর

ভালোবাসা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

সরস্বতী পূজা আজ

মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১




৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হবে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ’

প্রকাশিত:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১ | ৪২জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে আগামী ০৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাটকা সম্পৃক্ত জেলাসমূহে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ উদযাপন করা হবে। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের স্লোগান নির্ধারন করা হয়েছে মুজিববর্ষে শপথ নেবো, জাটকা নয় ইলিশ খাবো।

সোমবার (০১ মার্চ) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সভা কক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্মসচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গবেষকবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, পরিবহন মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি, মৎস্যজীবী সমিতি, মৎস্যজীবী লীগসহ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব বলেন, গতবছর মা ইলিশ সংরক্ষণে সফল অভিযানের ফলে ৩৭ হাজার আটশ কোটি ইলিশের পোনা ইলিশ সম্পদে যুক্ত হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণেও আমাদের সাফল্য নিয়ে আসতে হবে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে আগামীতে ইলিশের উৎপাদন ৬ লক্ষ মেট্রিক টন হবে।

এসময় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামী ০৫ এপ্রিল পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে এদিন বর্ণাঢ্য নৌর‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে (০৪ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ও ডকুমেন্টারী প্রদর্শন, বেতার-টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন, ইলিশবিষয়ক কর্মশালা, সভা-সেমিনার আয়োজন, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ, বাজার ও অবতরণ কেন্দ্রে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার ব্যাপারেও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ইলিশ তথা মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে অবৈধ জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক ও জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন হয়ে আসছে।

Share

আরও খবর



বাংলাদেশ : এশিয়ার বিস্ময়কর ডিজিটাল নেতা: জয়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১ | ৫৫জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
মোবাইল ফোনগুলো হচ্ছে এই বিস্ময়কর ঘটনার মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশে এখন জাতীয় জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯ চালু হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত। এই সেবাটির মাধ্যমে নাগরিকরা দুর্ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা নিউজ উইক-এর সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিবন্ধ।

নিবন্ধে বাংলাদেশ সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' কর্মসূচিতে ২০০৯ সাল থেকে ১৩ লক্ষাধিক আইটি পেশাজীবী ও ১০ হাজার আইটি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জয়।

'বাংলাদেশ : এশিয়ার বিস্ময়কর ডিজিটাল নেতা' শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধটিতে জয় লিখেছেন, 'ডিজিটাল বাংলাদেশ শুরুর পর থেকে, ১৩ লক্ষাধিক আইটি পেশাজীবী বাংলাদেশে স্থায়ী হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ১০ হাজার আইটি উদ্যোক্তাও।'

নিবন্ধটিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির মাত্র এক দশকের মধ্যে ডিজিটালাইজেশনে রূপান্তরিত হওয়া ও এর ফলে কী সুফল পাচ্ছে এবং কীভাবে দেশটি তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নিচে জয়ের নিবন্ধটি তুলে ধরা হলো

এক দশক আগে, বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার প্রতিজ্ঞা নেয়। ২০২১ সাল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। তখন খুব বেশি লোক এটা বিশ্বাস করতে পারেনি।

প্রকল্পটির প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন মাত্র দুই কোটি বাংলাদেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। কিন্তু এখন ১২ কোটি বাংলাদেশি  মোবাইল ব্যবহার করে। এর পাশাপাশি কয়েক লাখ বাংলাদেশির মোবাইলে উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এদের অনেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের বাসিন্দা। এর ফলে অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়ন ঘটেছে।

পরিকল্পনামাফিক শ্রমসাধ্য, কাগজভিত্তিক সরকারি সেবাসমূহকে সহজে ব্যবহারযোগ্য ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন-ভিত্তিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করতে ২০০৯ সালে উচ্চাভিলাষী ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ই-সিগনেচার ও ইলেকট্রনিক ফাইলিংও ব্যাপকভাবে চালু করা হয় ও এতে উৎসাহ দেওয়া হয়। এতে সুফল মেলে। সরকার আট হাজার ৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে- যা এখন মানুষকে কার্যত সব ধরনের অনলাইন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল সেন্টারগুলো মানুষকে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, চাকরি ও চিকিৎসাসেবা নিতে সহায়তা করছে। এমনকি অনেক জাতীয় কর্মকাণ্ডও অনলাইনে হচ্ছে। অনলাইনে এই ডিজিটাল সেবার কারণেই মূলত গত বছর করোনাভাইরাসের সময় প্রায় নির্বিঘ্নে সরকারি সেবাসমূহ দেওয়া হয়েছে।

একটি নতুন জুডিশিয়ারি পোর্টালের সহায়তায় আদালতগুলোও তাদের কার্যাবলি অব্যাহত রাখে। কৃষকরা অনলাইনে অ্যাগ্রিকালচারাল পোর্টারের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে। নাগরিকরা এখন সহজলভ্য মোবাইল ব্যবহার করে কভিড-১৯ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারছে। অনলাইনে অনেক কর্মসূচি যুক্ত হয়েছে- যেগুলোর মাধ্যমে পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত প্রায় সব সরকারি ফরম পূরণ করা যায়।

মোবাইল ফোনগুলো হচ্ছে এই বিস্ময়কর ঘটনার মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশে এখন জাতীয় জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯ চালু হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত। এই সেবাটির মাধ্যমে নাগরিকরা দুর্ঘটনা, সাইবারক্রাইম, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিকাণ্ড, জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ যেকোনো প্রয়োজনে কল করতে পারে। জাতীয় হেল্প ডেস্ক প্রতি মিনিটে ৬০টি কলে সাড়া দিচ্ছে। জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশলের কল্যাণে টেলিমেডিসিন শুধু সম্ভবই নয়, বিশেষত সেবাদান এলাকার আওতার বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলেও এখন বাস্তবতা। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যসম্পর্কিত মৌলিক তথ্য প্রচার করে স্বাস্থ্যকর জনসংখ্যা গড়ে তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়া সরকার জবাবদিহি এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনলাইন অভিযোগের প্রতিকারব্যবস্থা বাংলাদেশিদের সহজেই সরকারি পরিষেবা বা পণ্য সম্পর্কে অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ব্যাপক কানেকটিভিটি অর্থনীতিতেও সহায়তা করেছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। একটি দক্ষ, ডিজিটালি প্রস্তুত শ্রমশক্তি বিকাশের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং যা এখন বছরে পাঁচ লাখ স্নাতক কর্মী তৈরি করছে। শুধু গত বছরেই তাদের মধ্যে ৬৫ হাজারেরও বেশি তথ্য-প্রযুক্তি পেশাদার ছিলেন। ডিজিটাল কেন্দ্রগুলো নিজেরাই কর্ম সৃজনকারী। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজনের মধ্যে কমপক্ষে একজন মহিলা মনোনীত করা হয়েছে।

মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণ হলো বাংলাদেশ সাইবার শ্রমিকদের জন্য উর্বর স্থল। তরুণরা এই সুযোগ পেয়ে লাফিয়ে উঠছে। বিগত বছরগুলোতে, তাদের বেশির ভাগ পরিবারের ব্যবসার বাইরে তাদের জীবন কল্পনাও করতে পারেনি। আজ তরুণ বাংলাদেশিরা ক্রমবর্ধমান হারে শহুরে, ভ্রাম্যমাণ এবং নতুন অর্থনীতিতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত।

ডিজিটালাইজেশন থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সুফল পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৩ লক্ষাধিক প্রযুক্তিবিদ বাংলাদেশকে তাঁদের আবাসস্থল করে তুলেছে। প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রয়েছে।

সব মিলিয়ে তাঁরা এখন তথ্য-প্রযুক্তি পরিষেবা থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছে। অন্যভাবে বলা যায়, ডিজিটাল বাংলাদেশ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশিরা ২ বিলিয়ন ঘণ্টা, ৮ বিলিয়ন ডলার এবং সরকারি সেবা গ্রহণে ১ বিলিয়ন পরিদর্শন সাশ্রয় করেছে।

বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই তারকা বনে যাচ্ছে। দেশটি ২০১৮ সালে প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছে। উপগ্রহ টেলিযোগাযোগ সেবায় বিন্যস্ত করে সরবরাহ আমাদের অর্থনীতিকে আরো জোরদার করে তুলেছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আজ এটি ৮ শতাংশেরও ওপরে রয়েছে। এটি সহজেই উপলব্ধি করা যায়, উচ্চগতির সংযোগ বৃদ্ধির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। তবে সেগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে, যা ইন্টারনেট যুগের দিকে দেশের নাটকীয় পদক্ষেপের চেয়ে আরো উল্লেখযোগ্য। এমনকি আমরা আমাদের ডিজিটাল দক্ষতা রপ্তানি করছি। বাংলাদেশি প্রশিক্ষকরা মালদ্বীপ, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কায় আমাদের এশীয় প্রতিবেশীদের ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণে দিতে সহায়তা করছেন। এক দশক আগে কেউই এটি সম্ভব হবে বলে ভাবেননি।

Share

আরও খবর

করোনার টিকা ব্যবস্থাপনা: দশে দশ

বৃহস্পতিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১




৭ মার্চ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ মার্চ ২০২১ | ৭১জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ৭ মার্চ থেকে শুরু হবে। এবার লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে শুধুমাত্র বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার তারিখের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম. আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার বিবেচনায় প্রতি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর আবেদন সংখ্যা ৪৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনটি ইউনিটে (এ, বি ও সি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন প্রতি ইউনিটে তিন শিফটে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা, দুপুর ১২টা থেকে ১টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতি শিফটে ১৫ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন।

শুধুমাত্র ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান ও লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

Share

আরও খবর



ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানোর অনুমোদন দিয়েছে সিনেট

প্রকাশিত:বুধবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ মার্চ ২০২১ | ৫৩জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। সিনেটে ৫৬-৪৪ ভোটে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে রায় আসে। গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলেভয়াবহ হামলার ঘটনায় সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একটি ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং এ ভিডিওটি ছিল ট্রাম্পের ৬ জানুয়ারির বক্তৃতা এবং তার সমর্থকদের তাণ্ডবের দৃশ্য। ম্যারিল্যান্ড থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি জ্যামি রাসকিন বলেন, এটা বড় অপরাধ ও অসদাচরণ। এটা অভিশংসনযোগ্য অপরাধ না হলে আর কিছুই তা হতে পারে না।

তবে ৫৬-৪৪ ভোটের অর্থ হলো অন্তত ছয় জন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এরপরও এটি প্রমাণ করে যে সিনেটে শাস্তি এড়াতে ট্রাম্পের যথেষ্ট সমর্থন আছে। কারণ বিচার করে শাস্তি দিতে হলে সিনেটের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার হবে। তবে শাস্তি পেলে  ট্রাম্প ভবিষ্যতে আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এদিকে সিনেট কার্যক্রমের শুরুতে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দেখান যে তাদের উদ্যোগ আইনসম্মত। এরপর দশ মিনিটের ভিডিওটি দেখানো হয় যেখানে ট্রাম্প তার সমর্থকদের জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ের কথা বলেন। এরপরই ক্যাপিটলে হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রতিটি পক্ষ এখন ১৬ ঘণ্টা করে সময় পাবে নিজেদের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে, যা শুরু হবে বুধবার দুপুর থেকে। এ যুক্তিতর্ক পুরো পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা। এরপর সিনেটররা দুপক্ষকেই জেরা করার সুযোগ পাবেন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন, তিনি অভিশংসন শুনানিতে যোগ দেবেন না এবং কোনো বক্তব্যও দেবেন না। দুপক্ষের আইনপ্রণেতারাই বলেছেন, তারা দ্রুত এ প্রক্রিয়া শেষ করার পক্ষে।

সব মিলে যে ধরনের সময়সূচি দেখা যাচ্ছে, ধারণা করা যায়, ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি হবে না, সে ব্যাপারে আগামী সোমবার নাগাদ একটা ভোটাভুটিতে যেতে পারে সিনেট।

Share

আরও খবর



জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

স্থগিত সকল পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১ | ৬৮জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত করা সকল পর্যায়ের পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৪ মে থেকে সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স দ্বিতীয় বর্ষের স্থগিত পরীক্ষা এবং ২০১৮ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষাসহ অন্যান্য সকল প্রফেশনাল কোর্সের স্থগিত পরীক্ষা আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে। এছাড়া ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম আগামী ৮ জুন থেকে শুরু হবে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষার বিস্তারিত সংশোধিত সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd) প্রকাশ করা হয়েছে।

Share

আরও খবর