
স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের থেকে ১৬২ রানে
পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১০৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছিল
বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস পরাজয় চোখ রাঙানি দিচ্ছিল সফরকারীদের।
৬ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের লাঞ্চ
বিরতিতে যায় সাকিব আল হাসানের দল। তখনও ছিল ৪৭ রান পেছনে। তাই শঙ্কা ছিলই। তবে অধিনায়ক
সাকিব আর নুরুল হাসান সোহান লড়াকু জুটিতে ইনিংস পরাজয় থেকে বাঁচিয়েছেন দলকে।
সপ্তম উইকেটে হাফসেঞ্চুরি জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন
আছেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ
৬ উইকেটে ১৬৫ রান। টাইগারদের লিড এখন ৩ রানের। সাকিব ৩৬ আর সোহান ২১ রানে অপরাজিত আছেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল
২ উইকেটে ৫০ রান। আগের দিন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল ও প্রমোশন পেয়ে ওপরে ওঠা মেহেদি
হাসান মিরাজের উইকেট হারায় সফরকারীরা। ১১২ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শুরু করে বাংলাদেশ।
এর আগে মেহেদি মিরাজের চার উইকেটের সঙ্গে
খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনদের জোড়া শিকারে ক্যারিবীয়দের ২৬৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।
তবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় স্বাগতিকরা পেয়ে যায় ১৬২ রানের বড় লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক
শুরুর আভাসই দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। একপ্রান্তে রয়েসয়ে খেলেন জয়,
তামিম ছিলেন স্বপ্রতিভ। কিন্তু দশম ওভারে আক্রমণে এসেই তামিমকে ফিরিয়ে দেন আলজারি জোসেফ।
উইকেটের পেছনে ক্যাচ হওয়ার আগে চারটি চারের
মারে ৩১ বলে ২২ রান করেন তামিম। তিন নম্বরে নাইটাওয়াচম্যান হিসেবে নামানো হয় মেহেদি
মিরাজকে। নিজের পরের ওভারে এ ডানহাতি অলরাউন্ডারকেও ফিরিয়ে দেন জোসেফ। আউট হওয়ার আগে
মাত্র ২ রান করতে পেরেছেন মিরাজ।
এরপর দিনের শেষভাগের প্রায় আধঘণ্টা সময়
নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দিয়েছেন মাহমুদুল জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুজনের অবিচ্ছিন্ন
৫০ বলের জুটিতে আসে ১৫ রান। জয় ১৮ ও শান্ত ৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করেন।
তৃতীয় দিনের সকালটাও দেখেশুনে শুরু করেছিলেন
মাহমুদুল হাসান জয় আর নাজমুল হাসান শান্ত। প্রথম আধ ঘণ্টা কাটিয়েও দিয়েছিল এই জুটি।
কিন্তু এরপরই ভুল করে বসেন শান্ত।
কাইল মায়ার্সের বাউন্সি ডেলিভারিতে ব্যাট
ছুঁইয়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ৪৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে
তিনি করেন ১৭ রান। প্রথম ইনিংসে কেমার রোচের বলে শান্ত বোল্ড হয়েছিলেন, আরও একবার দৃষ্টিকটু
আউট হলেন।
এরপর দ্রুতই ফিরেছেন মুমিনুল হক। নেতৃত্বের
চাপে ভেঙে পড়ছেন, এমনটা ভেবেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটার টানা ৯ ইনিংস
দশের নিচে আউট হয়েছেন।
এবার মুমিনুল সাজঘরে ফিরেছেন ৪ রানে। কাইল
মায়ার্সের ডেলিভারি প্যাডে লাগলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। মুমিনুল রিভিউ নিয়েছিলেন।
কিন্তু লেগ স্ট্যাম্প অল্প একটু পেয়ে যাওয়ায় আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হয়েছে বাঁহাতি এই
ব্যাটারকে। প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন শূন্য।
ফর্মে থাকা লিটন দাসের ওপর বড় আশা ছিল
টাইগার সমর্থকদের। মাহমুদুল জয়ের সঙ্গে ২৫ রানের একটি জুটিও গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত বাকিদের মতো বাজে শট খেলেই আউট হয়েছেন।
ব্যক্তিগত ১৭ রানে সাজঘরের পথ ধরেন ডানহাতি
এই ব্যাটার। কেমার রোচের শরীরের অনেক বাইরে থাকা ডেলিভারি অযথা শট খেলতে গিয়ে দ্বিতীয়
স্লিপে ক্যাচ হন লিটন।
অভিজ্ঞ ব্যাটাররা একের পর এক ফিরে যাচ্ছেন
সাজঘরে। কিন্তু তরুণ মাহমুদুল হাসান জয় ধৈর্যর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিলেন। একদম টেস্ট মেজাজেই
খেলছিলেন টাইগার ওপেনার। হাফসেঞ্চুরিটা তার প্রাপ্যই ছিল।
কিন্তু চল্লিশের ঘরে গিয়ে ভুল করে বসেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। কেমার রোচের বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে শট খেলতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন জয়। ১৫৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে তার ৪২ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটির সমাপ্তি তাতেই।

