
শুরুতে ঝড় তুললেন
সাকিব আল হাসান। তাতে বড় সংগ্রহ দাঁড় করালো ফরচুন বরিশাল।
জবাব দিতে নেমে
আক্রমণাত্মক খেললো সিলেট সিক্সার্সও। তৌহিদ হৃদয় পেলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। দুই ইনিংস
মিলিয়ে ছয় ক্যাচ ফেলা ও অসংখ্য ফিল্ডিং মিসের ম্যাচে শেষ অবধি জয় পেলো সিলেট।
শনিবার শের-ই-বাংলা
স্টেডিয়ামে বিপিএলের চতুর্থ ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসানের ঝড়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান করে বরিশাল। জবাব
দিতে নেমে পুরো এক ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সিলেট। টুর্নামেন্টে এটি তাদের
টানা দ্বিতীয় জয়।
টস জিতে ব্যাট
করতে নামে সিলেট। দলটির দুই ওপেনার চতুরঙ্গা ডি সিলভা ও আনামুল হক মিলে তুলে ফেলেন
৬৭ রান। ২১ বলে ২৯ রান করা আনামুলকে বিদায় করে এই জুটি ভাঙেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।
এরপর চতুরাঙ্গা (৩৬)-কে ফেরান পাকিস্তানি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম।
৬ রানের ব্যবধানে
দুই ওপেনারকে হারানোর পর চাপে পড়ে যায় বরিশাল। দলীয় সংগ্রহ ১০৮ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটও
হারায় তারা। এবার তিনে নামা ইফতিখার আহমেদকে (১৩) ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মাশরাফি। তবে
এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দেন সাকিব। ২০ বল স্থায়ী তাদের
জুটিতে আসে ৩০ রান। ১২ বলে ১৯ রান করে রিয়াদ লঙ্কান পেস অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরার
শিকার হয়ে ফেরেন।
রিয়াদ বিদায় নিলেও
জারি থাকে সাকিবের তাণ্ডব। অবশ্য ব্যক্তিগত ৩২ রানে জীবন পান তিনি। পাকিস্তানের পেসার
মোহাম্মদ আমিরের বলে লং অনে তুলে মেরেছিলেন টাইগারদের বাঁহাতি অলরাউন্ডার। বল সেখানে
থাকা ফিল্ডার ইমাদ ওয়াসিমের হাত থেকে ফসকে যায়। এরপর সাকিব আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন।
১৭তম ওভারে তার
৩ চার ও ১ ছক্কায় আসে ১৯ রান। এর মধ্যে প্রথম বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটি তুলে নেন সাকিব;
মাত্র ২৬ বলে। হায়দার আলীর সঙ্গে ১৪ বল স্থায়ী সাকিবের পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ৩৩ রান।
এর মধ্যে হায়দারের অবদান মাত্র ৩ রান। বাকি ৩০ রান আসে সাকিবের ব্যাট থেকে; ৮ বলে।
১৯তম ওভারের শেষ
বলে ব্যক্তিগত ৬৬ রানে ফের জীবন পান সাকিব। এবার আকবর আলী সহজ ক্যাচ ধরতে পারেননি।
জীবন পেয়েই পরের বলে ছক্কা হাঁকান সাকিব। পরের ওভারের প্রথম বলেই অবশ্য সাকিব ঝড় থামিয়ে
দেন মাশরাফি। তার বলে ক্যাচ নেন
‘দুর্ভাগা’ আমির।
তবে রিপ্লেতে দেখা যায় ‘নো বল’ ছিল। কিন্তু
আম্পায়ার আউট দিয়ে দেন।
বিদায়ের আগে ৩২
বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৭ রান করেন সাকিব। শেষদিকে ১২ বলে ১৭ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বরিশালের
সংগ্রহ ২০০-এর কাছাকাছি নিয়ে যান করিম জানাত। সিলেটের হয়ে ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট
পান মাশরাফি বিন মুর্তজা। একটি করে উইকেট নেন রেজাউর রহমান রাজা, ইমাদ ওয়াসিম ও থিসারা
পেরেরা।
জবাব দিতে নেমে
শুরুটা একদমই ভালো হয়নি সিলেট স্ট্রাইকার্সের। দলীয় ১ রানে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরত
যান উদ্বোধনী ব্যাটার কলিন আকারম্যান। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ১০১ রানের জুটি
গড়েন তৌহিদ হৃদয়। ৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
৭ চার ও ১ ছক্কায়
৩৪ বলে ৫৫ রান করে করিম জিনাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরত যান এই ব্যাটার। তার
সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত ৫ চার ও ১ ছক্কায় খেলেন ৪৮ রানের ইনিংস, তিনি হয়েছেন রান
আউট।
ঝড় তুলেন কদিন
আগেই টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়া জাকির হাসানও। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ১৮ বলে ৪৩ রান আসে তার ব্যাট
থেকে। বাকি কাজটুকু সারেন মুশফিকুর রহিম ও থিসারা পেরেরা। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১১ বলে
২৩ রান করে মুশফিক ও ৯ বলে ২০ রান করে পেরেরা দলের জয় নিশ্চিত করেন।

