Logo
শিরোনাম

শেখ হাসিনা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিচ্ছেন : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৫৯৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান হিসাবে তাদের বসবাসের জন্য বীর নিবাস নামের উন্নত ধরনের পাকা ভবন প্রদান, তাদের যাতায়াতে জন্য সরকারী পরিবহণে ভাড়া মওকুফসহ তাদের ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা প্রদান করছেন। পৃথিবীর হতিহাসে এমনভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীত করার নজির নাই। বুধবার (০৯ জুন) জেলার নাজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সাহায্য প্রদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথি হিসাবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাক হানাদারদের দোসর জামায়াতের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা দেশে হত্যাকাণ্ডসহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। কিন্তু জিয়াউর রহমানসহ খালেদা জিয়া শাসন আমলে  সেই জামায়াতসহ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির দোসর আলী হাসান মোজাহিদের গাড়িতের জাতীয় পতাকা দিয়ে বিএনপি সরকার দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় পতাকাকে অপমানীত করেছে । 

ওই দিন দুপুরে উপজেলার স্বাধীনতা মঞ্চে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে  ও যুবলীগ নেতা এসএম রোকনুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আনিসুর রহমান তালুকদার, প্রকল্প পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার অমূল্য রঞ্জন হালদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা  প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগে উপজেলার ১৩ অসহায় পরিবারকে প্রত্যেককে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও  ৬ হাজার টাকা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য তহফিলের ৫টি নতুন ঘর, ১৯ শিক্ষার্থীকে প্রত্যেককে নগদ ৬ হাজার টাকা, ৫৫ জনকে ১ লাখ টাকার শিক্ষা উপকরণ, ২০ শিক্ষার্থীকে নতুন বাইসাইকেল প্রদান করেন। এ ছাড়া উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণের জন্য ৩৮ জন  মৎস্য প্রদর্শী চাষীদের মাছের পোনা, খাবার সহ মৎস্য চাষের বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করেন।

এর আগে  মন্ত্রী উপজেলা পরিষদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। এ ছাড়া একই দিন সকালে মন্ত্রী উপজেলার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন  কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে খামারীদের মাঝে গো খাদ্য বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন রায়, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, প্রাণিসম্পদের জেলা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ভুঞা, উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মনিরুজ্জামান আতিয়ার, জেলা পরিষদ সদস্য মো. সুলতান মাহমুদ খান প্রমুখ।


আরও খবর



গাড়িতে গ্যাস নেয়ার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নারীর মৃত্যু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৫৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image


রাজধানীর হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকার আরএস সি এন জি পাম্পে একটি ট্রাকে গ্যাস নেয়ার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রাকটিতে থাকা এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর ।

সোমবার দিবাগত রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাজারীবাগ থানার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সজল তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সোয়া ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এএসআই সজল জানান, বেড়িবাঁধ এলাকার ওই সিএনজি পাম্পে একটি ট্রাক কয়েকজন নারীকে নিয়ে আসে। ট্রাকে গ্যাস নেয়ার সময় সবাই নেমে গেলেও ওই নারী ট্রাকের ভেতরেই বসে ছিলেন। হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢামেকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাম-ঠিকানা এখনও জানা যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী পেশায় শ্রমিক ছিলেন।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, আমরা জানতে পেরেছি হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ একটি পাম্পে ট্রাকে গ্যাস নেয়ার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত এক নারীকে ঢামেকে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।


নিউজ ট্যাগ: হাজারিবাগ

আরও খবর



তিন আসনে উপনির্বাচন: নৌকার হাল ধরবেন যারা

প্রকাশিত:শনিবার ১২ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৭৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
তিন আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে কুমিল্লা-৫ আসনের জন্য। ঢাকা-১৪ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩৪ জন। সিলেট-৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে ২৫টি

জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া তিন আসনের উপনির্বাচনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন উপনির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে আগাখান মিন্টু, কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান এবং সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগের হয়ে প্রার্থীতা লড়বেন।

শনিবার সকাল (১২ জুন) ১১টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আগাখান মিন্টু শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেট-৩ এ মনোনয়ন পাওয়া হাবিবুর রহমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আর কুমিল্লা-৫ এর আবুল হাসেম খান বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এদিকে তিন আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে কুমিল্লা-৫ আসনের জন্য। ঢাকা-১৪ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩৪ জন। সিলেট-৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে ২৫টি। সব মিলিয়ে তিন আসনের উপনির্বাচনের জন্য নৌকা প্রতীক পেতে আগ্রহীর সংখ্যা ৯৪।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৪ জুলাই এই তিন আসনের উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। পরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন ২ সপ্তাহ পিছিয়ে ২৮ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসি।

নিউজ ট্যাগ: আওয়ামী লীগ

আরও খবর



ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিষয়ে সর্তক থাকাটা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ১২১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয়। এটি নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাটা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁরা বলছেন, এ ছত্রাকবাহিত রোগ বাংলাদেশে আগেও হয়েছে। এ ছত্রাক প্রকৃতির সর্বত্র আছে। রোগ প্রতিরোধ কমে গেছে, এমন ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আক্রান্ত হলে এতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

তিন দিন আগে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে একজন রোগীর মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই রোগী অন্যান্য রোগের পাশাপাশি মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত একজন রোগী এখনো বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনাক্ত হওয়া আরেকজন রোগী অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন।

প্রতিবেশী ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে দেশের দুজন অণুজীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা হলেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কী

সমীর কুমার সাহা বলেন, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সর্বত্র বিরাজমান। আমাদের চারপাশেই এটি আছে। বেশি সময় ধরে ঘরে রাখা আমাদের জুতাতেও এ ছত্রাক থাকতে পারে, দীর্ঘক্ষণ রাখা রুটিতেও এটি সৃষ্টি হতে পারে। মাটি, গাছপালা, সার বা পচনশীল ফল ও সবজির মধ্যে এটি থাকতে পারে। এটি কোনো বিরল কিছু না।

এখন কেন বেশি ছড়াচ্ছে

করোনা মহামারির এ সময়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কথা বেশি শোনা যাচ্ছে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। এ অবস্থায় রোগীর জটিল অবস্থা সৃষ্টি হলে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এটা প্রমাণিত যে এটি রোগীকে সহায়তাও করে। করোনায় আক্রান্ত রোগীকেও স্টেরয়েড দেওয়া হয় বা হচ্ছে। ফুসফুসে যখন ভাইরাসটি যায়, তখন আমাদের শরীরে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এমন মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াকে আমরা স্টর্মও বলে থাকি। এতে রোগীর অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। এই স্টর্ম বা ঝড়ের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা অন্য যেকোনো সুযোগসন্ধানী জীবাণু, যেগুলো কিনা সাধারণ পরিস্থিতিতে আক্রমণ করে না, তারা এ সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেরয়েড প্রয়োগ করে রোগীর এই বাড়াবাড়ি অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। কিন্তু যদি এই স্টেরয়েডের পরিমাণ বেশি দিয়ে দেওয়া হয় অথবা রোগীর কোমর্বিডিটি থাকে, তখন রোগীর প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। এসব মানুষের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে অন্য যেকোনো জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। স্টেরয়েডের সঠিক ব্যবহারে এর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

আবার যখন স্টেরয়েডটা দেওয়া হচ্ছে, তখন পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতার অভাব এই ফাঙ্গাস ছড়ানোর একটি কারণ হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয় মোটেও। তাই এ নিয়ে ভীতির কারণ নেই বলেই মনে করেন অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক সমীর সাহা। খুব কদাচিৎ এর সংক্রমণ দেখা যায়।

অণুজীববিজ্ঞানী বে-নজির আহমদের মন্তব্য, আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যজনের হবে না। অর্থাৎ এটি মানুষে থেকে মানুষে ছড়ায় না বটে, তবে এটি ভিন্নভাবে ছড়াতে পারে। যেমন রোগীর চিকিৎসা-বর্জ্য হিসেবে এটি প্রকৃতিতে গেলে সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যদি নিরাপদ না থাকেন বা তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কীভাবে মানুষের শরীরে যেতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যায় থাকা ব্যক্তি বা চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহারের ফলে প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রকৃতিতে থাকা এ ছত্রাক নাক দিয়ে শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে সাইনাসে এবং ফুসফুসে ঢুকতে পারে। প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তির শরীরের কাটাছেঁড়া জায়গা, পোড়া জায়গা বা চর্মের কোনো ক্ষত থাকলে সেখানেও আক্রান্ত হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কত মারাত্মক?

ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সেখানে মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ৫০ শতাংশের বেশি।

ভারতে কেন এত বেশি

দুটি মূল কারণের কথা বলেন রোগতত্ত্ববিদ বে-নজির আহমেদ। তাঁর কথা, ভারতে করোনায় মৃত্যু ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে মৃতদেহের সৎকারের প্রথাগত স্থানে সংকুলান হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তাই পোড়ো জায়গাগুলো সৎকারের জন্য বেছে নেওয়া হয়। যখন এমনটা করা হলো তাতে ঝুঁকি বেড়ে গেল। এসব অপরিচ্ছন্ন স্থান থেকে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাকে বাদ দেওয়া যায় না।

ভারতে যারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের একটা বড় অংশেরই অক্সিজেন বেশি নেওয়ার কথা জানা গেছে। এবার ভারতে শিল্পের অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়েছে। এখানকার অক্সিজেন সিলিন্ডার যত্রতত্র পড়ে থাকে। ধরা যাক, কোনো সিলিন্ডারের গায়ে এটি লেগে আছে। হাসপাতালে এটি নিয়ে আসার পর যাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন, তাঁদের হাতে এটি লেগে যাচ্ছে। সেটি রোগীর মধ্যে চলে যেতে পারে। আবার সিলিন্ডারের যেখান থেকে অক্সিজেন বেরোচ্ছে, সেখানে যদি ছত্রাক লেগে থাকে তবে ক্যাথেটার লাগিয়ে যদি রোগীকে তা দেওয়া হয়, তবে তা সরাসরি ফুসফুসে চলে যাবে। এটি ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করবে।

বে-নজির আহমেদ বলেন, আমাদের জন্য এটি একটি শিক্ষা। আমাদের এখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি এখন বেশি করে ভাবতে হবে। হাসপাতালে আসার আগে ও পরে সিলিন্ডার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে হবে।

কাদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

যে মানুষগুলোর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কম, তারা এতে আক্রান্ত হতে পারে। ক্যানসার, এইডসে আক্রান্ত রোগীদের এতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। ডায়াবেটিস, ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছে, তারা খুব ঝুঁকিতে আছে। বংশ বা জন্মগতভাবে কেউ কেউ কম প্রতিরোধক্ষমতার অধিকারী। ঝুঁকি তাদেরও আছে। তাদের জন্য বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে করে প্রকৃতি থেকে না আসে। যেসব রোগী স্টেরয়েড পেয়েছে, তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে। তাদেরও সাবধানে থাকতে হবে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ায় কীভাবে

যেহেতু এটি প্রকৃতিতে বসবাস করে, তাই যেকোনো সময় এটি ছড়াতে পারে। এটি যেকোনো সময়েই আমাদের সংস্পর্শে আসতে পারে। আমাদের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতার বলেই এটি আক্রমণ করলেও কিছু হয় না। বে-নজির আহমেদ বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস চোখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। চোখ থেকে আবার মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে। এটা প্রাণঘাতী। আর সাইনাসের জায়গাটি ফাঁপা। সেখানে সংক্রমণ ব্যাপক আকারে হতে পারে এবং সেখান থেকে বেড়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি এই প্রথম

বে-নজির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এই সংক্রমণ আগেও হয়েছে। তবে সংখ্যায় কম। তাই এটি আমাদের দেশে হয় নাএমন কথা ঠিক নয়; আবার খুব বেশি হয়, সেটাও ঠিক নয়। এই সংক্রমণ মাঝেমধ্যেই আমাদের দেশে হয়।

করোনা রোগীদের জন্য ঝুঁকি কতটুকু

করোনা রোগীদের কারও কারও যেহেতু অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে তাই এই অক্সিজেন যাওয়াটা সব দিক থেকে জীবাণুমুক্ত হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, সব দিক থেকে জীবাণুমুক্ত হওয়া বলতে বোঝাচ্ছি সিলিন্ডারের গায়ে, নজল বা যে ক্যাথেটার দিয়ে অক্সিজেনটা দেওয়া হবে, সেখানে যেন না লেগে থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সব হাসপাতালে এ জন্য নজর দেওয়া উচিত।

সতর্কতা কী ধরনের

ব্যক্তিপর্যায়ে বেশি সতর্ক হওয়া উচিত তাদের, যারা করোনাকালে যেসব ব্যক্তি স্টেরয়েড পেয়েছে। করোনাকালে যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার পরও তাদের এসব পালন করতে হবে। যেমন মাস্ক পরা, বারবার হাত ধোয়ার বিধি মানতে হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে হাত অবশ্যই ধুতে হবে। তাদের কত দিন এটা পালন করতে হবে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের কথা, এসব ব্যক্তি যত দিন পারেন মাস্কটা পরবেন। এটা একটা অযাচিত সংক্রমণ। এটা যাতে না আসে, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়, সিডিসির পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, মিউকরমাইকোসিস আসে পরিবেশ থেকে। তাই একে রোধ করা কঠিন। এর কোনো টিকা নেই। যেসব মানুষের প্রতিরোধশক্তি কম, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ আছে ঝুঁকি কমানোর। তবে এর মাধ্যমে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা যাবে, তা নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মাণকাজ বা খননকাজ চলছে এমন স্থানে যাওয়া যাবে না। যদি যেতেই হয় তবে এন নাইনটিফাইভ মাস্ক পরে যাওয়া উচিত। বন্যা বা পানিতে ডুবে ছিল এমন ভবনে না যাওয়া উচিত। ধুলাবালু এড়িয়ে চলতে হবে, এড়িয়ে চলতে হবে স্যাঁতসেঁতে এলাকাও। বাগানে, উঠানে বা বনের মধ্যে ঘুরতে গেলে জুতা, ফুল প্যান্ট এবং ফুল স্লিভ শার্ট পরতে হবে। মাটি ধরতে হয়এমন কাজের জন্য অবশ্যই গ্লাভস পরে থাকতে হবে।

চামড়ার মাধ্যমে যেন সংক্রমণ না হয়, সে জন্য আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে এসব স্থানে যদি ধুলাবালু লাগে, তবে অবশ্যই তা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।


নিউজ ট্যাগ: ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

আরও খবর



আবু ত্ব-হা আদনানের সন্ধান চেয়ে অ্যামনেস্টির বিবৃতি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | ৭৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নিখোঁজ ইসলামিক বক্তা আদনানের সন্ধান চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার ভেরিফায়েড টুইটার থেকে ওই বিবৃতি দেয়া হয়।

গত চারদিন ধরে নিখোঁজ বাংলাদেশের আলোচিত ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। আবু ত্ব-হা যদি নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে থাকে, তাহলে দ্রুত মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।


সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ত্ব-হা নিখোঁজ সংক্রান্ত বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন শেয়ার করা হয়েছে। এর সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তাঁর তিন সঙ্গী গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন।

অ্যামনেস্টির দাবি, নিখোঁজ আবু ত্ব-হা ও তাঁর সঙ্গীদের অবস্থান শনাক্তে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আর তারা যদি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকে, তাহলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হওয়ার পর থেকে আবু ত্ব-হার খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন ফয়েজেরও খোঁজ মিলছে না।


আরও খবর



গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বেড়েছে ভারতে

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ মে 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ১০৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেকটা ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভারতে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। এসবের মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত কমলেও মৃত্যু ফের চার হাজার ছাড়িয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (২১ মে) সকাল ৭টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ৪ হাজার ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৯ জন। এর আগে গতকাল দেশটিতে ৩ হাজার ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৬১ জন।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (২১ মে) সকাল ৭টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এবং আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৮ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ কোটি ৫৮ লাখ ৩১ হাজার ১৬১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ কোটি ৬৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৯৩ জন।

নিউজ ট্যাগ: করোনাভাইরাস

আরও খবর