Logo
শিরোনাম

সম্প্রচার জটিলতায় বাফুফে

প্রকাশিত:সোমবার ২৮ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০২৩ | ১৪৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও দর্শক সেই আগের পর্যায়ে নেই। ঘরোয়া ফুটবলে গ্যালারি অনেকটা শূন্য থাকলেও জাতীয় দলের ম্যাচে এখনা নজরে রাখেন ফুটবলপ্রেমিরা। অনেকে ছুঁটে যান মাঠে, অনেকে আবার চোখ রাখেন টিভি-অনলাইনের মনিটরে। ২৪ মার্চ মালদ্বীপে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা অনলাইনে ঘাটাঘাটি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত গ্যালারিতে থাকা প্রবাসীদের ফেসবুক লাইভই ছিল ভরসা।

আগামী মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে সিলেটে খেলবেন জামালরা। এই ম্যাচ কোন টিভি বা মাধ্যমে সম্প্রচার হবে এটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। দেশের একমাত্র ক্রীড়া ভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনা চলছে বাফুফের। দুই পক্ষ এখনো দর কষাকষির মধ্যে রয়েছে। আজকের মধ্যেই হ্যাঁ-না সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার কথা। দুই দিন পর খেলা শেষ মুহূর্তে এই দর কষাকষির কারণ সম্পর্কে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, আমরা আশা করছি ফুটবলপ্রেমীরা টি-স্পোর্টসের মাধ্যমে খেলা দেখতে পারবে। আমাদের মার্কেটিং বিভাগ এই ম্যাচের মাধ্যমে কিছু আয়ের চেষ্টা করছে। এজন্য বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বাফুফের লক্ষ্য এই খেলার মাধ্যমে টিভি রাইটস বাবদ টি-স্পোর্টসের কাছ থেকে কিছু অর্থ আদায় করা। অন্যদিকে টি স্পোর্টসের খেলা সম্প্রচার করতেই অনেক ব্যয় হয় এর বিপরীতে তেমন বিজ্ঞাপন আসে না। এর উপর বাফুফেকে অর্থ দিলে তাদের লোকসানের শঙ্কা আরও বাড়ে।  অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের আয়ের অন্যতম উৎস টিভি স্বত্ত। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেখানে এই খাত তেমন আয় করতে পারে না। এই প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা এখন চেষ্টা করছি কিছু ক্ষেত্রে উপার্জন করার। এটাও ঠিক সম্প্রচারকারী চ্যানেলেরও অনেক খরচ এবং তাদেরও লাভ সেক্ষেত্রে হয় না।’

দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেট বোর্ডে স্থায়ী আমানত ৯০০ কোটি টাকার বেশি। এই অর্থ হওয়ার অন্যতম মাধ্যম টিভি রাইটস বিক্রি। ক্রিকেট বোর্ড তাদের টিভি স্বত্ত্ব পেশাদারভাবে বিক্রি করে। বাফুফে নিলাম করে বিক্রি করা তো দূরে এখনো টিভি স্বত্ত্ব সংক্রান্ত সেই রকম নীতিমালা নেই।

বিসিবি ও বাফুফে উভয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান কে স্পোর্টসের। কে স্পোর্টসের সিইও ফাহাদ করিম বাফুফের টিভি স্বত্ত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণ, আমাদের দেশের ক্রীড়ার বাজার ক্রিকেট কেন্দ্রিক। ক্রিকেটে একটা বিষয় হচ্ছে যারা টিভি রাইটস কিনছে তারাই স্পন্সর করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলায় টিভি রাইটস বিক্রি করা বেশ জটিল। লাভজনক না হওয়ায় এখানে আগ্রহীর সংখ্যা খুবই কম। এখানে আনুষ্ঠানিক নিলাম হলে তেমন প্রতিযোগিতা হবে না। তারপরও বাফুফে এই বিষয়টা আরো একটু সংগঠিতভাবে করতে পারে।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্বত্ত্ব কিনেছিল কে স্পোর্টস। সেই টুর্নামেন্ট দেশের বেসরকারি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য কে স্পোর্টসকে উল্টো অর্থ দিতে হয়েছিল, আমাদের এখানে ফুটবলের বাজার সেভাবে গড়ে উঠেনি। টুর্নামেন্টকে আকষর্ণীয় করতে উল্টো আমাদের অর্থ দিতে হয়েছিল।’ বলেন ফাহাদ করিম। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রথম আসর থেকে কে স্পোর্টসের আয় হলেও দ্বিতীয় আসরে লোকসান হয়েছিল।

বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলে সাফল্য না থাকায় এখানে টিভি রাইটস কিনে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা তেমন থাকে না। নারী ফুটবলে সাফল্য অনেক। সেই নারী ফুটবল থেকে কিছুটা আয়ের আশা বাফুফের, সাফ অ-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে টি-স্পোর্টস আমাদের অর্থ দেবে এই আশ্বাস দিয়েছে। এখনো পায়নি, খুব শীঘ্রই পাব আশা করছি।’

সাফের টুর্নামেন্টের মূল স্বত্ত্ব ছিল সাফের। টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেই টুর্নামেন্টের টিভি সম্প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছিল। তারা পরবর্তীতে টি-স্পোর্টসের কাছে বিক্রি করেছিল। সাফ, এএফসির আসরগুলোর স্বত্ত্ব সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে দ্বিপাক্ষিক বা আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে ফুটবলপ্রেমীদের আশঙ্কা থাকে বাংলাদেশের খেলা দেখতে পাবো তো। বিদেশে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো বাংলাদেশে দেখানোর ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সম্প্রতি মালদ্বীপে ম্যাচ দেখানোর জন্য তারা কয়েক হাজার ডলার চেয়েছিল। একটি ম্যাচের জন্য এত খরচ আসলে ব্যয়বহুল। এএফসি’র টুর্নামেন্টে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের ম্যাচগুলো সমঝোতার ভিত্তিতেও সম্প্রচার হয়।’  মঙ্গোলিয়া এখন বাংলাদেশে রয়েছে। তারা বাংলাদেশের ম্যাচটি তাদের দেশে সম্প্রচারের জন্য খুব বেশি আগ্রহী নয়।

নিউজ ট্যাগ: বাফুফে

আরও খবর