Logo
শিরোনাম

যশোরের বিজয় ৭১

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২৪৫০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে চলছেন মুক্তিযোদ্ধা। শক্ত মুষ্টিতে পতাকার ঝাণ্ডা গভীর মমতায় বুকের সঙ্গে আলিঙ্গন। ডান কাঁধে তাঁর ঝোলানো রাইফেল। তাঁরই বাঁ পাশে রাইফেল হাতে আরেক মুক্তিযোদ্ধা। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা গর্বিত সেই যোদ্ধার চোখ আকাশপানে। পাশেই রাইফেল ও হেলমেট উঁচিয়ে উল্লসিত আরো দুই মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের একজনের খালি পা, পরনে লুঙ্গি। ত্রিভুজ আকৃতির বেদির ওপর ভাস্কর্যের আরেক দিকে দুহাতে শান্তির পায়রা উড়িয়ে যুদ্ধ শেষে আগামী দিনের শান্তির বার্তা আকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এক নারী। এই উল্লাসে তাঁদের সঙ্গে শরিক গুলতি হাতে এক দুরন্ত কিশোরও। মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বিজয়-৭১ এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে শহরের পালবাড়ী মোড়ে।

যশোরের এস এম সুলতান আর্ট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার বদরুল আলম নান্নুর হাতের পরশে ভাস্কর্যটি এখনো ছড়াচ্ছে দীপ্তি। যশোর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ১৯৯৮ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নম্বর সেক্টরের প্রথম দিকের কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী বীর-উত্তম। মূল ভাস্কর্যটি ২৭ ফুট উচ্চতার। বেদিসহ উচ্চতা ৩৫ ফুট। ভাস্কর্যটি নির্মাণের উপকরণ ছিল হোয়াইট সিমেন্ট, চুনাপাথর ও রড। ভাস্কর্যটি নির্মাণে এক বছরেরও বেশি সময় লাগে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফের বৃহত্তর যশোর জেলার উপপ্রধান ( ডেপুটি লিডার) রবিউল আলম ছিলেন এই ভাস্কর্য নির্মাণ কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর দেশের প্রথম শক্রমুক্ত হয় যশোর। এটিই যশোরের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য। যশোরের মুক্তিযোদ্ধারা সে সময়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুক্তিযোদ্ধা মালেক মিয়ার কাছে একটি ভাস্কর্য নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য ডিসি মালেক মিয়াকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্য ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, মাস্টার নূর জালাল, পিলু খান, একরাম-উদ-দৌলা প্রমুখ। এই ভাস্কর্য নির্মাণে সেই সময় প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়।

পালবাড়ী মোড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, পালবাড়ীর পাশেই যশোর ক্যান্টনমেন্ট, সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। চৌগাছা ও বেনাপোল থেকে মিত্রবাহিনী এই দুই পথ দিয়ে এসে যশোর ক্যান্টনমেন্ট ও শহরে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে আশপাশের মুক্তিযোদ্ধারাও এই দিক দিয়ে প্রবেশ করেন। আবার এই সড়ক দিয়েই পাকিস্তানি হানাদাররা ক্যান্টমেন্ট ছেড়ে খুলনার দিকে পালিয়ে যায়। পাশাপাশি এটা যশোর শহরে প্রবেশেরও একটা পথ। এসব দিক বিবেচনা করেই ভাস্কর্যটি এখানে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

ভাস্কর্য বিজয়-৭১ নির্মাণ কমিটির আরেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দৌলা বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি এ সম্পর্কিত সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

নিউজ ট্যাগ: যশোরের বিজয় ৭১

আরও খবর



নির্বাচন নিয়ে আবারও অবস্থান পরিষ্কার করল জাতিসংঘ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ | ৮৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আবারও বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে কথা বলেছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ফের উঠে আসে নির্বাচন ইস্যু।

জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যা বলেছেন সেটিও অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূলত টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া চিঠির বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া চিঠির বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, মহাসচিবের এমন চিঠি নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের পূর্বের অবস্থান এবং নির্বাচন নিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যে বিবৃতি দিয়েছেন তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এটি সাংঘর্ষিক না। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেমনটা বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানরা পুনর্নির্বাচিত হলে মহাসচিব পাঠিয়ে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, তারা আগে যা বলেছেন এবং মানবাধিকার হাইকমিশনার আগে যা বলেছেন, তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ডুজারিক বলেছেন, কাউকে কখনও প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়। কোনও শরণার্থীকে জোর করে বা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়।

এছাড়া এদিনের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নকারী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, আপনি জানেন- বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে প্রায় সাত বছর ধরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।

অন্যদিকে, মানবিক তহবিল, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সম্পর্কিত মনোযোগ, সবকিছু সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের পরিকল্পনা কী?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এই মুখপাত্র বলেন, প্রথমত, কাউকে কখনও প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়। কোনও শরণার্থীকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়। এটি এমন পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় হওয়া দরকার যেখানে তাদের মর্যাদা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।

তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার যে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি বর্তমানে প্রত্যাবাসনের জন্য দরকারি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করছে না। যেসব সম্প্রদায় উদারভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আতিথেয়তা দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বব্যাপী সংহতি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যেমন কক্সবাজারের সম্প্রদায়, মহাসচিব এটি পরিদর্শন করেছেন।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, শরণার্থীদের সবার সংহতি প্রয়োজন এবং আশ্রয়দানকারী সম্প্রদায়গুলোরও জাতিসংঘের ও সারা বিশ্বের সংহতি প্রয়োজন। এবং এসব কিছুর জন্যই আমাদের তহবিল আরও বৃদ্ধি করা দরকার।


আরও খবর

দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি

মঙ্গলবার ২৮ নভেম্বর ২০২৩