Logo
শিরোনাম

আজকের ভালো মন্দ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আজ ১০ মে ২০২২ মঙ্গলবার পাশ্চাত্য জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে, ভাগ্য মানুষের ভাগ্য’ ফেরায়, ভাগ্য মানুষের সঙ্গে করে বিড়ম্বনা। দুই-ই সত্যি, যদি আপনি মানেন, জানেন। জেনে নিন আপনার আজকের রাশিফল।

মেষ রাশি:

আপনার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকবে এবং আপনি অন্যদের উপর অনেক প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদ এড়িয়ে চললে পেশাগত ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হতে পারে। আপনার শত্রুরা আপনার ক্ষতি করতে পারবে না। আপনার দেওয়া উপদেশ অন্যদের কাজে লাগবে। আপনি বিনোদনের মাধ্যমগুলিতে আগ্রহী হবেন। আপনার পারিবারিক জীবন খুব শান্তিপূর্ণ এবং সুখী হবে।

বৃষ রাশি:

আজ পরিকল্পনাগুলি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হতে পারে এবং তারা আপনাকে উপকারী ফলাফল দিতে সক্ষম হবে। বেতনভোগী ব্যক্তিরা কর্মক্ষেত্রে তাঁদের কাজ এবং বিবেকের জন্য যথাযথ প্রশংসা এবং সম্মান পেতে পারেন। আপনার কঠোর পরিশ্রম এবং বোঝাপড়া আপনাকে জীবনকে সুখী করতে সাহায্য করবে। কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের প্রশংসা করা হবে। আর্থিক দিক থেকে এটি একটি শুভ দিন।

মিথুন রাশি:

মিথুন রাশির জাতকদের কাছে সাহিত্য, শিল্প, লেখালেখি, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র বা খেলাধুলার মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন এবং লাভজনক চুক্তি পেতে পারেন। একটি নতুন ব্যবসা শুরু করার ধারণাগুলি মনে আসতে পারে বা এটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। আজ ভাগ্য আপনাকে সাহায্য করবে, আপনি খ্যাতি ও খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

কর্কট রাশি:

কর্কট রাশির জাতকদের আজ আপনি অনেক আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। হতে পারেন অসীম সম্পদের মালিক। আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে। ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে এটি একটি ভালো সময়, ফলাফল আপনার অনুকূলে থাকবে। আপনার ব্যক্তিগত জীবনে সবকিছু ঠিক থাকবে। আজ, ব্যবসায়ী শ্রেণী বিশেষভাবে ভাল ফল পাবেন, যার কারণে অর্থ ও লাভের যোগ হবে।

সিংহ রাশি:

সিংহ রাশির জাতকদের আজ কর্মক্ষেত্রে আপনার সমবয়সীদের মধ্যে আপনার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা সম্ভব। পেশাগতভাবে, জিনিসগুলি মসৃণ হবে এবং আপনি ভাল অগ্রগতি করবেন। আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার নতুন উপায়ও খুঁজে পাবেন। এই দিনে, আপনি আপনার গুরুজন এবং ভদ্রলোকদের সম্মান করতে এগিয়ে থাকবেন।

কন্যা রাশি:

আপনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন এবং ব্যবসা এবং অন্যান্য উদ্যোগ থেকে আপনার আয় অনেক বৃদ্ধি পাবে। আপনি যদি চাকরি করেন তাহলে আপনি আয় বৃদ্ধি বা পদোন্নতি পেতে পারেন। আপনি কিছু ধর্মীয় কাজে নিযুক্ত হতে পারেন, যার কারণে আপনার সামাজিক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। আপনি আজ আপনার বন্ধু বা পরিচিতের সঙ্গে দেখা করবেন, যার কারণে আপনার মুখে খুশি প্রতিফলিত হবে।

তুলা রাশি:

তুলা রাশির জাতকদের আজ আপনার ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শুরু হতে পারে। আপনি যদি উচ্চশিক্ষা বা চাকরির জন্য বিদেশে যেতে চান তবে আপনি হতাশ হবেন না। আপনার সাফল্য বাড়বে, পরিচিতি গড়ে উঠবে এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গেও দেখা হবে। আজ আপনি আপনার শত্রুদের আপনার উপর কর্তৃত্ব করতে দেবেন না, তবে আপনি তাদের পরাজিত করতে সফল হবেন।

বৃশ্চিক রাশি:

বৃশ্চিক রাশির জাতকদের ব্যবসায়িক প্রসঙ্গে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে খুব উদ্যমী হবেন। আপনি আপনার লেনদেনে অত্যন্ত সফল হবেন এবং গ্রাহকদের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। আপনি মিষ্টি কথাবার্তা এবং আপনার চতুরতার সাহায্যে কাজে সাফল্য পাবেন। আপনি আপনার যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য আরও ভালো সুযোগ পাবেন।

ধনু রাশি:

ধনু রাশির জাতকদের প্রচেষ্টা ফল দেবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। আপনি একটি নতুন অংশীদারিত্ব বা সমিতিতে প্রবেশ করতে পারেন। আপনার সামাজিক বৃত্ত বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হবেন। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটবে, ভ্রমণ উপভোগ করবেন ইত্যাদি। ব্যবসায় ভালো লাভ হবে। আপনার অভিনব ধারণা এবং কাজের শৈলী প্রশংসা করা হবে।

মকর রাশি:

মকর রাশির জাতকদের একটা অনুকূল সময় নয়। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, আপনি কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হতে পারেন বা আপনাকে ভোঁতা যন্ত্রণা ভোগ করতে হতে পারে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা আপনার অসন্তোষজনক ফলাফলের কারণ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে আজকের দিনটি উপকারী প্রমাণিত হবে।

কুম্ভ রাশি:

কুম্ভ রাশির জাতক জাতিকারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য আজকের দিনটি মিশ্র হতে পারে। ব্যবসায়িক কাজে কিছু অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি জড়িত কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের জন্য সময় উপযুক্ত নয়। আপনার মানসিক অলসতা আজ শেষ হবে এবং আপনি চারদিক থেকে সুসংবাদ পাবেন।

মীন রাশি:

মীন রাশির জাতকদের চাকরিজীবীদের জন্য সময়টি অনুকূল নয়। অজানা শত্রুর মোকাবেলায় সতর্ক থাকুন। যোগাযোগমূলক হন এবং নিজেকে শিথিল করার জন্য কিছু সময় নিন। আপনার কথাবার্তা মিষ্টি হবে, যার কারণে আপনি অন্যকে আপনার দিকে আকৃষ্ট করবেন। আপনার কাজ আপনার পারিবারিক সময়কে বাধাগ্রস্ত করতে দেবেন না।


আরও খবর

বিশ্ব মেডিটেশন দিবস আজ

শনিবার ২১ মে ২০২২




এসএসসি ২০২২ এর রুটিন প্রকাশ, মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৯০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

এসএসসি ২০২২ সালের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক কমিটি। আগামী ১৯ জুন সকাল ১০টায় বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে শুরু হবে মাধ্যমিকের এই পাবলিক পরীক্ষা। চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর এস এম আমিরুল ইসলাম। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে অবশ্যই ১৪ নির্দেশনা মেনে পরীক্ষা দিতে হবে। নির্দেশনা হলো-

১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

২. প্রশ্নপত্রের উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। বহুনির্বাচনী (MCQ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২০ মিনিট এবং সৃজনশীল পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট হতে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিনদিন পূর্বে সংগ্রহ করবে।

৫. সব শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়সমূহ এনসিটিবি এর নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সাথে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।

৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের OMR ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোন অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৯. কোন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা (সৃজনশীল/রচনামূলক (ততীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক) নিজ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে না। পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে।

১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় নন-প্রোগ্রামাবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।

১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না।

১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্ৰ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৭  দিনের মধ্যে পুন:নিরীক্ষার জন্য অনলাইনে SMS এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।


আরও খবর



চিংড়ি, ঘন চিনিসহ ২৬ শ্রেণির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সরকার ২০২১-২৪ সালের তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে। নতুন আমদানি নীতিতে চিংড়ি, ঘন চিনি, কৃত্রিম সরিষার তেল, ক্যাসিনো সামগ্রীসহ ২৬ শ্রেণির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন এই আমদানি নীতি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে আমদানি নীতি আদেশ অনুসরণ করতে হয়।

সরকার ২০২১-২৪ সালের তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮এর মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুন। তবে মাঝে ২০১৮২১ সময়ের আমদানি নীতি আদেশ হয়নি। বিগত আদেশে ১২ শ্রেণির পণ্য আমাদানি নিষিদ্ধ থাকলেও এবার তা দ্বিগুণের চেয়েও বেড়েছে। এবার ২৬ শ্রেণির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যগুলো হলো: বাংলাদেশ সার্ভে ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সীমারেখা দেখানো হয় নাই এমন মানচিত্র, চার্ট ও ভৌগোলিক গ্লোব; হরর কমিকস, অশ্লীল ও নাশকতামূলক সাহিত্য ও অনুরূপ ধরনের পুস্তিকা, সংবাদপত্র, সাময়িকী, পোস্টার, ফটো, ফিল্ম, গ্রামোফোন রেকর্ড, অডিও ও ভিডিও ক্যাসেট, টেপ ইত্যাদি, যার বিষয়সমূহ বাংলাদেশের যে কোনো শ্রেণির নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস অথবা অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে; এই আদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকলে, সেকেন্ডারি বা সাব-স্ট্যান্ডার্ডস কোয়ালিটি বা নিম্নমানের পণ্য অথবা পুরাতন, ব্যবহৃত, পুন:সংস্কৃত (রিকন্ডিশন্ড) পণ্য অথবা কারখানায় বাতিলকৃত বা জবলট ও স্টক লটের পণ্য।

রিকন্ডিশন্ড অফিস ইকুইপমেন্ট, ফটোকপিয়ার, টাইপরাইটার মেশিন, টেলেক্স, ফোন, ফ্যাক্স, পুরাতন কম্পিউটার, পুরাতন কম্পিউটার সামগ্রী, পুরাতন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী; এইরূপ পণ্যাদি ও তার পেটিকা যাতে কোনো ধর্মীয় গুঢ়ার্থ সম্পর্কীয় এমন কোনো শব্দ বা উৎকীর্ণ লিপি আছে যার ব্যবহার বা বিবরণ বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। এমন পণ্যসামগ্রী ও তার পেটিকা যাতে অশ্লীল ছবি, লিখন বা উৎকীর্ণ লিপি অথবা এই জাতীয় দৃশ্যমান নিদর্শন বিদ্যমান আছে; এই আদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে জীবিত শুকর এবং শুকরজাত সকল ধরনের পণ্য।

সকল প্রকার শিল্প স্লাজ ও স্লাজ দ্বারা প্রস্তুতকৃত সার এবং যে কোনো সামগ্রী; এই আদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকলে, সকল প্রকার বর্জ্য পদার্থ; শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬ এর আওতায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১০০ (একশত) ডেসিবল মাত্রার অধিকমাত্রার হর্ণ; Stockholm Convention on Persistent Organic Pollutants (POPs) এর আওতায় নিম্নবর্ণিত রাসায়নিক কীটনাশক এবং শিল্পজাত রাসায়নিক পণ্যএলড্রিন, ক্লোরডেন, ডিডিটি, ডাইএলড্রিন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, মিরেক্স, টক্সাফেন, হেক্সাক্লোরোবেনজিন, পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি)।

ক্যাসিনোসহ জুয়া খেলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম ইত্যাদি; চিংড়ি মাছ (এইচএস হেডিং ০৩.০৬ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); পপি সীড ও পোস্ত দানা (এইচএস হেডিং ১২.০৭ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড) (মসলা হিসাবে অথবা অন্য কোনোভাবেও ব্যবহার্য পোস্ত দানা); ঘাস (এনড্রোপোজেন এসপিপি) ও ভাং (ক্যানাবিস সাটিভা) (এইচএস হেডিং ১২.১১ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); ওয়াইন লিজ, আরগোল (এইচএস হেডিং ২৩.০৭ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), লিকুইফাইড প্রপ্রেন ও বিউটেনস (যা এলপিজির অংশ) ব্যতীত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য গ্যাসীয় হাইড্রোকার্বন (এইচএস হেডিং ২৭.১১ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); পেট্রোলিয়াম কোক এবং পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ব্যতীত পেট্রোলিয়াম তৈলের রেসিডিউ সমূহসহ সকল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ (এইচএস হেডিং ২৭.১৩ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড)।

এছাড়া ঘন চিনি (এইচএস হেডিং ২৯.২৯ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); কৃত্রিম সরিষার তৈল (অ্যালাইল আইসোথায়ো সায়োনেট) (এইচএস হেডিং ২৯.৩০ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); পলিপ্রাপোইলিন ব্যাগ ও পলিইথিলিন ব্যাগ (এইচএস হেডিং ৩৯.২৩ ও ৬৩.০৫ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); থ্রি হুইলার যানবাহনের (টেম্পু, অটোরিক্সা ইত্যাদি) দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনসহ চেসিস (এইচএস হেডিং ৮৪.০৮ এর এইচএস কোড ৮৪০৮.৯০ তে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য); দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিক্সা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); গ্যাস সিরিঞ্জ (এইচএস হেডিং ৯০.১৮ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); এবং পুরাতন বা ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

নীতিতে আরও বলা হয়েছ, নতুন আমদানি নীতি আদেশে শর্ত সাপেক্ষে কিছু পণ্য আমদানির কথা বলা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফার্নেস অয়েল, সাড়ে ৪ সেন্টিমিটারের কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের মাছ ধরার কারেন্ট জাল, পাঁচ বছরের পুরোনো অধিক গাড়ি আমদানি, তিন বছরের বেশি পুরনো ও ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেলসহ এলএনজি ও লিকুইফাইড প্রপেন ও বিউটেনস ছাড়া পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য গ্যাসীয় হাইড্রো-কার্বন এবং পেট্রোলিয়াম কোক ও পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ছাড়া পেট্রোলিয়াম তেলের রেসিডিউ।

আমদানি নীতিমালায় বলা হয়েছে, সিনেমার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছাড়া উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে না। তবে বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র সাফটাভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানির বিপরীতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে সমসংখ্যক চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে। সব ধরনের খেলনা ও বিনোদনমূলক পণ্যের ক্ষেত্রে কোন বয়সের শিশুর জন্য প্রযোজ্য, তা উল্লেখ থাকতে হবে এবং প্লাস্টিকের তৈরি খেলনার ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় মর্মে রপ্তানিকারক দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সনদের প্রয়োজন হবে।


আরও খবর



ব্যাঙ্গালুরুকে হারিয়ে শীর্ষে রাজস্থান

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভারতের পুনেতে মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ২৯ রানে হারিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে রাজস্থান। অন্যদিকে বিপাকে পড়েছে কোহলি-ডু প্লেসিসরা। তাদের প্লেঅফে খেলার স্বপ্ন কঠিন হয়ে গেলো।

এদিন রাজস্থান আগে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। আর সেটা সম্ভব হয় রিয়ান পরাগের ব্যাটে ভর করে। তরুণ এই ব্যাটসম্যান ৩১ বলে ৩টি চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৫৬ রান করেন। ১ চার ও ৩ ছক্কায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন সঞ্জু স্যামসন। রবীচন্দ্রন অশ্বিন ১৭ ও ড্যারিল মিচেল করেন ১৬ রান। বাকিদের কেউ দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেনি। বল হাতে বেঙ্গালুরুর মোহাম্মদ সিরাজ, জস হাজলেউড ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২টি করে উইকেট নেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বেঙ্গালুরু। কোহলি আজ আরও একবার ব্যর্থ হন। ১০ বলে ২ চারে করেন তিনি ৯ রান। ফাফ ডু প্লেসিসও সুবিধা করতে পারেননি। ২৩ রান করে আউট হন তিনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানও এটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন হাসারাঙ্গা ও ১৭ করেন শাহবাজ আহমেদ। তাতে ১৯.৩ ওভারে ১১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় বেঙ্গালুরু।

বল হাতে রাজস্থানের নায়ক কুলদীপ সেন। তিনি ৩.৩ ওভার বল করে ২০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন অশ্বিন। আর ২৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। ম্যাচসেরা হন রিয়ান পরাগ। এই জয়ে ৮ ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। আর ৯ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বেঙ্গালুরু আছে পঞ্চম স্থানে।


আরও খবর



ভেজাল ওষুধ বন্ধ হবে কবে?

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৭৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীসহ দেশে ভেজাল ও নকল ওষুধের সরবরাহ দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসব ভেজাল ও নকল ওষধু খেয়ে অসুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ওষুধ খাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ওষুধ প্রতিরোধের জন্য আপাতত দোকানদারকে ইনভয়েসের মাধ্যমে ওষুধ ক্রয়ের জন্য বলেছি এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাউকে কোনো প্রকার ওধুষ দেওয়া যাবে না।

এসব ভেজাল ওষুধের বিষয়ে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, মানুষ আর কতভাবে প্রতারিত হবে। কোনটা ভেজাল আর কোনটা ভেজাল না সেটা আমরা কীভাবে বুঝব। এসব ভেজাল ওষুধ বন্ধ হবে কবে। রাজধানীর অলি গলিতে ও বড় বড় ওষুধ মার্কেটগুলোতে ভেজাল ও নকল ওষুধে সয়লাব! মানুষের রোগমুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান ওষুধ। সুস্থ জীবনযাপন করতে ওষুধের ব্যবহার কোনো না কোনো সময় করতেই হয়। জীবন রক্ষায় সহায়ক হিসেবে কার্যকরী সেই ওষুধই এখন জীবন ধ্বংসের কারণ! এমনটি কারো কাম্য না হলেও কিছু নৈতিকতা বর্জিত মানুষ মুনাফার লোভে উৎপাদন করছেন ভেজাল ও নকল ওষুধ। যা খেয়ে জীবন রক্ষা বা সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো মানবদেহ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভেজাল ওষুধ খেয়ে অসুস্থ ব্যক্তিরা যা বলছেন: ভেজাল ও নকল ওষুধ সেবনের কারণে এক মাস ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মুন্সিগঞ্জের স্বাধীন। স্বাধীন বলেন, 'একটি ভুল চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য দিনের পর দিন আমাকে ভুগতে হচ্ছে।'

মিরপুরের শাপলা ফার্মেসির সহকারী নজরুলের দেওয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন রিকশাচালক আবুল মিয়া। এ সময় আবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, 'আমাকে নজরুল কী ওষুধ দিল, সেটা খেয়ে আমার পেটে জ্বালা করে, ব্যথা করে, পরে আমি হাসপাতালে ১৫ দিন ধরে ভর্তি আছি। আর আমি কোনো দিন ডাক্তার না দেখিয়ে ওষুধ খাব না। নিয়ম-কানুন মেনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেও মানুষ ভেজাল, মানহীন ওষুধের প্রভাবে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। কেউ চরম কষ্টে জীবন পার করছেন, কেউবা অল্প বয়সেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন।

যা বলছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা: ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সক্ষমতা অনুযায়ী চাহিদার ৯৫ শতাংশ ওষুধের জোগান দিচ্ছে প্রস্তুতকারক দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া আমেরিকা, কানাডা, জাপানসহ বিশ্বের ১৫৬টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি ২০১৮ সালে মেডিসিন প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার পদকে ভূষিত হয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তবে এত সক্ষমতা অর্জন সত্ত্বেও বাজারে কেন ছড়াচ্ছে নকল ওষুধ, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও।

প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বয় করে অভিযান চালাচ্ছে। অধিদপ্তরও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট কম থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান মেলে। পরে প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের ভিত্তিতে এসব কারখানায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর ভেজাল ওষুধ তৈরির কার্যক্রম কিছুটা কমলেও নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ফের তা শুরু হয়।

গোয়েন্দারা বলছে ভেজাল ওষুধ কারবারি চক্রের প্রধান টার্গেট ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, ভেজাল ওষুধ ও নিম্নমানের ওষুধ কারবারি চক্রের প্রধান টার্গেট ঢাকা। এসব ওষুধ খেয়ে অনেক মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন। রাজধানীর মিটফোর্ড ও এর আশপাশের এলাকায় এ চক্রের সদস্যরা কারখানা গড়ে তোলে। পরবর্তীকালে চাহিদা বাড়তে থাকায় কুমিল্লা ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে ওঠে কারখানা। এসব কারখানার তৈরি নকল ওষুধ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রশাসনের অভিযানের সময়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সয়লাব। দেশে ওষুধ শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি ঘটলেও ভেজাল ওষুধে ছেঁয়ে গেছে ফার্মেসিগুলো। ফলে ওষুধের মান নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ওষুধ বিক্রির ব্যবসা, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা; এভাবে ওষুধ সংশ্লিষ্ট কাজে দীর্ঘ বছর যুক্ত থাকার সূত্র ধরে অসাধু ব্যক্তিরা জড়িয়ে পড়ছে ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের কাজে। এ ছাড়া এক শ্রেণির নাম না জানা ওষুধ কোম্পানি বেশি লাভের আশায় নামীদামী কোম্পানির ওষুধ নকল করে বাজারে ছাড়ছে। চাহিদা সম্পন্ন বেশ কিছু ওষুধ নকল করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রগুলো। অনেকে ইউনানী বা আয়ুর্বেদিক ওষুধের লাইসেন্স নিয়ে উৎপাদন করছে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ। মেশাচ্ছে রং ও ঘনচিনি। এসব ওষুধই ছড়িয়ে যাচ্ছে অলিগলি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফার্মেসিগুলোতে। যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে ভোক্তাদের।

অনুমোদিত ওষুধ কোম্পানির মাত্র অর্ধশত প্রতিষ্ঠান সঠিক পদ্ধতিতে ওষুধ তৈরি করে: সূত্রমতে, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ওষুধ কোম্পানির সংখ্যা ২৮০টির মতো। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর মধ্যে মাত্র অর্ধশত প্রতিষ্ঠান পরিবেশ, উপাদানের মান ঠিক রেখে এবং সঠিক পদ্ধতিতে ওষুধ তৈরি করে থাকে। আর বেশিরভাগ কোম্পানি বাধাহীন চিত্তে ভেজাল উপাদান মিশিয়ে নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে যাচ্ছে। এ যেন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। যা চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিভিন্ন সময়ে রাজধানী ও আশপাশের জেলায় গড়ে ওঠা নকল ওষুধ তৈরির কারখানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে ১৪৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। ভেজাল ও নকল ওষুধ এই সুনাম ও আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মফস্বলের ওষুধ ফার্মেসিগুলোকে টার্গেট করে অসাধুচক্র সারাদেশে ভেজাল ও নকল ওষুধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি অসাধু একটি চক্র ধরার পর পুলিশ বলছে, একমি ল্যাবরেটরিজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, জেনিথ ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের ওষুধ নকল করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিত তারা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তরিকুল ইসলাম, সৈয়দ আল মামুন, সাইদুল ইসলাম, মনোয়ার, আবদুল লতিফ, নাজমুল ঢালী ও সাগর আহমেদ মিলন। তাদের কাছ থেকে একমি কোম্পানির মোনাস-৭০০ বক্স, স্কয়ার কোম্পানির সেকলো-৫০ বক্স, জেনিথ কোম্পানির ন্যাপ্রোক্সেন প্লাস-৭৪৮ বক্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ, ওষুধ তৈরির মেশিন, ডায়াস ও ওষুধের খালি বক্স উদ্ধার করা হয়।

এসব অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, ডেমরা, কাজলা, আরামবাগ, লালবাগ ও মিটফোর্ড এলাকা থেকে কয়েকজন নকল ওষুধ প্রস্তুতকারকদের গ্রেফতার করা হয়। এই চক্রটি সারাদেশে নকল ওষুধ ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলকে টার্গেট করে বহুল বিক্রিত ওষুধগুলো নকল করে তারা বাজারজাত করছিল। আমরা আট প্রকার নকল ওষুধ উদ্ধার করেছি। যেসব ওষুধ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, সেগুলোই নকল করে বাজারজাত করছিল চক্রটি। আসল ওষুধের প্রকৃত দামের তুলনায় অনেক কমদামে নকল ওষুধগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। এগুলো মাদকের থেকেও ভয়ংকর। মানুষ সুস্থ হওয়ার জন্য ওষুধ সেবন করে। আর নকল ওষুধ সেবন করে মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদের ধরতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা, সাভার ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় সন্ধান মেলে নকল ওষুধ তৈরির কারখানার। নকল ওষুধ তৈরির যন্ত্র ও ছাঁচ উদ্ধার করে ডিবির লালবাগ বিভাগের কোতয়ালি জোন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির লালবাগ বিভাগের কোতয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, এ চক্রের সদস্যরা আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির ভুয়া লাইসেন্স বানান। এ লাইসেন্স ব্যবহার করে তারা প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে। এর মধ্যে সেকলো, মোনাস, মন্টিয়ার, সেফ-৩, নেপ্রোক্সেন প্লাসের মতো বহুল ব্যবহৃত ওষুধও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা নকল ওষুধ প্রতিরোধের জন্য আপাতত দোকানদারকে ইনভয়েসের মাধ্যমে ওষুধ ক্রয়ের জন্য বলেছি। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কাউকে ওষুধ দেওয়া যাবে না। কোম্পানির অনুমোদিত প্রতিনিধির কাছ থেকেই ওষুধ নিতে হবে। এর বাইরে নকল ও ভেজাল ওষুধ ঠেকানো সম্ভব না। স্যাম্পল ওষুধ কোনো দোকানদার বিক্রি করতে পারবে না। এটা আইনগত নিষিদ্ধ। এটা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  ড্রাগস আইনে নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে ১০ বছর। তবে জরিমানার অঙ্ক নির্দিষ্ট না থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয় না। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু মামলা হওয়ার পর তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ফেলে নকল ওষুধ উৎপাদনকারীরা। তাদের টাকার অভাব নেই। নকল ওষুধে পুরোটাই লাভ।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সম্প্রতি নকল প্যারাসিটামল খেয়ে ৫০০ শিশুসহ অনেক মৃত্যুর খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। এদিকে গত ১২ আগস্ট এবং ২ এপ্রিল রাতে পৃথক দুই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা। এরমধ্যে, ২ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ক্যান্সার ও করোনা মহামারিতে বহুল ব্যবহৃত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সরঞ্জামসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. নাজমুল হক বলেন, নকল ওষুধ সেবন করলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে ও বেশি অসুস্থ হয়ে যায় রোগীরা। এসব ওষুধ খেয়ে প্রতিনিয়তই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কিছু সুবিধাভোগী চিকিৎসক আছে, তারা বাড়তি কমিশনের আশায় প্রেসক্রিপশনে এসব নকল ওষুধের নাম লেখে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ভেজাল ওষুধ বিপণন করা গণহত্যার সমান। এদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি। ওষুধ দেখে চিনতে হবে। কোনটা আসল আর কোনটা নকল ওষুধ।

নকল ওষুধ চেনার উপায়: ওষুধের প্যাকেটের গায়ে যে সিল থাকে সেটি ভালো করে দেখুন কোথাও কোনো গলদ আছে কি না। লেবেল একই আছে কি না। আগে যদি আপনি একই ওষুধ কিনে থাকেন তাহলে পরের বার কেনার সময় আগের প্যাকেটের সঙ্গে প্যাকেজিং, অক্ষরের ফন্ট, বানান, রং এগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে। ওষুধ সেবনের আগে খেয়াল করুন ওষুধের রং, আকার, গঠন ঠিক আছে কি না। ওষুধের কোথাও কোনো ভাঙা অংশ আছে কি না। গুড়া ওষুধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে দেওয়া আছে কি না। এসব ভালো করে দেখুন। ওষুধ যদি ক্রিস্টালের মতো হয় তাহলে যথেষ্ট শক্ত কিংবা অতিরিক্ত নরম কি না দেখুন। আমরা বলতে পারি কিন্তু যারা ওষুধ সেবন করবেন তাদের বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে আমরা সঠিক ওষুধ কিনছি কি না। সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে এসব ভেজাল ও নকল ওষুধ কোম্পানিরা।

জানতে চাইলে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল মালেক  বলেন, যারা সাধারণ মানুষকে এসব নকল ওষুধ দিয়ে ক্ষতি করছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। নকল ওষুধ ও ফার্মেসির দেওয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে আমার কাছে বেশ কিছু মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা করে বেশ কিছু জটিল সমস্যা পাওয়া গেছে। এসব নকল ওষুধের আক্রমণে অনেক মানুষ শারীরিকভাবে পঙ্গু হচ্ছেন। এসব বিষয়ে সরকার ও সাধারণ মানুষকে সর্তক হতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ভেজাল ওষুধ তো আমরা বা আমাদের সাধারণ মানুষ বোঝে না। যারা ভেজাল ওষুধ তৈরি করে অথবা বিক্রি করে তাদের আইনের আওতায় না আনলে, আমরা সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। প্রশাসনকে বলতে চাই, যারা ভেজাল ওষুধ তৈরি করে তাদের গ্রেফতার করে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হোক। তাহলে হয়তো এসব অপরাধ কমে আসবে।

নিউজ ট্যাগ: ভেজাল ওষুধ

আরও খবর

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর খুঁড়িয়ে চলছে

বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২




বন্দরে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ র‌্যাবের জালে ২ মাদক ব্যবসায়ী

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। শনিবার (৭ মে) র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এসময় গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে ৭৬ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. রমজান আলী (৩২) এবং মো. রুবেল (৩৪)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৭ মে) সকালে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

এতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা উভয়ই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ অভিনব কায়দায় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।


আরও খবর