
জনপ্রিয় অভিনেত্রী
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া গর্ভবতী না হওয়া সত্ত্বেও সন্তানের মা হয়েছেন। ২২ জানুয়ারি (শনিবার)
এ খবর সামনে আসতেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘সারোগেসি’ নামক সন্তান জন্মদানের অভিনব পদ্ধতিটি। অভিনেত্রী
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-গায়ক নিক জোনাস দম্পতি সারোগেসির মাধ্যমেই মা-বাবা হয়েছেন।
সারোগেসি পদ্ধতি
কী
সারোগেসি এমন
এক ধরনের পদ্ধতি যেখানে সন্তান জন্মদানের জন্য গর্ভ ভাড়া নেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে একজন
নারী তার নিজের গর্ভে অন্যের সন্তান বড় করে ও জন্ম দেয়। একজনের নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির
সন্তান ধারণের এ পদ্ধতিকেই সারোগেসি বলে। এক্ষেত্রে গর্ভধারণের কাজটি যে নারী করেন
তাকে ‘সারোগেট
মাদার’ বা
‘সারোগেট
মা’ বলা
হয়।
সারোগেসি দুই
ধরনের হয়। ১. পার্শিয়াল সারোগেসি এবং ২. জেস্টেশনাল সারোগেসি।
১. পার্শিয়াল
সারোগেসি: এ পদ্ধতিতে সন্তানধারণে কোনো ভূমিকাই পালন করেন না মা। বাবার শুক্রাণু ও
সারোগেট মায়ের ডিম্বাণু আলাদাভাবে ফার্টিলাইজ করে সারোগেট মায়ের গর্ভধারণ এবং সন্তান
প্রসব করানো হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে বাবার শুক্রাণুর পরিমাণ কম হওয়া বা বন্ধ্যাত্বের
ক্ষেত্রে বাইরের কোনো পুরুষ শুক্রাণু ডোনারের সাহায্য নিয়ে গর্ভধারণ করোনো হয়।
পার্শিয়াল
সারোগেসি পদ্ধতিতে সারোগেট মায়ের ডিম্বাণু এবং গর্ভ– দুটোই ভাড়া নেয়া হয়। ফলে এক্ষেত্রে সন্তানের ওপর মায়ের একটা জৈবিক
অধিকার থেকে যায়। তাই পার্শিয়াল সারোগেসির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় কোনো স্প্যাম ব্যাংক
বা ডিম্বাণু ব্যাংক থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে সারোগেসি পদ্ধতি সম্পন্ন করা হলে
তা বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
২. জেস্টেশনাল
সারোগেসি: এ পদ্ধতিতে মূলত দম্পতির মধ্যে পুরুষের শুক্রাণু ও মহিলার মায়ের ডিম্বাণু
নিয়ে ল্যাবে ভ্রুণ তৈরি করা হয়। এরপর সারোগেট মায়ের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা ভ্রুণটি।
বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জেস্টেশনাল সারোগেসি পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করার
পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে যেহেতু সন্তানের মাতা-পিতা উভয়ের শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের
ফলে সন্তান প্রসব হয় তাই এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও প্রশংসিত। এক্ষেত্রে সারোগেট
মাকে বায়োলজিক্যাল মা বলা যাবে না।
কেন সারোগেসির
প্রয়োজন হয়
অনেক চেষ্টার
পরও যখন সন্তান লাভের আর কোনো পথ থাকে না তখন সারোগেসিই হয় অন্যতম উপায়। তবে এর পেছনে
অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন-
* অনেক চেষ্টা
সত্ত্বেও বারবার মিসক্যারেজ হওয়া।
* এমন কোনো
রোগ যা গর্ভধারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বা গর্ভধারণ করলে শারীরিক জটিলতা সহ যেকোনো দুর্ঘটনা
ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।
* আইভিএফ চিকিৎসায়
গর্ভধারণ না হওয়া।
* অকাল মেনোপজ।
* জরায়ুতে
অস্বাভাবিকতা বা অস্ত্রোপচারের কারণে বাদ যাওয়া।
যদিও আজকাল
অনেক সেলিব্রিটি মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে সারোগেসির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। মোদ্দা কথা, যখন কোনো
নারী গর্ভধারণকালীন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সম্মুখীন হতে অপ্রস্তুত এবং গর্ভধারণকালীন
বিভিন্ন কষ্ট ও যন্ত্রণা নিতে আগ্রহী হন না তখন সারোগেট মায়ের মাধ্যমে এবং সারোগেসি
পদ্ধতি অবলম্বন করে মা হওয়ার চেষ্টা করেন।
সারোগেসি চিকিৎসা
পদ্ধতির ফলে অনেক নিঃসন্তান দম্পতি নিজেদের সন্তান পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারছে।
যদিও অনেক দেশে সারোগেসি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আইন-কানুন রয়েছে, অনেক দেশে আবার এই চিকিৎসা
পদ্ধতি নিষিদ্ধ, অনেক দেশে আবার শুধু জেস্টেশনাল সারোগেসি বিদ্যমান।

